সম্পাদকীয়

ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে

আমাদের দেশে কন্যাশিশুরা কতটা অনিরাপদ, অরক্ষিত—শিশু রামিসা ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড তা আবারও আমাদের সামনে নিয়ে এলো। কোথাও কন্যাশিশুরা আজ নিরাপদ নয়।  শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে নিজের বাসাবাড়ি পর্যন্ত তাদের জন্য সাক্ষাৎ নরক হয়ে উঠেছে। অপরাধীরা কতটা লাগামহীন হয়েছে, তা ভাষায় বর্ণনা করার মতো নয়। সবচেয়ে উদ্বেগের ব্যাপার হলো, একটি-দুটি নয়, প্রায়ই ঘটছে এমন লোমহর্ষক-পাশবিক ঘটনা। রামিসার ঘটনা সারা দেশবাসীকে বিক্ষুব্ধ করে তুলেছে। সামাজিক মাধ্যম ও রাজপথে মানুষ প্রতিবাদ করছে। এর মধ্যেই চট্টগ্রামে চার বছরের আরেক শিশু ধর্ষণের খবর পাওয়া গেছে। এই বিকারগ্রস্ততার কি কোনো প্রতিকার নেই? রামিসার শোকাহত বাবা সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আমি বিচার চাই না। কারণ আপনারা বিচার করতে পারবেন না। এটি শুধু রামিসার বাবার ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া নয়, বরং সমাজের সামষ্টিক প্রতিক্রিয়াও এমনই। প্রায় প্রতিদিনই ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে, সেই তুলনায় বিচার কোথায়? আট দেশের তথ্য বিশ্লেষণ করে গতকাল কালের কণ্ঠের খবরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের অবস্থা তুলনামূলক খারাপ। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের এপ্রিল—এই ২০ মাসে ৬৪৩ শিশু ধর্ষণ ও নির্যাতনে মারা গেছে। প্রতি মাসের হিসাবে এই সংখ্যা দাঁড়ায় ৩২। চলতি বছরের প্রথম চার মাসেই ২০৩ শিশু নির্যাতনে মারা গেছে।আরেকটি বিষয় লক্ষণীয়, যেসব ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে আলোচিত হয়, মানুষ প্রতিবাদ করে—সেসব ঘটনার ব্যাপারেই সরকারের তরফ থেকে তৎপরতা দেখা যায়। বিচারের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়। এর বাইরে কতশত অপরাধ আড়ালেই থেকে যাচ্ছে, তার হিসাব নেই। এ ছাড়া আইনের ফাঁকফোকর রয়েছে, রয়েছে বিচারের দীর্ঘসূত্রতা। এসবের মধ্য দিয়ে বহু অপরাধী পার পেয়ে যায়। সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় সাজার হার মাত্র ৩ শতাংশ, অপরদিকে ৭০ শতাংশ আসামি খালাস পেয়ে যায়। ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তির বিধান থাকলে বাস্তবে তা তিন থেকে সাত বছর পর্যন্ত লাগছে। তাহলে শিশু ও নারীর প্রতি সহিংসতা কমবে কী করে?এদিকে গত বুধবার রামিসার মা-বাবার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি শোকে স্তব্ধ পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিয়েছেন। একই সঙ্গে দোষীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘সম্ভাব্য সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে এই মামলার সুষ্ঠু তদন্ত সম্পন্ন করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে।’ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন সাত দিনের মধ্যে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। আমরা এসব নির্দেশনার যথাযথ প্রয়োগ দেখতে চাই।এই পৈশাচিক ঘটনার মূল আসামি সোহেল রানা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তির স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কাজেই এই মামলা দ্রুততম সময়ে নিষ্পত্তি হোক, এটিই কাম্য।শুধু রামিসা নয়। এ রকম আর কোনো শিশুকে যেন বর্বরতার শিকার হতে না হয়, সে জন্য আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হবে। একমাত্র ন্যায়বিচারই পারে অপরাধের লাগাম টেনে ধরতে। কন্যাশিশুর জন্য বাসযোগ্য দেশ গড়ে তুলতে হবে।

ভালো লাগলে, প্লিজ শেয়ার করুন

এ ধরনের আরো কিছু পোস্ট