শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষার মানোন্নয়ন ও জাতি গঠনে শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে ফিরিয়ে আনা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আনতে হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সঠিকভাবে কাজ করতে পারলে জাতি গঠন সম্ভব। গত শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ও বিকাশ আয়োজিত ‘যৌথ উদ্যোগে বইপড়া কর্মসূচির ১২ বছর’ উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘ছাত্র-ছাত্রীদের পড়ার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে হবে। এর কোনো বিকল্প আমি দেখছি না। শিক্ষাব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আনতেই হবে।’ নিজের আগের দায়িত্ব পালনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এর আগে একবার দায়িত্ব পেয়েছিলাম। তখন কঠিন কাজ করার চেষ্টা করেছি। এ মন্ত্রণালয়ে সঠিকভাবে কাজ করলে জাতি গঠন করা যায়।’ এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের প্রসঙ্গ তুলে ধরে ড. মিলন বলেন, ফল প্রকাশের আগে বিভিন্ন মহল থেকে ফলাফল প্রকাশ কিছুটা পিছিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। অনেকে আশঙ্কা করেছিলেন ফল খারাপ হতে পারে। এমনকি ফল ভালো দেখানোর জন্য নম্বর বাড়িয়ে দেওয়ার কথাও বলা হয়েছিল।

তিনি বলেন, ‘আমি বলেছি, যে যে কাজ করেনি, সে সেই কাজের প্রশংসা পেতে পারে না। প্রধানমন্ত্রীকে যখন বললাম, এবারের ফল ভালো হবে না, তখন পাশ থেকে একজন বললেন, স্যার, ফলাফল এবার খারাপ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তখন বলেছেন, “তাতে কী হয়েছে— যা হওয়ার তাই হয়েছে। যে যে কাজের জন্য যে প্রশংসা পাওয়ার দরকার, সেটাই পাবে।

শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, সমাজ ও রাষ্ট্রের পরিবর্তন আনতে শিক্ষায় মৌলিক পরিবর্তন প্রয়োজন। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ একটি বিশাল প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন উল্লেখ করে তার কাছ থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শিক্ষা ভাবনার প্রশংসা করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নতুন প্রজন্ম গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন। শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় ফিরিয়ে আনতে আনন্দময় শিক্ষার পাশাপাশি বই পড়া ও খেলাধুলাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বিশাল জনগোষ্ঠীকে কর্মসক্ষম করে তুলতে কারিগরি শিক্ষার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা যাতে ঝরে না পড়ে, সে জন্য বিনামূল্যে বই, মিডডে মিল ও স্কুল ড্রেসের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর কাছে শিক্ষাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর তিনটি সাবজেক্ট— প্রথমটি শিক্ষা, দ্বিতীয়টি শিক্ষা এবং তৃতীয়টিও শিক্ষা।’ মন্ত্রী বলেন, ‘গতকাল একদিনেই তিনবার আমার ডাক পড়েছে। শিক্ষার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তিনি আলোচনা করেছেন। শিক্ষা জাতির উন্নয়নের চাবিকাঠি।’ সূত্র: জাগো নিউজ

ভালো লাগলে, প্লিজ শেয়ার করুন

এ ধরনের আরো কিছু পোস্ট