দুর্গাপুরে সবজির দাম কম, ক্রেতাদের স্বস্তি
দুর্গাপুর প্রতিনিধি
রাজশাহীর দুর্গাপুরে গ্রীষ্মকালীন বিভিন্ন সবজির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে সাধারণ ক্রেতাদের মাঝে। তবে উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারমূল্য কম থাকায় হতাশ হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। অনেকেই সম্ভাব্য বৃষ্টির ক্ষতি এড়াতে আগাম ক্ষেত থেকে সবজি তুলে বিক্রি করছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভোর থেকেই উপজেলার দুর্গাপুর পাইকারি সবজি বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদচারণায় জমে উঠেছে বেচাকেনা। চাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ে ভোক্তাদের আক্ষেপ থাকলেও কাঁচাবাজারে সবজির দাম কমায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন তারা।
বর্তমানে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি পটল ৮ টাকা, করলা ১০ টাকা, ঢেঁড়স ১৫ টাকা, বরবটি ২০ টাকা এবং বেগুন ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া গত সপ্তাহে ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হওয়া কাঁচামরিচের দামও কমেছে। অন্যদিকে ১০০টি লেবু ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, চলতি মৌসুমে ফলন ভালো হওয়ায় বাজারে সবজির সরবরাহ বেড়েছে। ফলে চাহিদার তুলনায় বেশি সরবরাহ থাকায় দাম কমে গেছে।
উপজেলার সবজি চাষি আক্কাছ আলী বলেন, “সার, বীজ, কীটনাশক ও শ্রমিকের খরচ অনেক বেড়েছে। কিন্তু বাজারে সবজির যে দাম, তাতে উৎপাদন খরচই উঠছে না। অনেক কৃষক এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে চাষ করেছেন। এখন লোকসানের মুখে পড়েছেন।
দুর্গাপুর হাটে সবজি বিক্রি করতে আসা আরেক কৃষক বলেন, “আমাদের উৎপাদিত সবজি রাজধানী ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন জেলায় কয়েক হাত বদল হয়ে দ্বিগুণ দামে বিক্রি হয়। কিন্তু কৃষক হিসেবে আমরা ন্যায্যমূল্য পাই না।”
এদিকে কম দামে সবজি কিনতে পেরে খুশি খুচরা ক্রেতারা। তবে উৎপাদন খরচ না ওঠায় কৃষকদের মুখে হতাশার ছাপ স্পষ্ট। ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার আক্ষেপের পাশাপাশি ব্যবসায়িক মুনাফা কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন অনেক ফড়িয়াও।
বাজার কমিটির তথ্যমতে, দুর্গাপুর বাজারে প্রতি সপ্তাহে গড়ে প্রায় অর্ধকোটি টাকার সবজি কেনাবেচা হয়ে থাকে। কৃষকরা বলছেন, উৎপাদন খরচ বিবেচনায় নিয়ে সরকারিভাবে বাজার তদারকি ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হলে তারা চাষাবাদে আরও উৎসাহিত হবেন।
