মান্দায় বোরো তলিয়ে যাচ্ছে, বিপাকে কৃষকরা

মান্দা প্রতিনিধি
উত্তরাঞ্চলের শস্য ভান্ডার নামে খ্যাত নওগাঁ জেলার প্রায়  ১১টি উপজেলায় কৃষি প্রধান অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। তন্মধ্যে মান্দা উপজেলা শস্য ভান্ডার হিসেবে উল্লেখযোগ্য। মান্দার বিলে কৃষকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছে ! কৃষকরা তাদের সর্বোচ্চ অর্থশ্রম বিলিয়ে দিয়ে দিল মন্দাসহ সর্বত্রই ইরি বু্রােধান চাষ করেছেন। মাঠে মাঠে যেন এই মৌসুমে সোনালী ধানের বাম্পার ফলনও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কৃষকদের বুক ভরা আশা সোনালী ফসল ঘরে তুলে আনবেন। ধান কাটা মাড়াইয়ের শুরু থেকেই ঝড়ো হাওয়া অতিবৃষ্টি প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কৃষকদের মাঝে নেমে আসে দুঃখ কষ্ট ও করুন পরিস্থিতি। এরই মধ্যে চলছে কৃষকের অর্জিত ফসল ঘরে তোলার প্রতিযোগিতা।পুরো নওগাঁর বরেন্দ্র অঞ্চল সহ পুরো দমে চলছে ধান কাটা মারায় এর মহোৎসব। হঠাৎ করেই কয়েকদিন ধরে উজান থেকে নেমে আসা পানির তোড়ে কৃষকের সোনালী ফসলের মাঠ বিল মান্দা,বিল উত্তরাঈল, বিল হীলনা, আন্ধাসুরিয়া , সিংগা সবাই, সোগুনিয়া, চৌবাড়ীয়া এলাকার ইরি বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে। ওই এলাকার কৃষকরা আধা পাকা ধান নিয়ে বর্তমানে চরম বিপাকে পড়েছে।
ধান কাটা মাড়াই এর লেবার সংকট, জনপ্রতি ৭৫০ থেকে ১০০০ টাকা দিয়েও প্রয়োজনীয় সংখ্যক দিনমজুর পাওয়া যাচ্ছে না, ফলে চরম বিপর্যয়ের মধ্যে পানিবন্দী ফসল কাটা হলেও তুলে আনার জন্য নেই কোনো বাহন।
ইতোমধ্যে কৃষকদের নতুন উদ্ভাবনী শক্তিতে তৈরি পলিথিনের ডিঙ্গি নৌকা তৈরি করে ঘরে ফসল তোলার এক চমৎকার দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। বিপদগ্রস্ত একাধিক কৃষক আলহাজ্ব তোফাজ্জল হোসেন, মকবুল হোসেন, আবুল হোসেন, এরশাদ আলী, আব্দুল আজিজ, আনোয়ার হোসেন,আফসার আলী,   আকরাম হোসেন, বাবুল হোসেন, সোলায়মান আলী বেদনা ভরা মন নিয়ে আবেগ জড়িত কন্ঠে জানান, আমাদের সর্বোচ্চ শ্রম ও অর্থ খরচের মধ্যে দিয়ে সোনালী ফসল ফলিয়েছি, এখন শুধু গুলায় তুলবো, কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস ,উৎপাদন খরচ, লেবার খরচ, পানিতে তলিয়ে যাওয়া সব মিলে ঋণের বোঝা, কৃষকের কষ্ট আর লাঘভ হবে না। ভুক্তভোগী কৃষকরা সরকার প্রধান ও কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে ভোগান্তি  দূর করতে ঐকান্তিক  সহযোগিতা কামনা করেন।

ভালো লাগলে, প্লিজ শেয়ার করুন

এ ধরনের আরো কিছু পোস্ট