সরকারি খরচে দরিদ্রের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে লিগ্যাল এইড কার্যক্রম জোরদারের আহ্বান
সরকারি খরচে বিরোধ শেষ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রাজশাহীতে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস পালিত হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার সকালে জেলা ও দায়রা জজ আদালত চত্বর থেকে র্যা লী শুরু হয়ে ডিসি অফিস মোড় ঘুরে একই স্থানে এসে র্যা লীটি শেষ হয়। এতে বিচারক, আইনজীবী, সরকারি আইন কর্মকর্তা, প্যানেল আইনজীবী, সুবিধাভোগীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। র্যা লী শেষে জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির আয়োজনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় সরকারি খরচে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে লিগ্যাল এইড কার্যক্রম আরও জোরদারের আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ সভায় সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ এএইচএম মাহমুদুর রহমানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ।
এছাড়াও আরও উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম ও রাজশাহী রেঞ্জের উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ শাহজাহান। সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার (সিনিয়র সহকারী জজ) মো. শরিফুল ইসলাম খান।
এসময় বক্তারা বলেন, ন্যায়বিচারের প্রতি মানুষের আস্থা ধরে রাখতে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বিশেষ করে শিশু ও দুর্বল জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষায় আইনগত সহায়তা কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
রাজশাহী জেলায় সরকারি আইনগত সহায়তা কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরা হয়। তথ্যমতে, ২০২৫ সালে রাজশাহী জেলায় ৭০১টি বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) আবেদন গ্রহণ করা হয়, যার মধ্যে ৬২১টি নিষ্পত্তি হয়েছে। এসব এডিআরের মাধ্যমে ১ কোটি ১১ লাখ ৮৬ হাজার ১১৬ টাকা আদায় করে বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।
একই সময়ে ১ হাজার ৯১৯ জনকে আইনগত পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ওই বছর ১ হাজার ৩৫টি মামলা গ্রহণের বিপরীতে ৩৫৪টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত ১৯৪টি এডিআর আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে এবং ২৪২টি নিষ্পত্তি হয়েছে। এ সময় ৪৫ লাখ ২৩ হাজার ৬৫১ টাকা আদায় করে বিচারপ্রার্থীদের প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি ৩১৭ জনকে আইনগত পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং ২৩৫টি মামলার বিপরীতে ১২৯টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ এএইচএম মাহমুদুর রহমান বলেন, দরিদ্র মানুষের আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিটি জেলায় লিগ্যাল এইড অফিস স্থাপন করেছে এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দিয়েছে। তিনি বলেন, মামলার জট নিরসনে আপোষ-মীমাংসাভিত্তিক বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) কার্যক্রম অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখছে। এ কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে ২০২৬ সালের সেরা প্যানেল আইনজীবী হিসেবে অ্যাডভোকেট নীলিমা বিশ্বাস (নারী) ও অ্যাডভোকেট আদীব ইমাম ডালিম (পুরুষ)-কে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
