২২ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ শিক্ষক এই গোপন তৎপরতা চালাচেছন হাসিনাকে ফেরাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪২ শিক্ষকের গোপন তৎপরতা, অনুসন্ধানে কমিটি গঠন

স্টাফ রিপোর্টার

শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে গোপন তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন দেশের ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ শিক্ষক। এদের মধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪২ জন শিক্ষক রয়েছেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এ্সব ফ্যাসিস্ট শিক্ষকদের ব্যাপারে অনুসন্ধান করতে একটি ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি তথ্যানুসন্ধান কমিটি গঠন করেছে রাবি প্রশাসন। কমিটির আহ্বায়ক হলেন, রাবি প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. মো: রেজাউল করিম-২। সদস্য সচিব হলেন এগ্রোনমী এন্ড এগ্রিকালচারাল এক্সটেরশন বিভাগের প্রফেসর ড. মো: গিয়াস উদ্দিন আহমেদ। সদস্য হলেন যথাক্রমে ফার্মেসী বিভাগের প্রফেসর ড. মো: গোলাম সাদিক, প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. মো: আমীরুল ইসলাম ও প্রাণি বিদ্যা বিভাগের প্রফেসর ড. মো: আনিছুর রহমান।

জানা গেছে, পুরো বিষয়টি সমন্বয় করা হয় মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামে খোলা সিক্রেট গ্রুপের মাধ্যমে। টেলিগ্রাম গ্রুপটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’। এটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. এম অহিদুজ্জামান। সাধারণ সম্পাদক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবর রহমান।গোপন কার্যক্রম পরিচালনার ওই গ্রুপের ২৮ পৃষ্ঠার স্ক্রিনশটে ৪০৪ জনের নাম শনাক্ত করা গেছে। এর মধ্যে অনেকের সাংকেতিক নাম ব্যবহার করা হয়েছে। এর বাইরে আরও ২১ জনের শুধু মোবাইল নম্বর রয়েছে। গ্রুপের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, টেলিগ্রাম ও এর বাইরে বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে তারা নিয়মিত বিভিন্ন বৈঠকে মিলিত হচ্ছেন।

এমন একটি বৈঠক আহ্বানের স্ক্রিনশটে দেখা যায়, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবর রহমান কমিটির পক্ষ থেকে একটি বার্তা দিয়েছেন। সেখানে তিনি যা লিখেছেন, সেটি হুবহু তুলে ধরা হলো:

‘শ্রদ্ধাভাজন শিক্ষকমণ্ডলী,

আজ বিকেল ৩-৩০ মিনিটে সিস্টেম আপডেটের স্বার্থে এই গ্রুপের সংযুক্ত সকল শিক্ষক মতবিনিময় সভায় মিলিত হব। আপনাদের কিছু সময়ের জন্য সংযুক্ত হওয়ার বিশেষভাবে অনুরোধ করছি। জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু

সভাপতি অধ্যাপক ড. এম অহিদুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবর রহমান।’

গ্রুপে জুলাই অভ্যুত্থানকেন্দ্রিক এবং এর বাইরে বিভিন্ন বিষয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষের নিউজ শেয়ার করা হয়। একটি স্ক্রিনশটে দেখা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. মাহবুব লিটু অধিকারপত্র নামের একটি অনলাইনের নিউজ শেয়ার করেছেন। এটির শিরোনাম ছিল, ‘কলঙ্কের কালো অধ্যায়: ৫ আগস্টের পর যে আগুনে পুড়েছে বাংলার শ্রেণিকক্ষ-২০২৪ আগস্ট পরবর্তী শিক্ষক নিগ্রহকে উপজীব্য করে একটি বিস্তৃত বাংলা সংবাদধর্মী ফিচার।’

গ্রুপে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রয়েছেন ৯২ জন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৮ জন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪২ জন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৪, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৮, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৯, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২ এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১ জন শিক্ষক রয়েছেন। কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ জন, শের-ই-বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯ এবং পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ শিক্ষক রয়েছেন গ্রুপটিতে। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭ জন এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ শিক্ষক রয়েছেন টেলিগ্রামে খোলা গ্রুপটিতে। এ ছাড়া আরও আট পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭ শিক্ষক রয়েছেন। আওয়ামী লীগ সমর্থিত চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের তিন নেতাও রয়েছেন এই গ্রুপে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪২ জন শিক্ষক টেলিগ্রাম গ্রুপটির সদস্য। তারা হলেন-প্রফেসর লাইলা, প্রফেসর দিলীপ, প্রফেসর রানা, প্রফেসর মামুনুর রশীদ, প্রফেসর একরামুল্লাহ, প্রফেসর মুশতাক, প্রফেসর আশরাফুল, প্রফেসর আলী হায়দার, প্রফেসর অনিক, অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর খালিদ বিন ফেরদৌস, প্রফেসর দুলাল, অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর সাগর, প্রফেসর প্রভাব, প্রফেসর সারোয়ার জাহান, শামীম আলমগীর, প্রফেসর ড. মাহবুবর রহমান, প্রফেসর ড. পূর্ব ইসলাম, উদ্বয় কুমার মহন্ত, নাসরিন নদী, দুলাল, মশিউর রহমান, মোয়াজ্জেম হোসেন, প্রফেসর ড. বাবরুল আলম, প্রফেসর ড. শবনম জাহান, এ. জাহিদ, অর্ক, ড. মো. দুলাল হোসেন, কামরুজ্জামান, বসির আহাম্মদ, জেহাদ পারভেজ, আর ইসলাম, নাসিম বানু, প্রফেসর আক্তার, প্রফেসর ড. এ এফ এম আব্দুল মঈন, নিরুপম চৌধুরী, হাবিবুর রহমান পলাশ, মামুন মোর্শেদ, তানভীর হাসান, ড. নজরুল, প্রফেসর ড. মো. মাহবুবুর রহমান, দেবাশীষ আচার্য, তাসনিম।

এ ছাড়াও রয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইলিয়াস হোসেন। ২০১৪ সালের ১৭ জুলাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর গুলি চালানোর ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ছিলেন। বতর্মানে রাজশাহী বিভাগের আওয়ামীপন্থি পেশাজীবীদের সংগঠকের কাজ করছেন।

ভালো লাগলে, প্লিজ শেয়ার করুন

এ ধরনের আরো কিছু পোস্ট