স্ত্রী, ৩ সন্তান,শ্যালকসহ ৫ জনকে হত্যা করে নেশাগ্রস্ত স্বামী

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের রাউৎকোনা গ্রামের এক প্রবাসীর বাড়িতে ভাড়াটিয়া একই পরিবারের স্ত্রী, ৩ সন্তান, শ্যালক সহ ৫ জনকে হত্যা করা হয়েছে। এ জঘন্য ঘটনার পর নেশাগ্রস্ত স্বামী উধাও হয়েছে। গত শুক্রবার (৮ মে) দিবাগত গভীর রাতে একই পরিবারের ৫ জনকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। নিহত ৫ জনের লাশ গাজীপুর মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহত শারমিনের ঘাতক স্বামী ফোরকান মিয়া বর্তমানে পলাতক রয়েছেন । পুলিশ তাকে আটক করার জন্য অভিযান অব্যাহত রেখেছে। নিহতদের বাড়ি গোপালগঞ্জ। তারা কাপাসিয়া উপজেলার এ বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকতো। ফোরকান নেশাগ্রস্ত বলে জানাযায়। ঘটনাস্থলে দেশীয় মদের বোতল, কোকের বোতল পড়ে থাকতে দেখা যায়। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ফোরকান মিয়ার স্ত্রী ও তার তিন কন্যাসন্তান এবং শ্যালক। নিহতরা হলেন- ফোরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন (৩০), মেয়ে মীম (১৫), হাবিবা (৮), ফারিয়া (২) এবং ফোরকান মিয়ার শ্যালক রসুল মিয়া (২২)। তাদের এক নিকট আত্মীয় জানান, ফোরকান প্রাইভেটকার চালক। কয়েকমাস আগে কাপাসিয়ার প্রবাসীর এই বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে আসে। ফোরকান তার শ্যালক রসুল মিয়াকে ফোন করে চাকুরি দেয়ার কথা বলে কাপাসিয়ায় নিয়ে আসে। নিহত শারমিনের চাচা জানান, ফোরকান এর আগে উত্তরায় থাকতো। ৭/৮ মাস আগে কাপাসিয়ায় আসে। সে গতরাতে তার ভাই জব্বারকে ফোন করে পরিবারের সবাইকে মেরে ফেলার কথা জানায়।

এ নৃশংস ঘটনার শোনার পরপরই কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ডা: তামান্না তাসনীম, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহীনুর আলম সহ সিআইডি কর্মকর্তাগণ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এলাকাবাসী জানান, শনিবার ভোরে ওই বাড়িতে দেখা যায় পাঁচজনের গলা কাটা লাশ পড়ে রয়েছে। কারা কেন তাদের হত্যা করেছে, বিষয়টি এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে। নিহতদের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ফোরকানের সাথে তার স্ত্রীর দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিবাদ চলছিল। এই বিবাদের সূত্র ধরে ইতিপূর্বে গোপালগঞ্জ সদর থানায় ফোরকানের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগও দায়ের করা হয়েছিল। সেই বিবাদের জের ধরেই এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহনুর আলম জানান, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। আমরা জানতে পেরেছি যে, এই দম্পতির কলহ নিয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানায় আগে থেকেই একটি অভিযোগ ছিল।” তিনি আরও জানান, অপরাধীকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান শুরু করেছে। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। একই পরিবারের পাঁচজনকে এভাবে হত্যার ঘটনায় রাউৎকোনা গ্রামসহ পুরো কাপাসিয়া উপজেলায় শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ফোরকানের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। কাপাসিয়া থানার পরিদর্শক তদন্ত যুবাইর হোসেন জানান, প্রায় এক বছর আগে একটি প্রাইভেটকার চালক ফোরকান মিয়া রাউতকোনা গ্রামের প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে ভাড়া থাকত। প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কলহের জেরে ফোরকান মিয়া এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন বলে জানান এই কর্মকর্তা। সূত্র: ইনকিলাব

ভালো লাগলে, প্লিজ শেয়ার করুন

এ ধরনের আরো কিছু পোস্ট