নওগাঁয় লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ মানুষ

নওগাঁ প্রতিনিধি:

লোডশেডিংএ অতিষ্ট নওগাঁবাসী। শহরের তুলনায় গ্রামে লোডশেডিং এর পরিমান বেশি। ২৪ ঘন্টায় শহরের ৫-৬ ঘন্টা এবং গ্রামে ১০-১২ ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। ভাদ্রের ভ্যাপসা গরম ও লোডশেডিংএ অতিষ্ট হয়ে উঠেছে জনজীবন। বিদ্যুৎ না থাকায় বিশেষ করে বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল কারখানাগুলোতে উৎপাদন কমেছে। এছাড়া গভীর নলকুপের ওপর নির্ভরশীল আমন মৌসুমে জমিতে পানি সেচ দিনে না পারায় জমি ফেটে চৌচির অবস্থা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নওগাঁয় পিক ও অফ-পিক আওয়ার মিলিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৯৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। এর বিপরীতে ৪০-৫০ শতাংশ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে চাহিদা ও সরবরাহের ঘাটতি মেটাতে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

শস্য ভান্ডার খ্যাত উত্তরের কৃষি প্রধান জেলা নওগাঁ। জেলার বিভিন্ন মাঠে মাঠে এখন আমন মৌসুম চলছে। আবহাওয়া মেঘাচ্ছন্ন হলেও বৃষ্টি না হওয়ায় চাষাবাদের জন্য গভীর ও অগভীর নলকুপের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে সময়মতো জমিতে পানি সেচ সম্ভব হচ্ছে। জমিতে পানি সেচ দিতে না পারায় অনেক মাঠে আমন ধানের জমি ফেটে যাচ্ছে।

বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল কারখানা(ওয়াকসপ) থেকে উৎপাদন কমেছে। বিদ্যুৎ না থাকায় শ্রমিকদের বেকার সময় বসে থাকতে হচ্ছে। আবার ব্যাটারি চালিত অটোরিকশায় চার্জ দিতে না পারায় তাদের আয়েও ভাটা পড়েছে।

সদর উপজেলা চকজাফরাবাদ গ্রামের কৃষক রবিউল বলেন- আবহাওয়া মেঘাচ্ছন্ন থাকলেও বৃষ্টি হচ্ছে না। বৃষ্টির অভাবে আমন রোপনে বিলম্ব হচ্ছে। আবার যে টুকু রোপন করা হয়েছে পানি সংকটে জমি ফেটে চৌচির অবস্থা। বিদ্যুতের ঘনঘন লোডশিডিংয়ে গভীর নলকুপ ঠিকমতো চালু না থাকায় পানি পাওয়া যাচ্ছে না।

চকআতিতা গ্রামের অটোরিকশা চালক ইউনুছ আলী বলেন- লোডশেডিং এর কারণে অটোরিকশায় ঠিকমতো চার্জ দিতে পারছি না। যেটুকু চার্জ হচ্ছে সকালে ৩-৪ ঘন্টা চালানো পর চার্জ শেষ হয়ে যাচ্ছে। এতে কখনো ঠেলে নিয়ে যেতে হচ্ছে আবার কারো গাড়ির সাথে বেঁধে টেনে নিয়ে যেতে হচ্ছে। দিতে ৩০০-৪০০ টাকা আয় হওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। আগে ৮০০-৯০০ টাকা আয় হতো। লোডশেডিংয়ে আয়েও টান পড়েছে।

আত্রাই উপজেলার গন্ডগোহালি গ্রামের আলামিন বলেন- বেশকিছু দিন থেকে লোডশেডিং চলছে। দিনে ৬-৭ ঘন্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। তবে দুইদিন থেকে ১১-১২ ঘন্টার মতো বিদ্যুৎ থাকছে। প্রচন্ড গরম জনজীবন অতিষ্ট। বিদ্যুৎ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত স্বস্থি পাওয়া যাচ্ছে না।

নওগাঁ জেলা চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার বলেন- জেলায় ৫০০ শতাধিক চালকল চালু আছে। প্রতিদিন এ জেলা থেকে সারাদেশে ১৫শ থেকে ২ হাজার টন চাল বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়। বিদ্যুতের লোড শেডিংয়ে চাল উৎপাদন ব্যহৃত হচ্ছে। এছাড়া চালের কোয়ালিটি খারাপ হচ্ছে। তবে লোডশেডিং অনবরত চললে চালের উৎপাদন কমবে এবং দাম বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

নওগাঁ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর মহাব্যবস্থাপক মোঃ মাহবুব জিয়া বলেন, এ সমিতির অধীনে মোট গ্রাহকসংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৩৫ হাজার। প্রতিদিন ৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। এর বিপরীতে প্রায় অর্ধেক সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে বেড়েছে লোডশেডিং। তবে শিগগিরই স্বাভাবিক হবে।

ভালো লাগলে, প্লিজ শেয়ার করুন

এ ধরনের আরো কিছু পোস্ট