প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন
৩৫ বছর পর সংসদ সদস্যদের ভোটে দেশের ২৩তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে মোট ৩৪৯ জন ভোটারের মধ্যে তিনি ২৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম পেয়েছেন ৮৮ ভোট। দুপুর ২টা থেকে ৫টা পর্যন্ত এই ভোট গ্রহণ চলে। ভোট গ্রহণ শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এম এম নাসির উদ্দীন ফলাফল ঘোষণা করলে বিএনপির দলীয় সংসদ সদস্যরা উল্লাস প্রকাশ করেন। প্রত্যেকে টেবিল চাপড়িয়ে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে গোলাপ ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানান। বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম মির্জা ফখরুলকে জড়িয়ে ধরে অভিনন্দিত করেন। অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং সরকারিদল ও বিরোধীদল উভয় পক্ষ এ নির্বাচনে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। এ দৃশ্য বিরল। এমন দৃশ্য এর আগে কখনো দেখা যায়নি। ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকারের সময় সর্বশেষ নির্বাচনেও এমন দৃশ্য পরিলক্ষিত হয়নি। তখন বিরোধীদলে ছিল আওয়ামী লীগ। বঙ্গভবনে শপথ নেয়ার মাধ্যমে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের ২৩তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন। ইতোমধ্যে চীন, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশ নতুন প্রেসিডেন্টকে অভিনন্দন জানিয়েছে। আমরা প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অকুণ্ঠচিত্তে অভিনন্দন ও মোবারকবাদ জানাই। গত বৃহস্পতিবার মির্জা ফখরুলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে রুহুল কবীর রিজভীকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। বলা বাহুল্য, এক্ষেত্রেও প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়ে দলের প্রতি একজন আত্মনিবেদিত নেতাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। রুহুল কবির রিজভী এমন একজন রাজনীতিক, যিনি রাজনীতির মধ্যেই সর্বক্ষণ থাকেন। রাজনীতিই তার জীবন। এই রাজনীতি করতে গিয়ে তিনি যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তা অতুলনীয়। রাজনীতিতেই তিনি জীবন উৎসর্গ করে দিয়েছেন। নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দেয়া থেকে শুরু করে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সময়ে যেভাবে অকথ্য নিপীড়ন-নির্যাতন এবং দেড় শতাধিক প্রতিহিংসামূলক মামলা নিয়ে জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন, তা এক বিরল দৃষ্টান্ত। একজন সাচ্চা জাতীয়তাবাদী রাজনীতিবিদ হিসেবে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জাতীয়তাবাদী রাজনীতি থেকে কখনো বিচ্যুত হননি। তাঁকে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেয়া প্রধানমন্ত্রীর সঠিক সিদ্ধান্ত। বলা হয়ে থাকে, বিএনপি সরকার গঠন করার পর দল এবং সরকার মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। দলের রাজনীতি নিস্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। এই সময়ে রুহুল কবির রিজভীকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেয়া অত্যন্ত সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। তিনি তাঁর ক্যারিশমাটিক নেতৃত্ব দিয়ে সরকার ও দলকে আলাদা দুটি ধারায় প্রবাহমান করতে সক্ষম হবেন। গ্যাস-বিদ্যুতের তীব্র সংকটে দেশ এখন ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। প্রধানমন্ত্রী নিজে এ সংকট মোকাবেলায় উদ্যোগী হয়েছেন। সংকটের দ্রুত সমাধানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দিয়েছেন। বৈশ্বিক সংকট থেকে শুরু হওয়া এই জ্বালানি সংকটকে কাজে লাগিয়ে কুচক্রি মহল সরকারকে বিব্রত করার পাঁয়তারা করছে। এ প্রেক্ষিতে, দল হিসেবে বিএনপির সক্রিয় হওয়া এবং প্রকৃত ঘটনা সাধারণ মানুষকে অবহিত করে আশ্বস্থ করার দায়িত্ব নেয়া অপরিহার্য। এই সংকটকে কাজে লাগিয়ে কেউ যাতে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করে পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করে তুলতে না পারে, এজন্য দল হিসেবে বিএনপিকে পারফর্ম করতে হবে। এক্ষেত্রে, দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসিচব রুহুল কবির রিজভী তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা দিয়ে দলকে সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে পারবেন বলে আমরা আশাবাদী। আমরা মনে করি, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মনোনয়ন দিয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করা এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসিচব হিসেবে রুহুল কবির রিজভীকে দায়িত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
