দুর্গাপুরে পাকা ধানে ‘কারেন্ট’ পোকার আক্রমণে দুশ্চিন্তায় কৃষক
দুর্গাপুর প্রতিনিধি
রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলায় বোরো ধান পাকার শেষ সময়ে কিছু এলাকায় বাদামি গাছফড়িং বা স্থানীয় ভাষায় পরিচিত ‘কারেন্ট’ পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। এতে খেতের ধানগাছ শুকিয়ে যেতে শুরু করায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। অনেকেই সম্ভাব্য ক্ষতি এড়াতে আধাপাকা ধান কাটতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাঠপর্যায়ে কৃষকদের পরামর্শ ও সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে কৃষি বিভাগ।
গতকাল বুধবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মাঠজুড়ে পাকা ধানের শিষ বাতাসে দুলছে। শিষের ভারে নুয়ে পড়েছে ধানগাছ। তবে কয়েকটি খেতে বাদামি গাছফড়িংয়ের আক্রমণে ধানের গাছ শুকিয়ে যাওয়ার চিত্রও দেখা গেছে।
উপজেলার কাশিপুর গ্রামের কৃষক মুনছের আলী জানান, এক বিঘা জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছেন তিনি। ধান পুরোপুরি পাকতে আরও কয়েকদিন সময় লাগলেও খেতে কারেন্ট পোকার আক্রমণ দেখা দেওয়ায় বাধ্য হয়ে ধান কাটা শুরু করেছেন।
গোপালপুর গ্রামের কৃষক রফিক সরকার বলেন, “দুই বিঘা জমির ধানে কারেন্ট পোকার আক্রমণ হয়েছে। এক বিঘা জমিতে কীটনাশক প্রয়োগ করতে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা খরচ হয়। কৃষি উপকরণের দাম এমনিতেই বেশি। এখন পোকার আক্রমণে ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।”
নান্দি গ্রামের কৃষক হানিফ উদ্দিন বলেন, “দেড় বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করেছি। এর মধ্যে আধা বিঘা জমিতে কারেন্ট পোকা ধরেছে। স্থানীয় বাজারের পরামর্শে কীটনাশক প্রয়োগ করেছি। এখন ফলন কী হবে, তা নিয়ে শঙ্কায় আছি। পোকার আক্রমণের কারণে এক বিঘা জমিতে ১০-১২ মণ ধান কম পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে দুর্গাপুর উপজেলায় প্রায় ৪ হাজার ৩৭৫ হেক্টর জমিতে ধান চাষ করা হয়েছে। কিছু এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে বাদামি গাছফড়িংয়ের আক্রমণ দেখা দিলেও তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
দুর্গাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাহানা পারভীন লাবনী বলেন, “কৃষকরা যাকে কারেন্ট পোকা বলছেন, সেটি মূলত বাদামি গাছফড়িং। আলো-বাতাস কম প্রবেশ করে এবং ঘনভাবে রোপণ করা জমিতে এ পোকার আক্রমণ বেশি দেখা যায়। প্রাথমিক পর্যায়ে অনুমোদিত কীটনাশক প্রয়োগের মাধ্যমে এটি দমন করা সম্ভব। আমরা কৃষকদের মধ্যে এ বিষয়ে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছি এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছি।”
তিনি আরও বলেন, “উপজেলায় বিচ্ছিন্নভাবে কিছু জমিতে এ পোকার আক্রমণ দেখা গেছে। তবে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক নয়। যেসব খেতে ধান পেকে গেছে, সেসব ধান দ্রুত কেটে ঘরে তোলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”
