হিংসা আযাযিলকে ‘ইবলিশ-শয়তান’ বানিয়েছে

মোহাম্মাদ মাকছুদ উল্লাহ

অন্যের ভালো কোনো কিছু দেখলে অন্তরে জ্বালা অনুভব করা এবং তার ধ্বংস কামনা করা। যেমন কারো অর্থ-বৃত্ত, পদ-পদবি, সুনাম-সখ্যাতি, সুখ-শান্তি দেখে মনোকষ্টে ভোগা এবং তার সেই কল্যানকর বিষয়গুলো ধ্বংস হয়ে যাক’ এমনটি কামনা করাকে হিংসা বা বিদ্বেষ বলা হয়। হিংসা-বিদ্বেষ মানব চরিত্রের সব থেকে নিকৃষ্ট গুণ। হিংসা, হিংসুকের মনের শান্তি কেড়ে নেয়, তার নেক আমল ধ্বংস করে ফেলে, সমাজে শত্রুতা, বিভেদ-বিভক্তি আর হানাহানি সৃষ্টি করে। ঈমানের সাথে হিংসার সহঅবস্থান হতে পারে না। হিংসা মূলত আযাযীলকে ‘ইবলিশ-শয়তানের’ বানিয়েছিল। সুতরাং হিংসা শয়তানেরই  বৈশিষ্ট, তার মাধ্যমেই পৃথিবীতে হিংসার আগমন এবং বিস্তার।

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যখন পৃথিবীতে মানুষ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিলেন এবং প্রথম মানব যুগল হিসেবে হযরত আদম (আ.) ও হাওয়া (আ.)-কে সৃষ্টি করলেন এবং হযরত আদমের প্রতি ফেরেশতাদেরকে সম্মানসূচক সিজদা করার আদেশ দিলেন, তখন সমস্ত ফেরেশতা সিজদা করলেও ইবলিশ হিংসা ও অহংকার বশত সিজদা করতে অস্বীকৃতি জানায়। শয়তানের এই ধৃষ্টতার কারণে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাকে বিতাড়িত করলে সে ধৃষ্টতার চরম পর্যায়ে গিয়ে অনাগত কিয়ামত পর্যন্ত সকল আদম সন্তানকে মহান আল্লাহর আনুগত্বের পথ থেকে বিচ্যুৎ করার শপথ ঘোষণা করে। পবিত্র কুরআনের এ বিষয়ে বিস্তারিত বিবরণ দেয়া হয়েছে। এরশাদ হয়েছে,“এবং নিশ্চয়ই আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি, অতঃপর আকার-অবয়ব তৈরি করেছি। অতঃপর আমি ফেরেশতাদেরকে বলেছি, আদমকে সিজদা করো, তখন সবাই সিজদা করেছে কিন্ত ইবলিশ সিজদাকারীদের অন্তর্ভূক্ত ছিলো না। আল্লাহ বললেনঃ আমি যখন সিজদা করার নির্দেশ দিয়েছি, তখন তোমাকে কিসে সিজদা করা থেকে বারণ করলো? সে বললোঃ আপনি আমাকে আগুন দ্বারা সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে (আদমকে) সৃষ্টি করেছেন মাটি দ্বারা। আল্লাহ বললেনঃ তুই এখান থেকে বেরিয়ে যা। এখানে অহংকার করার কোনো অধিকার তোর নেই। তুই হীনতমদের অন্তর্ভূক্ত। সে বললোঃ আমাকে কেয়ামত দিবস পর্যন্ত অবকাশ (হায়াত) দিন। আল্লাহ বললেনঃ তোকে অবকাশ দেয়া হলো। সে বললোঃ আপনি যখন আমাকে উ™£ান্ত করেছেন, আমিও অবশ্যই তাদের (আদম সন্তানের) জন্যে আপনার সরল পথে বসে থাকবো। তারপর তাদের নিকট আসবো (প্রতারিত করবো) তাদের সামনের দিক থেকে, পেছন দিক থেকে, ডান দিক থেকে এবং বাম দিক থেকে। সুতরাং আপনি তাদের অধিকাংশকেই আপনার কৃতজ্ঞ পাবেন না। আল্লাহ বললেনঃ এখান থেকে তুই লাঞ্ছিত ও অপমানিত হয়ে বের হয়ে যা। তাদের মধ্যে যে কেউ তোর পথে চলবে, নিশ্চয়ই আমি তোদের সবার দ্বারা জাহান্নামকে পূর্ণ করবো। (সূরা আল-আরাফ: ১১-১৮)

উদ্বৃত আয়াতগুলি কয়েকটি বিষয় প্রমান করে ১. পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম হিংসুক হলো ইবলিশ শয়তান ২. পৃথিবীতে হিংসা এসেছে ইবলিশ শয়তানের মাধ্যমে ৩. মহান আল্লাহর ক্রোধে নিপতিত হবার সব থেকে বড় কারণ হিংসা ৪. মানুষের মধ্যে যারা হিংসুক, তারা শয়তানের অনুসারি ৫. ইবলিশ শয়তান হিংসা বশত মহান আল্লাহর নির্দেশ “মানব জাতির আদি পিতা হযরত আদম (আ.)-এর প্রতি সম্মান জনক সিজদা” করতে অস্বীকৃতি জানায় এবং অনাগত কিয়ামত পর্যন্ত সকল আদম সন্তানকে পথভ্রষ্ট করার অঙ্গীকার করে পৃথিবীতে আসে। সুতরাং যারা অন্যের প্রতি হিংসা করে, তারা মানব জাতির শত্রু ৬. মহান আল্লাহ হিংসুকদের দ্বারা জাহান্নামকে পূর্ণ করবেন। হিংসার আগুনে নিজের আমলকে ভষ্ম না করে, সমাজকে দ্বন্দ-সংঘাতে দগ্ধ না করে, ইবলিশের অনুসারি হয়ে নিজের জন্য জাহান্নামকে অপরিহার্য না করে পারস্পরিক ভালোবাসা আর সহমর্মীয়তার বন্ধনে আবদ্ধ হোক সকল মুমিনের হৃদয়! লেখক: পেশ ইমাম ও খতীব, রাজশাহী কলেজ কেন্দ্রীয় মসজিদ।

ভালো লাগলে, প্লিজ শেয়ার করুন

এ ধরনের আরো কিছু পোস্ট