রাকসুর আম্মারের পর সর্বোচ্চ ব্যয় ক্রীড়া সম্পাদকের, ভাউচার জমা হয়নি পৌনে ১৪ লাখ টাকার

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) ক্রীড়া সম্পাদক মোছা. নার্গিস খাতুনের নামে সাত ধাপে ১৫ লাখ ৭১ হাজার ৬২৬ টাকা তোলা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ লাখ ৯৭ হাজার ১২৬ টাকার বিল-ভাউচার এখনও জমা দেওয়া হয়নি। জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের পর তিনিই তহবিল থেকে সর্বোচ্চ ব্যয় করেছেন। রাকসুর কোষাধ্যক্ষ কার্যালয়ের ব্যয়-সংক্রান্ত নথি থেকে এ তথ্য জানা গেছে। নথি অনুযায়ী, নার্গিস খাতুনের নামে রাকসু গেমস আয়োজনের জন্য দুই ধাপে ১২ লাখ ৭২ হাজার ৩৪০ টাকা বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া গত মে মাসে আয়োজিত আরেকটি ইভেন্টের দুই ধাপে ১ লাখ ২৪ হাজার ৭৮৬ টাকা নেওয়া হলেও এর হিসাব জমা দেওয়া হয়নি। গত মাসে শুরু হওয়া রাকসু গেমসের ছয়টি ইভেন্ট অবশ্য এখনও চলমান। বিল-ভাউচার জমা না দেওয়ার বিষয়ে ক্রীড়া সম্পাদক মোছা. নার্গিস খাতুন বলেন, ‘বিল তৈরি আছে। যে কোনো সময় জমা দিয়ে দেব।’

রাকসুর কোষাধ্যক্ষ কার্যালয়ের ব্যয়-সংক্রান্ত একটি নথি থেকে জানা গেছে, চলতি মেয়াদে ৪২টি কর্মসূচিতে রাকসুর তহবিল থেকে ১ কোটি ২৯ লাখ ১৪ হাজার ৬৮৯ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৬১ লাখ ৫০ হাজার ৪৬৮ টাকার বিল-ভাউচার জমা দেওয়া হয়নি।

রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের নামেও সাত ধাপে ২৩ লাখ ৮৮ হাজার টাকা তোলা হয়েছে। এর মধ্যে তিন ধাপের ১৮ লাখ ৩৯ হাজার টাকার ব্যয়ের ভাউচার জমা দেওয়া হয়নি। ভর্তি পরীক্ষার সময় বুথ স্থাপন, রাকসু সদস্যদের বাজেট এবং দাপ্তরিক খরচ বাবদ এসব অর্থ নেওয়া হয়েছিল। আম্মার বলেন, ভর্তি পরীক্ষার ব্যয়ের সঙ্গে ভ্যাট যোগ করার বিষয়টি জানা না থাকায় বিল সমন্বয়ে সমস্যা হয়েছে। পাশাপাশি একজন সদস্য হিসাব না দেওয়ায় সম্মিলিত বাজেটের হিসাব জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি। রাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদের নামে ছয় ধাপে ১৩ লাখ ৪০ হাজার ৩২৪ টাকা তোলা হলেও ৯৯ হাজার ৯২৪ টাকার ভাউচার জমা দেওয়া হয়েছে। বাকি ১২ লাখ ৪০ হাজার ৪০০ টাকার হিসাব জমা হয়নি। এ বিষয়ে জাহিদ বলেন, বিল-ভাউচার দ্রুত জমা দেওয়া ভালো। তবে তার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে এবং অডিটের আগে হিসাব জমা দিলেও হবে। এর আগেই তিনি ভাউচার জমা দেবেন বলে জানান।

বিতর্ক ও সাহিত্যবিষয়ক ইমরান লস্কর ছয় ধাপে ৮ লাখ ৪২ হাজার ৭৬৫ টাকা তুলেছেন। এর মধ্যে একটিতে ঘাটতিসহ দুই ধাপে খরচের ভাউচার জমা দিয়েছেন। সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক জাহিদ হোসেন জোহার নামে তিন ধাপে সাত লাখ ৯৫ হাজার টাকা নেওয়া হলেও একটি কর্মসূচির চার লাখ ৬৫ হাজার টাকার হিসাব দেওয়া হয়নি। তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক বিএম নাজমুল সাকিবের নামে তিন ধাপে তিন লাখ ৯৬ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। মিডিয়া ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. মুজাহিদ ইসলামের নামে তিন ধাপে এক লাখ ৫৪ হাজার ৪৪৮ টাকার মধ্যে এক ধাপের এক লাখ টাকার ভাউচার জমা হয়নি। মহিলাবিষয়ক সম্পাদক সায়িদা হাফসার নেওয়া দুই ধাপের এক লাখ ৮৮ হাজার ২৭৬ টাকার মধ্যে মে মাসে আয়োজিত নারী উদ্যোক্তা মেলা বাবদ এক লাখ ৩৫ হাজার ৫০০ টাকার কোনো হিসাব জমা পড়েনি। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক তোফায়েল আহমেদ তোফা দুই ধাপে মোট ৮৭ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে জুলাইয়ে নেপালে শিক্ষাবিষয়ক একটি সেমিনারে অংশগ্রহণ বাবদ ৩৭ হাজার ৫০০ টাকার হিসাব জমা দেননি।

গত জুলাই মাসে পরিবেশ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাসুদের একটি সেমিনারের জন্য নেওয়া ৮২ হাজার টাকার ভাউচার দেওয়া হয়নি। রাকসুর এজিএস এসএম সালমান সাব্বির ৫ মার্চ দাপ্তরিক খরচ বাবদ ৬০ হাজার টাকা নেন। এর আগে কম্পিউটার প্রিন্টার কেনার জন্য অন্য এক নেতার নেওয়া এক লাখ ২৩ হাজার ৭৫০ টাকার হিসাবও জমা হয়নি।

রাকসুর কোষাধ্যক্ষ সেতাউর রহমান বলেন, কোনো কর্মসূচি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিল-ভাউচার জমা দেওয়া উচিত। কিছু বিল-ভাউচার এখনও জমা না পড়ায় সংশ্লিষ্টদের নিয়ম মেনে তা জমা দিতে বলা হয়েছে। রাকসুর তহবিলের ব্যয় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনও প্রশ্ন তুলেছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, রাকসুর তহবিলের অর্থ শিক্ষার্থীদের চাঁদা থেকে আসে। তাই এ অর্থ রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করা উচিত নয়। সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল বলেন, এসব ব্যয়ের বিষয়ে তদন্ত হওয়া দরকার এবং কেউ দোষী হলে ব্যবস্থা নিতে হবে। ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আল শাহরিয়ার বলেন, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি থাকা জরুরি। রাকসুর তহবিলসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ব্যয়ের বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো অর্থ ব্যয় করলে অবশ্যই বিল-ভাউচার জমা দিতে হবে। রাকসুকেও এই নিয়ম মেনে চলতে হবে। প্রতিটি সভায় হিসাবের স্বচ্ছতা বজায় রাখার তাগিদ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। সূত্র: সমকাল

ভালো লাগলে, প্লিজ শেয়ার করুন

এ ধরনের আরো কিছু পোস্ট