তানোরে বিল কুমারী বিলে কৃষকের সোনালী স্বপ্ন
| |

তানোরে বিল কুমারী বিলে কৃষকের সোনালী স্বপ্ন

তানোর প্রতিনিধি: বিল কুমারী বিলের বুকে সবুজ সোনালীর সমারোহে ভরপুর। সবুজ সোনালীর মাঝেই বিলপাড়ের হাজারো কৃষকের স্বপ্ন গাথা রয়েছে। বিলে নেই কোন পানি শুধু সবুজ আর সোনালী ধানের শীষে ভরা। উত্তরের হিমেল বাতাসের সাথে দুলছে সবুজ সোনালী ধানের শীষ, সেই সাথে স্বপ্নে বিভর হচ্ছেন কৃষকরা। তবে কৃষকরা সবুজের মাঝে স্বপ্ন দেখলেও বিলে পানি না থাকার কারনে হাজারো মৎস্য জীবি পরিবার চরম মানবেতর জীবন যাপন করছেন। আর সপ্তাহ খানের মধ্যেই কাটা পড়বে কৃষকের রক্ত ঘামের কাংখিত বোরো ধান। তবে দু:শ্চিন্তার শেষ নেই। আবার ধান পাকা রোদও শুরু হয়েছে। বিলের জমিতে একটি করে চাষাবাদ হয়ে থাকে। পর্যাপ্ত ফলনও পায় বিল পাড়ের কৃষকরা।  তবে আশায় বুক বাঁধলেও কপালে রয়েছে নানা চিন্তার ভাজ। শাকির আরো জানান, সাড়ে তিন বিঘা জমিতে বোরো ধানের চাষ করা হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে ধান কাটা শুরু হবে। বকুল নামের আরেক কৃষক বিলের ৭ বিঘা জমি টেন্ডার নিয়ে চাষ করেছেন। মোনায়েম তিন বিঘা, হালিম আড়াই বিঘা, মান্নান আট বিঘা, হাকিম টেন্ডারে তিন বিঘা, সাহেব তিন বিঘা, শাওন নামের কৃষক ৬ বিঘা, হিন্দুপাড়া গ্রামের কৃষক বিমল তিন বিঘা ও অধির নামের আরেক কৃষক ১০ বিঘা জমিতে বোরো ধানের চাষ করেছেন।

তারা জানান, বিলের জমির ধানে পাক ধরেছে। কয়েকদিন ধরে তাপপ্রবাহ বিরাজ করছে। ধান পাকা রোদও পড়েছে। এক সপ্তাহের আগ থেকেই ধান কাটা শুরু হবে। বিলের নিজস্ব এক বিঘা জমিতে রোপন থেকে উত্তোলন পর্যন্ত খরচ হবে ১৬/১৭ হাজার টাকা। আর লিজের এক বিঘা জমিতে খরচ হবে ২২/২৪ হাজার টাকা। ভাল ভাবে ধান কাটা মাড়ায় করতে পারলে নিজস্ব জমিতে লাভ আসতে পারে ১০/১১ হাজার টাকা। আর লীজের জমিতে বিঘায় ৪/৫ হাজার টাকা লাভ হতে পারে। তবে বৈরি আবহাওয়া হলে শুকনো খড় পাওয়া যাবেনা। সেক্ষেত্রে লাভ কম আসবে। আর আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে লাভ ভালোই আসবে। কারন খড়ের দাম ভালো আছে।

জানা গেছে, উপজেলার চান্দুড়িয়া ব্রীজ ঘাট থেকে সীমান্তবর্তী কামারগাঁ ইউপির চৌবাড়িয়া ব্রীজ পর্যন্ত বিলকুমারী বিলের জমিতে আগাম বোরো চাষ হয়েছে। পৌরসভার বিএস আকবর আলী জানান, বিলের জমির ধানে পাক ধরেছে। এবারে ধানে রোগবালাই ছিল না। একারনে কৃষকের খরচও কম হয়েছে। দু এক জায়গায় রোগের খবর পাওয়া মাত্রই সাথে সাথে কৃষককে সঠিক পরামর্শ দেয়া হয়েছে। আবহাওয়া এখন পর্যন্ত অনুকূলে আছে। আসা করছি কৃষকরা বিলের জমির ধানে লাভবান হবে।

উপজেলা কৃষি অফিসার সাইফুল্লাহ আহম্মেদ জানান, বিলের জমির ধানে পাক ধরা শুরু হয়েছে। আর দু চার দিনের মধ্যে কাটা শুরু হবে। কৃষকরা কাংখিত ফলন পাবে। কারন সবকিছু সঠিক ভাবে হয়েছে। বেশির ভাগ জমিতে একটি করে আবাদ হয়। এজন্য পর্যাপ্ত ফলন পায় বিলপাড়ের কৃষকরা। আর মাঠ কর্মীরা সার্বক্ষণিক মাঠে থেকে কাজ করেছে। সার কীটনাশকের খরচ কম হয়েছে। এবারে উপজেলায় ১৪ হাজার ১৩০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। মৎস্য জীবি রফিকুল ইসলাম বিসু, আফজাল, সবুর, আজিমুল আজিজুরসহ অনেকে জানান, দীর্ঘ প্রায় এক দেড় মাস থেকে বিলে কোন মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। ঋন মহাজন করে সংসার পরিচালনা করা হচ্ছে। বিলের মাছের উপর নির্ভর করে চলে আমাদের সংসার ও জীবন জীবিকা।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *