আধুনিক ল্যান্ডফিল অচল, দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ চাঁপাইনবাবগঞ্জবাসী
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
কাগজে-কলমে কোটি টাকার আধুনিক বর্জ্য শোধনাগার। কিন্তু বাস্তবে এটি একটি তালাবদ্ধ প্রকল্প। প্রায় ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত স্যানিটারি ল্যান্ডফিলটি অচল পড়ে আছে। অথচ প্রকল্পটি চালু হলে শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন আসার কথা ছিল। কিন্তু ল্যান্ডফিলটি বন্ধ থাকায় নগরবাসীকে প্রতিদিনই সহ্য করতে হচ্ছে ময়লার দুর্গন্ধ, পরিবেশ দূষণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর শহরের বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি ও খোলা জায়গায় প্রতিদিনই জমে থাকছে ময়লা-আবর্জনা। পর্যাপ্ত ডাস্টবিন না থাকায় বর্জ্য আশপাশে ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে বৃষ্টির সময় এসব ময়লা নর্দমা ও জলাশয়ে মিশে দূষণ আরও বাড়িয়ে তুলছে। এতে জনদুর্ভোগের পাশাপাশি বাড়ছে বিভিন্ন রোগের ঝুঁকিও।
পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগ্রহ করা বর্জ্য ফেলা হচ্ছে নয়াগোলা পুলিশ লাইনস সংলগ্ন স্থানে। অথচ হরিপুর-দারিয়াপুর এলাকায় নির্মিত আধুনিক স্যানিটারি ল্যান্ডফিলটি চার বছর ধরে অচল পড়ে আছে। স্থানীয়দের দাবি, এটি চালু হলে শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরবে, কমবে দুর্গন্ধ ও পরিবেশ দূষণ।
তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জৈব সার তৈরির উপযোগী পর্যাপ্ত বর্জ্য না পাওয়ায় এখনো কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি। তবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ল্যান্ডফিলটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নয়াগোলার বাসিন্দা আসাদুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন ধরে শুনে আসছি সরকারি প্রকল্প হয়েছে। তাই এখানে খোলা জায়গায় আর ময়লা ফেলা হবে না। কিন্তু শুধু শুনেই আসছি এটা। পুরো পৌরসভার যতগুলো ময়লা আর্বজনা হয়, প্রতিদিন তা জমা করে এখানে আবাসিক এলাকায় এনে ফেলা হয়। বারবার পৌর কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও কোনো সুরাহা হয়নি।
একই এলাকার রিকশাচালক আজিজুল হক বলেন, ময়লা ফেলার জায়গার সামনে দিয়ে যাওয়ার আধা কিলোমিটার এলাকায় গন্ধ ছড়িয়ে থাকে। এসময় নাক ঢেকে যেতে হয়। যাত্রীদের খুব সমস্যায় পড়তে হয়। একটু বৃষ্টি হলেই গন্ধ তীব্র আকার ধারণ করে। এখানে বসবাস করায় মুশকিল হয়ে পড়েছে। আমাদের দাবি, বর্জ্যগুলো এমন আবাসিক এলাকায় এমন ময়লা-আর্বজনা না ফেলে শহরের বাইরে ফেলা হোক। এতে পৌরবাসী স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা পাবে।
গৃহবধূ সায়েমা খাতুন বলেন, স্বাভাবিক সময়ে তো দুর্গন্ধ ছড়ায়। কিন্তু একটু বৃষ্টি হলেই তা চরমে পৌঁছায়। এমনকি বাসার পাশে হওয়ার সুবাদে ছেলে-মেয়েরা ঘন ঘন নানা রোগে আক্রান্ত হয়। এতে আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ছেলে-মেয়েদের ভবিষ্যৎ নিয়েও শঙ্কায় পড়েছি। আমরা এ থেকে মুক্তি চাই।
জেলা শহরের দ্বারিয়াপুর এলাকার বাসিন্দা আহমেদ আলী বলেন, স্যানিটারি ল্যান্ডফিলটি অনেক আগে থেকেই প্রস্তুত করে রাখা আছে। কিন্তু এখানে কোনো কার্যক্রম নেই। তাহলে আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্পন্ন এমন ল্যান্ডফিল কেন করা হলো তা বোধগম্য নয়। কী দরকার ছিল কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে এভাবে ফেলে রাখার।
সার তৈরির উপযুক্ত পর্যাপ্ত বর্জ্য না পাওয়ায় এ কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি বলছেন স্যানিটারি ল্যান্ডফিলের তত্ত্বাবধায়ক মতিউর রহমান। তিনি বলেন, যে উদ্দেশ্যে তৈরি হয়েছে সে উদ্দেশ্য এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। যদিও জানুয়ারীতে চালু হওয়ার কথা ছিলো, টেন্ডারও হয়েছে এক কোম্পানির সাথে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তারা আসেনি। দুইবার এসে শুধু দেখে গেছে। দ্রুত কার্যক্রম শুরুর চেষ্টা চলছে বলে জানান চাঁপাইবনাবগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী তৌফিকুল ইসলাম।
২০২০ সালে নগর পরিচালনা ব্যবস্থা ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নির্মিত এই ল্যান্ডফিলে প্রতিদিন প্রায় ৮০ টন বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে জৈব সার উৎপাদনের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু এতোদিনেও প্রকল্পটি চালু না হওয়ায় কোটি টাকার এই অবকাঠামো অচল পড়ে আছে। আর পরিকল্পনার সেই ব্যর্থতার খেসারত দিচ্ছেন এলাকাবাসী- দুর্গন্ধ, পরিবেশ দূষণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্য দিয়ে।
