বই পড়া ও সৃজনশীল চর্চায় সন্তানদের যুক্ত করুন : বিভাগীয় কমিশনার

স্টাফ রিপোর্টার

রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ বলেছেন, দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মেধাবী, সৃজনশীল ও প্রতিযোগিতামূলক হিসেবে গড়ে তুলতে শিশু-কিশোরদের অপ্রয়োজনীয় স্মার্টফোন ও ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারের প্রবণতা কমাতে হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শিশু-কিশোরদের স্মার্টফোন ব্যবহারে নানা ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে। আমাদের দেশেও অভিভাবকদের প্রয়োজন ছাড়া সন্তানদের হাতে স্মার্টফোন না দিয়ে বই পড়া, খেলাধুলা, সংস্কৃতিচর্চা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নিতে হবে। গতকাল শুক্রবার সকালে রাজশাহী বিভাগীয় সরকারি গণগ্রন্থাগারে অনুষ্ঠিত বিভাগীয় পাঠক সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দেশব্যাপী ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি প্রকল্পের আওতায় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সহযোগিতায় গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

বিভাগীয় কমিশনার বলেন, করোনা মহামারির সময় শিক্ষার প্রয়োজনেই শিশু-কিশোরদের ডিজিটাল ডিভাইসের সঙ্গে যুক্ত হতে হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে অপ্রয়োজনীয় স্মার্টফোন ব্যবহার তাদের মনোযোগ, পাঠাভ্যাস, চিন্তাশক্তি ও প্রতিযোগিতার সক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তাই পরিবার থেকেই এ বিষয়ে সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। তিনি আরও বলেন, সন্ধ্যার পর অপ্রয়োজনীয় আড্ডার পরিবর্তে তাদের পাঠাগার, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও সৃজনশীল চর্চায় সম্পৃক্ত করতে হবে। বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং পাঠাভ্যাসভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজনের মাধ্যমে একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

ড. বজলুর রশীদ উপস্থিত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, অন্তত ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত অপ্রয়োজনীয় স্মার্টফোন ব্যবহার থেকে বিরত থাকার সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। প্রয়োজন হলে অভিভাবকের তত্ত্বাবধানে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে সারাক্ষণ ব্যক্তিগত স্মার্টফোন ব্যবহারের অভ্যাস পরিহার করা উচিত।

জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মু. বিল্লাল হোসেন খান এবং রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির। স্বাগত বক্তব্য দেন গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. সঞ্জীব সূত্রধর। অনুষ্ঠানে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, অভিভাবক, শিক্ষার্থী, গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা শেষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা।

এর আগে রাজশাহী সরকারি গণগ্রন্থাগার চত্বরে বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে বিভাগীয় পাঠক সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়। পরে সেখান থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়ে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় গণগ্রন্থাগার চত্বরে এসে শেষ হয়। এরপর অতিথিরা ভ্রাম্যমাণ বইমেলা পরিদর্শন করেন। অনুষ্ঠানের সমাপ্তিতে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়।

ভালো লাগলে, প্লিজ শেয়ার করুন

এ ধরনের আরো কিছু পোস্ট