সম্পাদকীয়

আন্তর্জাতিক আস্থার অনন্য উচ্চতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ল্যান্ডস্লাইড ভিক্টরি নিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে ক্ষমতায় আসা বিএনপি সরকারের ছয় মাস পূরণ হয়েছে। একটি নতুন সরকারের মেয়াদের ছয় মাস গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, জনগণ বিপুল প্রত্যাশা নিয়ে নতুন সরকারকে দায়িত্বে দেয়। নতুন সরকার বিগত সরকারের ব্যর্থতা কাটিয়ে তাদের প্রত্যাশা পূরণ করবে, এই আকাক্সক্ষায় তার উপর আস্থা রাখে। জনগণ নতুন সরকারকে ১০০ দিনের একটি গ্রেস পিরিয়ড দেয়। যাকে হানিমুন পিরিয়ড বলা হয়। সারাবিশ্বেই নতুন সরকারের যাত্রার হানিমুন পিরিয়ড রয়েছে। সাধারণত এই সময়ের মধ্যে সরকার তার পুরো মেয়াদে দেশের সমস্যা-সংকট নিরসনসহ জনগণের জীবনমান উন্নয়নের পরিকল্পনা করে। ছয় মাস হয়ে গেলে সরকারের মূল্যায়ন শুরু হয়। কতটা ভাল করছে, কতটা মন্দ করেছে এবং আগামীতে কতটা করতে পারবে, এমন মূল্যায়ন দেশের মানুষ করা শুরু করে। এই মূল্যায়ন স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ক্ষমতার পালাবদলের সময় বেশি প্রযোজ্য। আমাদের স্মরণে রাখা দরকার, বিএনপি কোন পরিস্থিতিতে এবং কোন সময়ে দায়িত্ব নিয়েছে, তার পূর্বাপর ঘটনা কেমন ছিল। সকলেরই জানা, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার দীর্ঘ দেড় দশকের শাসনামলে দেশ দেউলিয়া হয়ে গিয়েছিল। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বলে কিছু ছিল না। দেশকে ভারতের করদ রাজ্যে পরিণত করেছিল। দেশের মানুষ অভাব-অনটনে দুর্বিষহ জীবনযাপন করলেও সেদিকে হাসিনার কোনো ভ্রুক্ষেপ ছিল না। মানুষের জীবনের কোনো নিরাপত্তা ছিল না। বৈষম্যের কোনো সীমা-পরিসীমা ছিল না। বৈষম্য ও লাঞ্ছনা-বঞ্চনায় ক্ষুব্ধ-বিক্ষুব্ধ জনগণ ২০২৪ সালে জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে হাসিনার পতন ঘটায়। তিনি কোনোরকমে জীবন নিয়ে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেন। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর ধারণা করা হয়েছিল, হাসিনি যেভাবে সকল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস ও অর্থনীতিকে ফোকলা করে দিয়েছে, তা পুনরুদ্ধারের কাজটি দ্রুত হবে। দেশের মানুষ দেখেছে, তার দেড় বছরের শাসনামলে কিছু সংস্কার কমিটি গঠন করা হয়েছে ঠিকই, তবে অর্থনীতিকে দাঁড় করাতে পারেনি। বরং দেশের অর্থনীতি আরও তলানিতে চলে যায়। সরকারের ছয় মাসের মেয়াদের মধ্যে এটা বোঝা গেছে, আন্তর্জাতিক অঙ্গণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গ্রহণযোগ্যতা অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। মালয়েশিয়া ও চীন সফরে দেশ দুটির সরকার প্রধান তাকে যেভাবে বরণ করে নিয়েছেন এবং সম্মান দিয়েছেন, তা ছিল অভাবনীয়। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং তারেক রহমানের সাথে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে কথা বলতে গিয়ে বলেছেন, আপনার বাবা-মা দুজনই চীনের ভালো বন্ধু ছিলেন। বিশ্বের অন্যতম ক্ষমতাধর ব্যক্তি যখন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে এ কথা বলেন, তখন বুঝতে বাকি থাকে না, তারেক রহমানের মর্যাদা ও গ্রহণযোগ্যতা কতটা উচ্চতায় পৌঁছেছে। প্রধানমন্ত্রীর এই দুই দেশ সফরের অর্জন অনেক। চীন বাংলাদেশে বিনিয়োগে যে আগ্রহ দেখিয়েছে, তা অভূতপূর্ব। তিস্তা ব্যারেজ, গঙ্গা ব্যারেজ, জামালপুর ও গাইবান্ধার মধ্যে দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণে অর্থায়নসহ আরও অনেক প্রকল্পে বিনিয়োগ করবে। ইতোমধ্যে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চীনের অর্থনৈতিক জোনের কাজ শুরু হয়েছে। একই জায়গায় কোরিয়ান অর্থনৈতিক অঞ্চল চালু হয়েছে। এসবই সম্ভব হচ্ছে, আন্তর্জাতিক অঙ্গণে তারেক রহমানের গ্রহণযোগ্যতার কারণে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোও তারেক রহমানের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছে। গত সোমবার সউদী আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ জাফের এইচ বিন আবিয়াহ সউদী আরব সফর করার জন্য সউদী প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের আমন্ত্রণপত্র প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দিয়েছেন। বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী মোহাম্মদ বিন সালমান যখন সউদী আরব সফরের আমন্ত্রণ জানান, তখন বুঝতে অসুবিধা হয় না, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গ্রহণযোগ্যতা কতটুকু। ইতোমধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টও তারেক রহমানকে সফর করার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। জাপান সরকারও তাকে সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। অন্যদিকে, সউদী আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে মক্কা চুক্তির মাধ্যমে যে ঐতিহাসিক জোট হয়েছে, সেখানে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে তুরস্কের মিডিয়ায় কথা হচ্ছে। দেখা যাচ্ছে, আন্তর্জাতিক অঙ্গণে তারেক রহমানের গ্রহণযোগ্যতা এক অসামান্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। তার যে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি তা সকলের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। এই গ্রহণযোগ্যতাই দেশের অর্থনীতিকে দ্রুত উন্নতির দিকে নিয়ে যাবে। বিনিয়োগ-বাণিজ্য, আমদানি-রফতানি ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাবে। আগামী দিনগুলোতে তা ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হবে। মনে রাখা দরকার, বর্তমান সরকার একটি ভঙ্গুর ও নড়বড়ে অর্থনীতি নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে। এ অর্থনীতি মেরামত করে তা দাঁড় করাতে সময় লাগবে। আমরা আশাবাদী, আন্তর্জাতিক অঙ্গণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যে গ্রহণযোগ্যতা এবং যেভাবে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন, তাতে দ্রুতই দেশ ভগ্নদশা থেকে উন্নয়ন ও অগ্রগতির দিকে যাবে। দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে। তবে সরকারের মূল কাজ হচ্ছে, সাধারণ মানুষের চলমান সমস্যা ও সংকটকে অ্যাড্রেস করে দ্রুত সমাধান করা। গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট, নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে মানুষের ক্ষোভ প্রশমিত করে স্বস্তি দেয়া।
 

ভালো লাগলে, প্লিজ শেয়ার করুন

এ ধরনের আরো কিছু পোস্ট