দিনের শুরুতে অলসতা  থেকে বাঁচতে ইসলামী বিধি-বিধান       

বিশিষ্ট সাহাবি হজরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমাদের কেউ যখন গভীর ঘুমে মগ্ন থাকে, তখন শয়তান তার মাথার কাছে বসে পড়ে। তারপর যখন সে আরো গভীর ঘুমে বিভোর থাকে, তখন শয়তান তার প্রত্যেক গ্রন্থিতে তিনটি করে গিঁট দেয়। আর এ কথা বলতে থাকে, এখনো দীর্ঘ রাত পড়ে আছে, তুমি আরো একটু ঘুমাও।

যদি সে জাগ্রত হয়ে আল্লাহর নাম নেয়, তখন একটি গিঁট খুলে যায়। ওজু করলে আরেকটি গিট খুলে যায়। আর যদি সে সালাতে দাঁড়ায়, তাহলে সব গিঁট খুলে যায়; ফলে সে ফুরফুরে ও খুশিমনে সকালে উপনীত হয়।অন্যথায় সে অলসতা নিয়ে দিন শুরু করে। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১১৪২, সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৮১৯)

শিক্ষা ও বিধান

১. শয়তান মানুষের ঘুমকে দীর্ঘায়িত করতে এবং তাকে ফজরের নামাজ ও আল্লাহর স্মরণ থেকে দূরে রাখতে নানা ধরনের প্ররোচনা দেয়। তাই ঘুম থেকে জাগার পর অলসতায় না পড়ে দ্রুত ইবাদতের দিকে এগিয়ে যাওয়া উচিত। ২. অতিরিক্ত ঘুম অলসতার কারণ হতে পারে। কেননা প্রয়োজনের অতিরিক্ত ঘুম মানুষকে ইবাদত ও দৈনন্দিন দায়িত্ব পালনে অলস করে তোলে। ৩. ঘুম থেকে উঠে ঘুমের দোয়া পড়া জরুরি। দোয়ার মাধ্যমে শয়তানের প্রথম গিট খুলে যায়। ৪. ঘুম থেকে উঠে অজু করলে শয়তানের আরেকটি গিঁট খুলে যায়। অজু শুধু বাহ্যিক পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম নয়; এটি মানুষকে ইবাদতের জন্য মানসিকভাবেও প্রস্তুত করে। ৫. নামাজ শয়তানের প্ররোচনা থেকে মুক্তির অন্যতম মাধ্যম। তাই বান্দা যখন অজু করে এবং নামাজে দাঁড়ায়, তখন শয়তানের সব গিঁট খুলে যায়। ৬. যে ব্যক্তি এভাবে ঘুম থেকে উঠে ইবাদত করে, সে ফুরফুরে ও প্রফুল্ল মনে সকাল শুরু করে। অর্থাৎ আল্লাহর আনুগত্যের মাধ্যমে দিনের শুরু করলে অন্তরে প্রশান্তি ও কর্মোদ্যম সৃষ্টি হয়।

সারকথা : এই হাদিস আমাদের শেখায়-শয়তান মানুষকে ঘুম, অলসতা ও গাফিলতির মাধ্যমে ইবাদত থেকে দূরে রাখতে চায়। আর আল্লাহর জিকির, অজু ও নামাজ সেই অলসতা ভেঙে মুমিনকে প্রাণবন্ত, প্রশান্ত ও কর্মোদ্যমী করে তোলে। তাই বিশেষ করে ফজরের নামাজকে দিনের প্রথম বড় আমল হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া প্রত্যেক মুমিনের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

ভালো লাগলে, প্লিজ শেয়ার করুন

এ ধরনের আরো কিছু পোস্ট