ফিরতি যাত্রায় এই যানজট ও জনভোগান্তি কেন?
ঈদুল আজহায় লাখ লাখ মানুষ অনেকটাই নির্বিঘ্নে ঘরে ফিরতে পারলেও ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরতে গিয়ে সীমাহীন যানজট, দুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার সম্মুখীন হচ্ছে। ঈদের ছুটি আগের চেয়ে বাড়িয়ে দেয়ার কারণে বেশ কয়েকদিন সময় নিয়ে ঘরমুখো মানুষ বাস, ট্রেন ও লঞ্চে টিকিট কেটে বাড়ি যাওয়ায় তেমন কোনো হুড়োহুড়ি দেখা যায়নি। তবে দীর্ঘ ছুটি শেষে একই সময়ে লাখ লাখ মানুষের শহরের কর্মস্থলে ফেরার প্রতিযোগিতায় অসহনীয় যানজট ও ভোগান্তির কবলে পড়তে হচ্ছে। গতকাল ইনকিলাবে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে, ঈদের ফিরতি যাত্রায় দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে ৫-১০ কিলোমিটার লম্বা যানজট হচ্ছে। বিশেষত: উত্তরাঞ্চল থেকে ঢাকাগামী সড়ক পরিবহনে যমুনা সেতুর দুইপ্রান্তে, টাঙ্গাইলে শুক্রবার প্রায় ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের কবলে ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে চরম দুভোর্গের শিকার হয় হাজার হাজার মানুষ। বিগত অর্ন্তবর্তী সরকারের আমলে ঈদযাত্রায় যে স্বস্তির বাতাবরণ দেখা গিয়েছিল, এবার ঈদের ফিরতি যাত্রায় তা পুরোপুরি নস্যাৎ হয়ে গেছে। অথচ নির্বাচিত, স্থিতিশীল সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর যানজটসহ দেশের সড়ক ও গণপরিবহণ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের প্রত্যাশা করা হয়েছিল। সড়কে যানজট ও জনদুর্ভোগের কারণ হিসেবে গণপরিবহনে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার যে সব অভিযোগ আছে, তা দূর করে গণপরিবহনে স্বস্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনা ছিল সরকারের একটি নির্বাচনী অঙ্গীকার। নির্বাচিত সরকারের সময়ে গণপরিবহন ও সড়কে যানজট ও জনদুর্ভোগের পুরনো চিত্র ফিরে আসার এই বাস্তবতা দু:খজনক ও অপ্রত্যাশিত। আমাদের সড়ক-মহাসড়কে যানজটের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, অপ্রতুল অবকাঠামো, অপ্রশ্বস্ত সড়ক, সড়কের বেহালদশা, ফিটনেসবিহীন যানবাহন এবং অদক্ষ-অযোগ্য গাড়ীচালক। ঈদের ফিরতি যাত্রায় যমুনা সেতুর দুই প্রান্তে দীর্ঘ যানজটের যে চিত্র বেরিয়ে এসেছে তার প্রধান কারণ মহাসড়কে বিভিন্ন ধরনের গাড়ী বিকল হয়ে পড়া। সড়ক অবকাঠামোর অন্য সব ঘাটতির কথা বাদ দিলেও শুধুমাত্র ফিটনেসবিহিন গাড়ী চলাচলের কারণে রাস্তায় দুর্ঘটনায় সড়কে এমন প্রাণহানি ও জনভোগান্তি হতে পারে। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ২০-কিলোমিটার লম্বা যানজটের জন্য সড়কে একই সময়ে বেশ কিছ গাড়ি বিকল হওয়া ও দুর্ঘটনার কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা। সড়কে যানজটের এসব কারণ কোনো নতুন বিষয় নয়। এসব অনুসঙ্গ সকলেরই জানা। শুধুমাত্র ফিটনেসবিহীন গাড়ী, অদক্ষ ও ভুয়া লাইসেন্সধারি চালকদের নিবৃত্ত করা গেলেই যানজট ও দুর্ঘটনা অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব হতো। গত বছর ঈদের সময়ে আমরা ‘স্বস্তির ঈদযাত্রা’ শিরোনামে সংবাদ দেখেছি। অর্ন্তবর্তী সরকারের সামগ্রিক দুর্বলতা সত্বেও ঈদযাত্রায় স্বস্তি দিতে পারলে ব্যাপক জনসমর্থনপুষ্ট রাজনৈতিক সরকারের সংশ্লিষ্টরা কেন তা ধরে রাখতে পারলো না, এর মূল্যায়ণ করে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। মানুষের নির্বিঘ্ন যাতায়াত ও জননিরাপত্তার মত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সরকার অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়েও কেন সড়ক-মহাসড়কে যানজট-দুর্ভোগের পুরনো চিত্র ফিরে এসেছে তা নিয়ে জরুরি উদ্যোগ নিতে হবে। পরিবর্তনের প্রত্যাশা পূরণে সরকার ব্যর্থ হলে জনমতের উপর তা বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। বছরের শেষদিকে অনুষ্ঠিতব্য স্থানীয় নির্বাচনের ফলাফলে তার প্রভাব পড়তে পারে। জনমত, জনসমর্থন ও সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিসহ রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা থেকেও সড়ক-মহাসড়কের সামগ্রিক অবকাঠামো উন্নয়নসহ গণপরিবহনের নিরাপত্তাহীনতা ও অব্যবস্থাপনা দূর করতে সরকারকে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
