রাজশাহী জেলা প্রশাসক গোল্পকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন ক্রীড়াক্ষেত্রে রাজশাহী তার হারানো গৌরব ফিরে পাবে: ভূমিমন্ত্রী মিনু

স্টাফ রিপোর্টার

ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, রাজশাহীর ক্রীড়াঙ্গন একসময় গৌরবময় ছিল। বাংলাদেশের জাতীয় ফুটবল দলের ১৫ জন খেলোয়াড়ের মধ্যে রাজশাহীর সন্তানরা থাকতো প্রায় সাত-আটজন। ক্রিকেট খেলায় রাজশাহী ছিল বাংলাদেশের মধ্যে সর্বোচ্চ এগিয়ে। আজ শনিবার বিকেলে রাজশাহী মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

মন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের ঐতিহাসিক সকল ক্রিকেট খেলোয়ার আছে। রাজশাহী ভলিবলে ছিল বাংলাদেশের অপ্রতিদ্বন্দ্বী। রাজশাহী ছিল হকিতে অত্যন্ত জনপ্রিয়। ব্যাডমিন্টনও বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন ছিল। রাজশাহী কলেজ ছিল সারা বাংলাদেশের সর্বোচ্চ মেলবন্ধন। প্রায় ত্রিশটির মধ্যে বাইশটি টুর্নামেন্ট, বাইশটি খেলায় চ্যাম্পিয়ন হতো রাজশাহী কলেজ। আমি খুব আনন্দ বোধ করি, রাজশাহী অনেকেই জিতেছিল কিন্তু যেভাবে হোক না কেন আমরা কিছুটা পিছিয়ে গিয়েছিলাম। এখন আবার সেই হারানো গৌরব ফিরে পাবে রাজশাহী।

তিনি আরও বলেন, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করে চলেছেন। তিনি রাষ্ট্র দায়িত্বে নির্বাচিত হয়ে আসার পর থেকেই তিনি এদেশের সকল যুব সমাজ বিশেষ করে তরুণ এবং সকল পর্যায়ের খেলোয়াড়দেরকে উদ্দীপ্ত করার জন্য প্রত্যেক সপ্তাহে সপ্তাহে তিনি একটা করে অনুষ্ঠান রাখেন। খেলাধুলাসহ যুব সমাজকে এগিয়ে নিতে অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন। প্রত্যেকেটি ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা, গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনাসহ সবক্ষেত্রেই।

আমাদের প্রিয় মা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। আচ তার স্মৃতি মনে পড়ছে। তিনি জেলা প্রশাসক গোল্ড কাপের উদ্বোধন করেছিলেন। আমিও তার স্নেহধন্য হয়ে রাজশাহীতে টুর্নামেন্ট উদ্বোধন করেছিলাম। তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।

মন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের অত্যন্ত প্রাণপ্রিয় নেতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র দায়িত্বে আসার পরেই বাংলাদেশের খাদ্যশস্য এবং ক্রীড়াঙ্গনে সারা বিশ্বের মাথা তুলে দাঁড়িয়েছিল। মানবসম্পদ বিদেশে দিয়ে দেওয়া এবং বাংলাদেশের শিল্প বিপ্লবে তার অংশগ্রহণ ভূমিকা ছিল। টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী সকল সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, প্রিয় খেলোয়াড়সহ সবার সাফল্য কামনা করছি। পরে মন্ত্রী কিছুক্ষণ খেলা উপভোগ করেন। এর আগে মন্ত্রী টুর্নামেন্টের ট্রফি উন্মোচন করেন।

এর আগে উদ্ভোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি অন্যান্য অতিথিদের নিয়ে জাতীয় পতাকা ও বিভিন্ন দলের পতাকা উত্তোলন করেন। এরপর বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। আরও উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী-৩ আসনের এমপি এড. শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৪ আসনের এমপি ডা. আব্দুল বারী, রাজশাহী-৫ আসনের এমপি অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মন্ডল, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ইউসুফ আলী, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম, রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক এড. এরশাদ আলী ঈশা ও রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট।

প্রসঙ্গত, তৃনমূল পর্যায়ে  ফুটবলের প্রসার, তরুণ খেলোয়াড়দের প্রতিভা অন্বেষন,মাদক ও মোবাইল ডিজিটাল আসক্তি থেকে তরুণদের মাঠমুখী ও রাজশাহীর ক্রীড়াঙ্গনের ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবিত করতে এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে। টুর্নামেন্টে রাজশাহীর ৯টি উপজেলা এবং সিটি কর্পোরেশন মিলিয়ে মোট ১০টি দল অংশগ্রহণ করছে। প্রতি উপজেলার ২৭ (বহিরাগতসহ) মোট ২৭০ জন খেলোয়াড় অংশগ্রহণ করবে। উদ্বোধনী দিনে রাসিক দল ১-০  উপজেলা ফুটবল দলকে হারায়। বিজয়ী দলের পক্ষে খেলার দ্বিতযিার্ধের ৫১ মিনিটের মাথায় পেনাল্টির মাধ্যমে নাইজেরিযন ফুটবলার ফাফুফে জয়সুচক গোলটি করেন।

ভালো লাগলে, প্লিজ শেয়ার করুন

এ ধরনের আরো কিছু পোস্ট