বিরল নজির সৃষ্টির জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ
ঈদুল আজহায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় বর্জ্য ও ময়লা-আবর্জনার স্তূপ জমে থাকার দৃশ্য সহজেই চোখে পড়ে। কোরবানির পশুর রক্ত, গোবর ও অন্যান্য বর্জ্য পচে-গলে পরিবেশকে রীতিমতো অসহনীয় করে তোলে। কোরবানির পশুর অস্থায়ী হাটগুলোও বর্জ্যরে ভাগাড়ে পরিণত হতে দেখা যায়। দুই সিটি করপোরেশনের তরফে প্রতিবছরই ঈদুল আজহার সময় কোরবানির পশুর বর্জ্য ও ময়লা-আবর্জনা সময় বেঁধে দিয়ে অপসারণের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়। কিন্তু প্রায় কোনো বছরই প্রতিশ্রুতি যথাযথভাবে রক্ষিত হয় না। ১২ ঘণ্টা-২৪ ঘণ্টায় তো নয়ই, ৭২ ঘণ্টায়ও কোনো কোনো এলাকায় বর্জ্য পড়ে থাকতে দেখা যায়। এবারও দুই সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ১২ ঘণ্টার মধ্যে বর্জ্য অপসারণ করা হবে। বাস্তবে কী তা হয়েছে? কোনো কোনো এলাকায় হলেও সর্বত্র যে হয়নি, নগরবাসীর তা অজানা নয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আকস্মিকভাবে গত শুক্রবার দুই সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন এলাকা নিজে গাড়ি চালিয়ে পরিদর্শন করেন। বর্জ্য অপসারণ বা বর্জ্যব্যবস্থাপনা সচোক্ষে দেখার জন্য এভাবে কোনো প্রধানমন্ত্রীর পরিদর্শন এই প্রথম। এটা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নজিরবিহীন কাজগুলোর একটি হিসাবে পরিগণিত হবে। প্রেসিডেন্ট এরশাদ এধরনের আকস্মিক পরিদর্শনে যেতেন অনেক সময়। পর্যবেক্ষকদের মতে, তার ওই সব পরিদর্শন কতটা আন্তরিক, আর কতটা লোকদেখানো, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, তারেক রহমান সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। তিনি যা করেন, তা আন্তরিকতার সঙ্গেই করেন। এখানে লোকদেখানোর কোনো উদ্দেশ্য নেই। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে তিনি এযাবৎ যা কিছুই করছেন, সর্বক্ষেত্রে কর্তব্যবোধ ও আন্তরিকতাই তাকে পরিচালিত করেছে। অফিস করার ক্ষেত্রে তার সময়ানুবর্তিতা অনেকেরই দৃষ্টি কেড়েছে। অফিস সময়ের ৫-১০ মিনিট আগে ছাড়া পরে তিনি কখনো আসেননি। সচিবালয়ের সচিবসহ শীর্ষকর্মকর্তাদের অনেকেই নির্দিষ্ট সময়ে অফিসে আসেন না। ইচ্ছামত আসেন, ইচ্ছামত চলে যান। প্রধানমন্ত্রীর সময়ানুবর্তিতার এই দৃষ্টান্ত তাদের বিপাকে ফেলেছে বটে, তবে সময়ানুবর্তী হতেও বাধ্য করেছে। মন্ত্রীরা সচিবালয়ে অফিস করার চেয়ে সভা-সেমিনারে যাওয়াকে অগ্রাধিকার দিতেন। তারা সচিবালয়কে ক্লাব মনে করতেন, যেখানে ইচ্ছামত আসা বা যাওয়া যায়। প্রধানমন্ত্রীর ঠিক সময়ে অফিসে আসা, ছুটির দিনেও অফিস করা ইত্যাদি মন্ত্রীদের সতর্ক ও কর্তব্যবোধে উৎসাহিত করছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। আমাদের দেশে অনিয়ম-দুর্নীতির সীমা নেই। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের হাড়ে-মজ্জায় অনিয়ম-দুর্নীতি অনুপ্রবেশ ও স্থায়ী আসন লাভ করেছে। বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে তুলনামূলকভাবে অনিয়ম-দুর্নীতি ও অর্থ লুটপাট বেশি হয়ে থাকে। এর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কারণ, অনিয়ম-দুর্নীতি ও লুণ্ঠন বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার অভাব, তদারকি ও নজরদারির ঘাটতি এবং অপরাধের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অনুপস্থিতি। পর্যবেক্ষকদের অনেকে মনে করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যদি এদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দেন, তবে বিদ্যমান অবস্থার ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটতে পারে। তিনি যদি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যাপারে তার নিজের নজরদারি বৃদ্ধি করেন, প্রয়োজনে আকস্মিক পরিদর্শনে যান এবং তাৎক্ষণিক নির্দেশনা দেন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন, তবে অনিয়ম-দুর্নীতি নিরোধ, চুরি ও লুটপাট বন্ধে তা খুবই কাজে আসবে। প্রকল্প বাস্তবায়ন নির্দিষ্ট সময়ে শেষ হবে এবং তার সুফল মানুষ লাভ করতে পারবে। আমরা সঙ্গতকারণেই আশা করবো, প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে আমলে নেবেন এবং উপযুক্ত কার্যব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
