চাঁপাইনবাবগঞ্জে স্বর্ণ ছিনতাই মামলায় দু’দিনের রিমান্ডে পুলিশ কনস্টেবল
স্টাফ রিপোর্টার
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ব্যবসায়ীর ৪০ ভরি স্বর্ণ ছিনতাইয়ের মামলায় গ্রেপ্তার ও সাময়িক বরখাস্ত হওয়া পুলিশ কনস্টেবল জাকির হোসেনের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল মঙ্গলবার চাঁপাইনবাবগঞ্জের একটি আদালতে শুনানি শেষে তাঁর রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জাকির হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন। শুনানি শেষে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। জেলা কারাগার থেকে জাকিরকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। ওসি জানান, এ মামলার অপর আসামি চাঁপাইনবাবগঞ্জের চক আলমপুরের বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী গ্রেপ্তারের পর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ কারণে তাঁকে রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন হয়নি।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোহাম্মদ আলী জানিয়েছিলেন, তাঁর শ্যালক নিঝুমের ৪০ ভরি স্বর্ণের চালানটি তিনিই চাঁপাইনবাবগঞ্জে নিয়ে যান। পুলিশি অভিযানের নামে ওই স্বর্ণ ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য তিনিই কনস্টেবল জাকির হোসেনকে ঠিক করেন। পরে তিনি আরেক ব্যবসায়ীর হাতে স্বর্ণ তুলে দেন। এরপর জাকির হোসেন তাঁর এক বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে ওই স্বর্ণ ছিনিয়ে নেন।
গত ৮ আগস্ট বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের কালীতলা ব্রিজ এলাকায় স্বর্ণ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার পর ৮ আগস্ট দিবাগত রাত ২টা ২ মিনিট থেকে ২টা ৪৪ মিনিট পর্যন্ত কনস্টেবল জাকির হোসেন তাঁর চাচাতো ভাই মশিউর রহমানকে ছয়বার ফোন করেন। এ সময় তাঁদের মধ্যে মোট ২৮ মিনিট কথা হয়। পরে ৯ আগস্ট ভোররাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে গ্রামের বাড়ি রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার শ্যামপুরে চলে যান জাকির। সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে তিনি দুর্গাপুরের আলীপুর গ্রামে ছিলেন। সকাল ৮টা ২০ মিনিটে ছিলেন পাচুবাড়ি গ্রামে। ৮টা ৪২ মিনিটে তিনি দুর্গাপুরের পাশের বাগমারা উপজেলার গঙ্গানারায়ণপুর গ্রামে অবস্থান করেন। এরপর মোহনপুরের বাকশিমইল ও সইপাড়া হয়ে তানোর উপজেলা সদরে যান। সেখান থেকে মুন্ডুমালা-আমনূরা সড়ক হয়ে সকাল ১০টার মধ্যে আবার চাঁপাইনবাবগঞ্জে ফিরে যান। এর আগে তিনি এলাকার দুজন স্বর্ণকারকে ফোন করেন। তাঁদের একজনের সঙ্গে ওই দিন চারবার ফোনে কথা বলেন তিনি। স্বর্ণ ছিনতাইয়ের পর জাকির ১০ দিনের ছুটি নিয়ে গ্রামের বাড়িতে চলে যান। ছুটি শেষে অফিসার্স মেসে যোগ দিলে তাঁকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় মোহাম্মদ আলীর বাড়ি থেকে সাড়ে ২০ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
