নগরীতে গাছে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় দুইজন আটক
স্টাফ রিপোর্টার
নগরীর মতিহার থানা এলাকায় চুরির অপবাদ দিয়ে যুবককে গাছের সাথে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় দুইজনকে আটক করা হয়েছে। গতকাল সোমবার নির্যাতনের ঘটনায় মামলা দায়ের পর মতিহার থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। নগরীর মতিহার থানার ওসি গোলাম কবির মন্তব্য করেন, ‘যদি তুষার কোনো অপরাধ করে থাকে, তাহলে তাকে আইনের হাতে সোপর্দ করা যেত। কিন্তু গাছে বেঁধে নির্যাতন করে ভিডিও ধারণ করে ছড়িয়ে দেওয়া অত্যন্ত অমানবিক কাজ।’ তিনি জানান, এ ঘটনায় করা মামলায় ইতোমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এদিকে, ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে তৈরি হয়েছে ক্ষোভ ও উদ্বেগ। সচেতন মহলের প্রশ্ন— কোনো ব্যক্তি অপরাধী কি না, সেটি নির্ধারণ করার দায়িত্ব আদালতের কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দেশে ছোট-বড় নানা ঘটনায় জনতার হাতে আইন তুলে নেওয়ার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। তুষারকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনাটিও সেই ভয়ংকর বাস্তবতার আরেকটি উদাহরণ।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তুষার বলেন, ‘আমার কোনো দোষ ছিল না। হৃদয়ের শ্যালক রাব্বি শনিবার আমাকে ফোন করে জানালার দুটি গ্রিল বিক্রি করতে বলে। পরে আমি তার সঙ্গে গিয়ে কাজলা বাজারের একটি ভাঙারির দোকানে ৩২০ টাকায় গ্রিল দুটি বিক্রি করি। এরপর তারা আমাকে বাড়িতে ধরে নিয়ে মারধর করে গুরুতর আহত করে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আটকে রেখে নির্যাতন চালায়।’
তুষারের বাবা নাজির হোসেনের ভাষ্য, ‘আমার ছেলে অন্যায় করলে পুলিশের হাতে তুলে দিতে পারত। কিন্তু তা না করে হৃদয়, তার চাচাতো ভাই মুহিন, বন্ধু আশিক ও মাহিন যেভাবে গাছে বেঁধে পিটিয়েছে এবং ভিডিও করে ফেসবুকে ছড়িয়েছে, তা মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে।’ এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তুষারের বাবা। রামেক হাসপাতালের ইনচার্জ শংকর কুমার বিশ্বাস জানিয়েছেন, ‘তুষার নামে কোনো রোগী ভর্তি হয়েছিল কি না বা চিকিৎসা নিয়েছে কি না, সে তথ্য আমাদের কাছে নেই।’
