ডিপিওয়ার্ল্ড: দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) দীর্ঘমেয়াদে কনসেশন ইজারা দেয়ার চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি চলছে। আরব আমিরাতের দুবাইভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ড (দুবাই পোর্ট ওয়ার্ল্ড)-এর সঙ্গে এই চুক্তি হতে যাচ্ছে বলে গতকাল দৈনিক ইনকিলাবের এক প্রতিবেদন বলা হয়েছে। আগামী ৮ অক্টোবর বৃহ¯পতিবার বহুল বিতর্কিত এই চুক্তি স্বাক্ষর করা হতে পারে। কোনো কারণে পিছিয়ে গেলে আগামী সপ্তাহে চুক্তি হতে পারে। তবে এই চুক্তির বিরোধিতা করে আন্দোলনরত বিভিন্ন সংগঠনের নেত্রীবৃন্দ এখনো ভরসা করে আছেন যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ চুক্তিতে সম্মতি দেবেন না। বিস্ময়ের ব্যাপার হচ্ছে, বিদেশি অপারেটরের কাছে টার্মিনালটি ছেড়ে দেয়ার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের লাভ-ক্ষতি মূল্যায়ন বা সমীক্ষা করা হয়নি। তা না করে চুক্তির পুরো প্রক্রিয়া অত্যন্ত গোপনীয়ভাবে এগিয়ে নেয়া হচ্ছে এবং চুক্তির সম্ভাব্য শর্তাবলীও গোপন রাখা হচ্ছে। দেশের জন্য ক্ষতিকর এই চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য অতিউৎসাহী হয়ে ভূমিকা পালন করছেন নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা এবং চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান। নেপথ্যে রয়েছে একটি ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই চুক্তি হলে একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং লাভজনক টার্মিনাল বিদেশিদের হাতে চলে যাবে। এতে বছরে প্রায় ৯২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্ষতি হবে। পাশাপাশি দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগলিক নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে। ডিপি ওয়ার্ল্ডকে নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল ইজারা দেয়া নিয়ে যে, দেশের বিরুদ্ধে দেশি-বিদেশি চক্রের ষড়যন্ত্র চলছে, তা এখন পরিস্কার। এই ষড়যন্ত্র শুরু করেছিলেন হাসিনা। সেই ষড়যন্ত্রকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকার চট্টগ্রাম বন্দরের টাকায় নির্মিত পানগাঁও টার্মিনাল এবং লালদিয়ার চর টার্মিনাল বিদেশি দুটি কোম্পানির কাছে দীর্ঘ মেয়াদে ইজারা দিয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছিল চুক্তির প্রক্রিয়া ও শর্তাবলী গোপন রেখে। এখন ডিপি ওয়ার্ল্ডকে একইভাবে ইজারা দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেয়ার হাসিনার হুবহু ফর্মূলাটিই ড. ইউনূস যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তুলে ধরেছেন। এর মাধ্যমে নিজের স্বার্থ হাসিল হলেও দেশের স্বার্থকে হুমকির মুখে রেখে গেছেন। সেই ফর্মূলা এখন বিএনপি সরকারকে গেলানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। বলা বাহুল্য, বিএনপি সরকারকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে ইউনূসের ফর্মূলা, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বিনিয়োগ বোর্ডের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীকে সহ্য করে যেতে হচ্ছে। দেশের স্বার্থে তাদের উল্লেখ করার মতো অর্জন নেই। আশিক চৌধুরী অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকে বিনিয়োগ বোর্ডের চেয়ারম্যান হলেও দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে তার সাফল্য শূন্য। যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষায় হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে যে বোয়িং কেনা হচ্ছে, সেক্ষেত্রেও ড. ইউনূস চক্রের ভূমিকা রয়েছে। এখন এনসিটি টার্মিনাল ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেয়ার পেছনে যে কারণ, তা ইতোমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে। আমরা মনে করি, দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখ-তাকে হুমকির মধ্যে ফেলে ডিপি ওয়ার্ল্ডকে এনসিটি ইজারা দেয়া কোনোভাবেই উচিৎ হবে না। চট্টগ্রাম বন্দর কোনো সাধারণ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নয়, এটি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই বন্দরের টার্মিনাল ইজারা দেয়া যায় কিনা, তা নিয়ে জাতীয় সংসদে বিস্তারিত আলোচনা করা প্রয়োজন। আলোচনা করে ইজারা দিতে হলে ওপেন টেন্ডারের মাধ্যমে তা দিতে হবে। টেন্ডার ছাড়া দেশের নিরাপত্তার সাথে হুমকি কোনো বিতর্কিত প্রতিষ্ঠানকে টার্মিনাল ইজারা দেয়া যাবে না।
