এবার নড়াইলে ইমাম গ্রেপ্তার গোপনে অঘটনের শিকার হয় মেয়েটি; চাঞ্চল্যকর তথ্য দেয় বান্ধবীরাও!
নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ১১ বছর বয়সী মাদ্রাসাছাত্রীর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনা নিয়ে দেশব্যাপী আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই এবার নড়াইলে শিশুর সঙ্গে পাশবিকতার অভিযোগে আমিনুল ইসলাম (৫৭) নামে এক ইমামকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা।
গ্রেপ্তারকৃত ইমাম আমিনুল ইসলাম ওরফে জামিল (৫৭) সদর উপজেলার রুখালী গ্রামের মৃত আবুল কাসেমের ছেলে। তিনি চাকই পশ্চিম পাড়া বায়তুস সালাম জামে মসজিদের ইমাম। শনিবার (৯ মে) তাকে আদালতে পাঠানো হয়। এর আগে গতকাল শুক্রবার (৮ মে) দুপুরে স্থানীয় জনতা তাকে ধরে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে দেয়। এদিন উপজেলার চাকই বাজার এলাকা থেকে তাকে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।
মামলার বিবরণ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার চাকই পশ্চিম পাড়া বায়তুস সালাম জামে মসজিদে ইমামতি করেন আমিনুল ইসলাম। নামাজ শেষে রাতে মসজিদে থাকেন তিনি। প্রতিদিন ভোর বেলায় ফজরের নামাজের পর এলাকার ছেলেমেয়েদের তিনি মসজিদের বারান্দায় মক্তবে আরবি পড়ান। বাদীর মেয়ে ও স্থানীয় আরও দুটি মেয়ে প্রতিদিন সকালে মক্তবে আরবি পড়তে যায়। এ সময় আরবি পড়তে যাওয়া মেয়েদের সঙ্গে অনৈতিক কাজ করেন তিনি। গত ৫ মে বাদীর শিশুকন্যাকে চকলেট খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে ঘরের ভেতর ডেকে নেন। এরপর তার সঙ্গে অনৈতিক কাজে লিপ্ত হন তিনি। পরবর্তীকালে শিশুটি বাড়ি ফিরে এসে তার পরিবারের সদস্যদের ঘটনাটি জানায়। পরিবারের সদস্যরা অন্য শিশুদের কাছে জানতে চাইলে তাদের সঙ্গেও এমন কর্মকাণ্ড হয় বলে দাবি করে শিশুরা। পরবর্তীকালে স্থানীয়রা একত্রিত হয়ে বিষয়টি আমিনুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। তখন লোকজন তাকে ধরে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে দেন।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, চাকই পশ্চিম পাড়া বায়তুস সালাম জামে মসজিদের ইমাম আমিনুল রাতে ওই মসজিদেই থাকতেন। সকালে তার কাছে শিশুরা মক্তবে আরবি পড়তে যায়। পড়ানো শেষে শিশুদের তিনি যৌন হয়রানি করেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন। ভুক্তভোগীও শিশুটির পিতার দায়ের করা মামলায় আমিনুলকে এরই মধ্যে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আজ শনিবার আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়। সূত্র: কাল বেলা
