নওগাঁয় গৃহবধূর নদী সাঁতরে পার হওয়ার চেষ্টা, নিখোঁজের ৪ ঘন্টা পর উদ্ধার
নওগাঁ প্রতিনিধি:
নওগাঁয় মানত শেষে ছোট যমুনা নদী সাঁতরে পার হতে গিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি দিয়েছেন সাহিদা (২৫) নামে এক গৃহবধু। নিখোঁজের ৪ ঘন্টা পর মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেছে ডুবুরি দল। এর আগে সোমবার দুপুর ১ টার দিকে শহরের ছোট যমুনা নদীর ডিগ্রীর মোড় পারঘাটে নদী সাঁতের পার হওয়ার সময় ডুবে নিখোঁজ হয়। নিহত গৃহবধু সাহিদা শহরের সুলতানপুর মহল্লার আব্দুর রশিদের স্ত্রী। তার বাবার বাড়ি নওগাঁ সদর উপজেলার দেবীপুর গ্রামে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত গৃহবধুর ছেলে মাদ্রাসায় পড়াশুনা করে। ছেলেটি বেশ কিছুদিন থেকে অসুস্থ। তিনি হঠাৎ স্বপ্নে দেখেন ছোট যমুনার নদীর তীরে লখাইজানি এলাকায় অবস্থিত মাজারে মানত করলে ছেলে সুস্থ হয়ে যাবে। এজন্য গত শনিবার বাবার বাড়ি যান। সেখান থেকে ছোট বোনকে সাথে নিয়ে নদীর তীরে মাজারে আসেন। সাথে একটি মাটির ঘটিও ছিল। মানত শেষ ঘটি নদীতে ডুবিয়ে দেন। এরপর স্বপ্নে দেখা নির্দেশনা ছোট যমুনা নদীর পূর্ব পাড় থেকে পশ্চিম পাড়ে সাঁতরে পার হওয়ার চেষ্টা করছিলেন।
এসময় পার ঘাটের মাঝি শুকুর আলি তাকে নৌকায় করে পার হতে অনুরোধ করেন। কিন্তু গৃহবধু তার হাতটি সরিয়ে নেন। এক সময় ক্লান্ত হয়ে নদীর মাঝে ডুবে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ করে তার হাতটি পানির ওপরে উঠে আসে। এসময়ও মাঝি তার হাতটি ধরার চেষ্টা করলে পানিতে ডুবে যান গৃহবধু। পরে নওগাঁ ফায়ার সার্ভিসকে সংবাদ দেওয়া হলে তারা উদ্ধারের চেষ্টা করেন। পরে রাজশাহী থেকে ডুবুরি দল এসে প্রায় আধা ঘন্টার মধ্যে ডুবে যাওযা স্থান থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
নিহতের চাচা আব্দুস সালাম বলেন, শনিবার বিকেলে তার বাবার বাড়ি আসে। তার ছোট বোনকে সাথে নিয়ে ছোট যমুনা নদীতে মানত করতে আসে আমরা বিষয়টি জানতাম না। পরে ডুবে যাওয়ার পর বাড়িতে খবর দিলে বিষয়টি জানাজানি হয়। এখন মৃত অবস্থায় ভাতিজির মরদেহ নিয়ে বাড়ি যাওয়া ফিরছি। নওগাঁ ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার আমির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন- গৃহবধুর মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।
