রাজশাহী জেলায় ৩ লক্ষাধিক শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে

স্টাফ রিপোর্টার

রাজশাহী জেলায় আগামী ২৮ জুন জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি ও অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব প্রতিরোধের লক্ষ্যে আয়োজিত এই ক্যাম্পেইনে জেলাজুড়ে ৩ লক্ষ ৩ হাজার ১১৭ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। গতকাল মঙ্গলবার রাজশাহী জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সসম্মেলনে এসব তথ্য জানান রাজশাহী জেলা সিভিল সার্জন ডা.রাজিউর রহমান।

তিনি আরও জানান, ৬ মাস থেকে ১১ মাস বয়সী ৩৩ হাজার ৬৪৮ জন শিশুকে একটি করে নীল রঙের এবং ১২ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী ২ লক্ষ ৬৯ হাজার ৪৬৯ জন শিশুকে একটি করে লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এই কর্মসূচি সফল করতে জেলায় ১০টি স্থায়ী এবং ১ হাজার ৭৭৮টি অস্থায়ী কেন্দ্রসহ মোট ১ হাজার ৭৮৮টি কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে।

পুরো কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য ৩ হাজার ৫৭৬ জন স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করবেন। নির্ধারিত দিনে অভিভাবকদের নিকটস্থ কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে শিশুকে ক্যাপসুল খাওয়ানোর জন্য জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সিভিল সার্জন ডা. এস. আই. এম রাজিউল করিম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান এবং পরিবার পরিকল্পনা দপ্তরের উপপরিচালক মো. আব্দুর রাজ্জাক।

সভায় বক্তারা বলেন, ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত জরুরি। অতীতে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল না খাওয়ানোর ফলে দেশে হামের মতো রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছিল এবং অনেক শিশুর মৃত্যু হয়েছিল। তবে সরকারের সময়োচিত পদক্ষেপ এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনার ফলে বর্তমানে সেই পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে।

তাঁরা বলেন, শহরের তুলনায় দূরবর্তী বা প্রান্তিক অঞ্চলের অনেক মা এখনও ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুলের গুণাগুণ বা এটি না খাওয়ানোর ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন নন। তাই সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগ ও দপ্তরকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে একটি শিশুও এই সেবা থেকে বঞ্চিত না হয়।

বক্তারা আরও বলেন, এই ক্যাম্পেইনটিকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘বিনিয়োগ’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। আজকের সুস্থ শিশুই আগামী দিনের উন্নত বাংলাদেশের কর্ণধার। একটি দুর্বল শিশু কখনোই জাতির সম্পদ হতে পারে না। তাই প্রতিটি পরিবারে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিশুদের সুস্থভাবে বেড়ে ওঠা নিশ্চিত করতে এই ক্যাম্পেইনকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান শেষে একই স্থানে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন উপলক্ষে সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে সিভিল সার্জন ডা. এস. আই. এম রাজিউল করিম সভাপতিত্ব করেন। 

সিভিল সার্জন বলেন, ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এটি সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ানেই। শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, একটি শিশুও যেন এই কার্যক্রম থেকে বাদ না পড়ে, সে বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ সজাগ রয়েছে এবং প্রয়োজনে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বাদ পড়া শিশুদের খুঁজে বের করে টিকার আওতায় আনা হবে বলে তিনি জানান। ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের ‘প্লাস’ চিহ্নের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ক্যাপসুল খাওয়ানোর পাশাপাশি অভিভাবকদের মাঝে ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ সুষম খাবার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করাও এই কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য। এ সময় তিনি কোনো প্রকার কুসংস্কার ও গুজবে কান না দিয়ে এবং আতঙ্কিত না হয়ে শিশুদের নিকটস্থ কেন্দ্রে নিয়ে আসার জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান এবং সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে ব্যাপক প্রচারের জন্য অনুরোধ জানান।

ভালো লাগলে, প্লিজ শেয়ার করুন

এ ধরনের আরো কিছু পোস্ট