রাজশাহীতে জ্বালানি তেল বিক্রিতে মানা হচ্ছে না সরকারি নিয়ম
কথায় বলে হুজুকে বাঙ্গালী। গত দুদিন ধরে যানবাহনের জ¦ালানী সংকটের প্রচারণায় সেটি প্রমান হচ্ছে। প্রতিটি ফিলিং স্টেশনেই তেলের মজুদ রয়েছে স্বাভাবিক দিনের মতই। কিন্তু সামনে সংকট হবে এমন আশঙ্কায় অতিরিক্ত তেল নেয়ার কারণে সত্যি সত্যি সংকট সৃষ্টি হচ্ছে। অতিরিক্ত তেল নিতে ফিলিং স্টেশনে যেমন ভোগান্তি হচ্ছে, তেমনি রয়েছে লম্বা লাইন। গতকাল শনিবার ফিলিং স্টেশনে রীতিমত পুলিশ মোতায়েন করতে হয়েছে। তারপরও ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ যানবাহন মালিকদের চাপের কারণে তেল দিতে বেসামাল হয়ে উঠছে। অতিরিক্ত তেল নেয়ার কারণে অনেক এলাকার ফিলিং স্টেশনও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে ফিলিং স্টেশনের মালিকরা বলছেন তেলের কোনো সংকট নেই, তারপরও এক শ্রেণির যানবাহন চালকরা শঙ্কায় অতিরিক্ত তেল কিনছেন, এসে সাময়িকভাবে সংকট সৃষ্টি হচ্ছে।
গত শুক্রবারের মতই শনিবার দিনভর রাজশাহীর মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। তেলের মেশিনের ওপর সাদা কাগজে লাল কালি দিয়ে লেখা ছিল- জ্বালানি সংকটের কারণে সর্বোচ্চ মোটরসাইকেলকে ১০০ টাকার তেল, মাহিন্দ্রা বা ভুটভুটিকে ২০০ টাকা, প্রাইভেট কারকে ১০০০ টাকা এবং পিকআপকে ৩০০ টাকার তেল দেওয়া হবে।
পবা উপজেলার বিমানবন্দরের সামনে অবস্থিত মেসার্স হাবিব ফিলিং স্টেশনে উপস্থিত অনেকেই অভিযোগ করেন, পাম্পে তেল মজুত থাকা সত্ত্বেও তখন কোনো যানবাহনকে তেল দেওয়া হচ্ছিল না। এ নিয়ে একপর্যায়ে পাম্প এলাকায় হট্টগোল শুরু হয়। ক্ষুব্ধ চালকেরা চিৎকার করে বলেন, “যদি তেল দেওয়াই না হয়, তাহলে দড়ি বেঁধে পাম্প বন্ধ করে রাখলেই পারত। অযথা আমাদের হয়রানি করার দরকার কী? এ সময় কেউ একজন এয়ারপোর্ট থানায় ফোন করলে দ্রুত পুলিশের একটি টহল গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছে। পরে পুলিশ পাম্পের ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বললে তেলের মেশিন চালু করা হয় এবং উপস্থিত যানবাহনগুলোকে তেল দেওয়া শুরু হয়। পুলিশের উপস্থিতিতেই পরে সেখানে তেল বিক্রি করা হয়।
এদিকে রাজশাহী বিভাগজুড়ে পেট্রোল ও অকটেনের সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেওয়ায় বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে বাইকারদের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। যানবাহন চালকদের অভিযোগ, চাহিদামতো তেল পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও কোথাও তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় কয়েকটি ফিলিং স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধও রাখা হয়েছে। যেসব স্টেশনে তেল রয়েছে, সেগুলোতে সীমিত পরিমাণে তেল বিক্রি করা হচ্ছে। মেসার্স আফরীন ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার সোলাইমান কবির বলেন, ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মানুষের মধ্যে তেল পাওয়া নিয়ে এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। ফলে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় চাহিদা দুই থেকে তিন গুণ বেড়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, ডিপোতেও এখন আগের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি গাড়িতে তেল লোড হচ্ছে। দেশে তেলের কোনো ঘাটতি নেই, কিন্তু হঠাৎ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সরবরাহে সাময়িক সমস্যা দেখা দিয়েছে। চট্টগ্রাম থেকে রাজশাহীতে তেল পৌঁছাতে যে সময় লাগে, সেই কারণেও ঘাটতি দ্রুত পূরণ করা যাচ্ছে না। সোলাইমান কবির জানান, তাদের পাম্পে স্বাভাবিকভাবে প্রতিদিন চার থেকে পাঁচ হাজার লিটার পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি হয়। কিন্তু বর্তমানে সেই বিক্রি বেড়ে ১১ থেকে ১২ হাজার লিটারে পৌঁছেছে। এ কারণে সাময়িক সংকট তৈরি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, শুক্রবার ও শনিবার ডিপো বন্ধ থাকায় তেল শেষ হয়ে গেছে। তবে আগামীকাল তেল সরবরা
