তানোরে খাস জমি নিয়ে ভূমিহীনদের মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদান

তানোর প্রতিনিধি

রাজশাহীর তানোরে সরকারি খাস জমি বন্দোবস্ত নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন একদল ভূমিহীন গ্রামবাসীরা। গতকাল রোববার দুপুর ১২টার দিকে তানোর উপজেলা প্রশাসনিক কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকদের দাবি, মানববন্ধনে প্রায় দুই শতাধিক মানুষ অংশ নেন। পরে অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের হাতে বিভিন্ন স্লোগান সংবলিত ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। এর মধ্যে ‘ভূমিদস্যুর বিচার চাই’ লেখা ব্যানারও ছিল। মানববন্ধনকারীদের অভিযোগ, উপজেলার বাধাইড় ইউনিয়নের হরিশপুর মৌজায় থাকা সরকারি খাস জমির একটি অংশ প্রকৃত ভূমিহীনদের মধ্যে বন্দোবস্ত না হয়ে প্রভাবশালী ও সচ্ছল ব্যক্তিদের নামে বন্দোবস্তের প্রক্রিয়া চলছে।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, তানোর উপজেলার বাধাইড় ইউনিয়নের হরিশপুর মৌজার জে.এল. নম্বর–৩৯ এলাকায় প্রায় ১১৫ দশমিক ৫ একর জমি নিয়ে অভিযোগ তোলা হয়েছে। স্মারকলিপির তফসিলে এ জমির আওতাধীন একাধিক দাগের উল্লেখ রয়েছে। তবে মানববন্ধনকারীদের বক্তব্য, অভিযোগটি শুধু একটি জমি বা একটি দাগকে কেন্দ্র করে নয়; হরিশপুর মৌজার আরও একাধিক জমির বন্দোবস্ত ও মালিকানা-সংক্রান্ত বিষয় এর সঙ্গে জড়িত।  স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়েছে, ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বসবাস ও চাষাবাদ করে আসছেন বেশ কিছু ভূমিহীন পরিবার। তাদের দাবি, প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি পরিবার দীর্ঘদিন ধরে এসব জমির ওপর নির্ভরশীল। ফলে সরকারি খাস জমি বন্দোবস্তের ক্ষেত্রে প্রকৃত ভূমিহীনদের অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। এদিকে মানববন্ধনকারীরা নুরুল ইসলাম, রুস্তম আলী, এনামুল ও নুরনাহার উম্মে খাদিজাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে জমি বন্দোবস্তের বিষয়ে অভিযোগ তুলেছেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে রুস্তম আলী মুঠোফোনে বলেন, “আমরা সব নিয়ম মেনে এবং দীর্ঘদিন আইনি লড়াই শেষে বৈধভাবে জমির মালিক হয়েছি। আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করা হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব। আইন অনুযায়ী জমি ফেরত নেওয়ার জন্য যা যা করা প্রয়োজন, তা-ও করা হবে।” এ বিষয়ে তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাঈমা খান বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা জানা হবে। তদন্তের পর আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভালো লাগলে, প্লিজ শেয়ার করুন

এ ধরনের আরো কিছু পোস্ট