সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রীকে প্রকৃত তথ্য জানাতে হবে
গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে শহর থেকে শুরু করে গ্রামের মানুষের জীবনযাপন বিপর্যস্ত-বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে। বিগত কয়েক মাস ধরে মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ভাদ্রের এই গরমে তারা হাসফাঁস করছে। গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে উৎপাদন ব্যবস্থায় স্থবিরতা তো বিলাজ করছেই, মানুষের দৈনন্দিন জীবনও জেরবার হয়ে গেছে। রান্নাবান্না, শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন থেকে শুরু করে জনস্বাস্থ্যের অবনতি ঘটছে। যতই দিন যাচ্ছে, সংকট তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। সরকারের উপর মানুষের ক্ষোভ ও বিরক্তি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে সর্বত্র প্রকাশিত হচ্ছে। সংবাদপত্রসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমেও মানুষের এই দুর্দশার সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে। গ্যাস-বিদ্যুতের এই সংকট এখন সরকারের প্রধান সমালোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনকি, যেসব সাধারণ মানুষ সরকারের সমর্থক, তারাও সমালোচনা করছে। বলার অপেক্ষা রাখে না, গ্যাস-বিদ্যুৎ এমন উপকরণ, যার সংকট ধনী-দরিদ্র থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষের উপর পড়ে। এর জন্য তারা সরকারকেই দায়ী করে। সরকার যতই সংকটের বাস্তব কারণের কথা বলুক না কেন, তা তারা মানতে চায় না। তাদের কথা, সরকার কীভাবে সংকট কাটাবে, সেটা সে দেখবে। জতাকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় বসিয়েছি আমাদের ভালো-মন্দ দেখার জন্য। সাধারণ মানুষ এর বাইরে চিন্তা করতে চায় না। বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার তাদের এই চিন্তা কতটা উপলব্ধি করছে, তা নিয়ে সন্দেহ থাকা অমূলক নয়। পর্যবেক্ষকদের মতে, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট কেন, এর কারণ কি, সংকট কাটাতে সরকার কী ব্যবস্থা নিচ্ছে, কবে নাগাদ পরিস্থিতি সহনীয় পর্যায়ে আসবে, এ নিয়ে সরকারের তরফ থেকেও জনগণকে নিয়মিত অবহিত করা হচ্ছে না। সরকার কী ব্যবস্থা নিচ্ছে, জনগণ তা শুনতে ও জানতে চায়। সরকারের পক্ষ থেকে এই অবহিত করার ঘাটতির কারণে জনগণ ক্রমেই নাখোশ ও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে। গ্যাস-বিদ্যুতের অপর্যাপ্ততায় উৎপাদন ব্যবস্থা থেকে শুরু করে দেশের সার্বিক অর্থনীতি ভয়াবহ সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্পকারখানা, কৃষি, মৎস্য খামার, পোল্ট্রি খাত, কাঁচা ও পচনশীল পণ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থা বিপর্যয়কর পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। ইতোমধ্যে বহু শিল্পকারখানা বন্ধ কিংবা ছুটি ঘোষণা করে উৎপাদন স্থগিত রাখা হয়েছে। এতে অসংখ্য কর্মজীবী বেকার হয়ে পড়েছে। আয় না থাকা বা কমে যাওয়ায় অসংখ্য পরিবার অত্যন্ত দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অত্যন্ত জরুরি এই পরিস্থিতি অ্যাড্রেস করে সরকার যদি পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে সরকারের জনসমর্থনের ভিত্তি দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়বে। দলে দলে মানুষ আন্দোলনে নামলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। মনে রাখা দরকার, জনঅসন্তোষ নিয়ে কোনো সরকারই বেশি দূর যেতে পারে না। ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতনের অন্যতম কারণ ছিল অর্থনৈতিক সংকটে সৃষ্ট জনঅসন্তোষ। বর্তমান সরকারকে তা স্মরণে রেখে সার্বিক অর্থনৈতিক দুর্দশায় জনগণের মনে যে অসন্তোষ দানাবাঁধছে, তা নিরসনে দ্রুত উদ্যোগী হতে হবে। সরকারের মধ্যে এবং সরকারের বাইরে অনেক জ্ঞানী-গুণী ও বিশেষজ্ঞ লোকজন রয়েছে। সরকারের উচিৎ, তাদের সাথে পরামর্শ ও সমন্বয় করে চলমান গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে যে দুঃসহ পরিস্থিতি চলছে, তা সহনীয় ও স্বাভাবিক করতে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে কমিটি গঠন করে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। ডে টু ডে প্রক্রিয়ায় সমস্যা সমাধান করতে হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এই ডে টু ডে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট সামাল দেয়া হয়েছিল। পর্যবেক্ষকদের মতে, বর্তমান সরকার যদি এ প্রক্রিয়া অবলম্বন করে, তাহলে পরিস্থিতি সহনীয় পর্যায়ে আসবে। এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। পরিস্থিতির প্রকৃত চিত্র জানতে শুধু তার চার পাশের লোকজনের তথ্যের উপর নির্ভর না করে, এর বাইরে বিকল্প সোর্সের মাধ্যমে তাকে প্রকৃত চিত্র জানতে হবে। সংকট সমাধানে তাকে ক্যুইক রেসপন্স করতে হবে। বলা দরকার, তথ্যগত গ্যাপ যেকোনো সরকারের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনে। এ বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রীকে সমস্যা ও সংকটের প্রকৃত তথ্য জানাতে হবে এবং তাঁকেও জানতে হবে।
