প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজশাহী আসছেন আজ
ওমর ফারুক:
আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাজশাহী সফরে আসছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর এই আগমনকে কেন্দ্র করে বর্তমানে বরেন্দ্র অঞ্চলজুড়ে বিরাজ করছে এক উৎসবমুখর আমেজ ও তুমুল উদ্দীপনা। শেষ মুহূর্তে চলছে মঞ্চ নির্মাণ, রাস্তাঘাট সংস্কার এবং সার্বিক প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম।
সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে রাজশাহী মহানগরী ও আশেপাশের এলাকাগুলোকে নতুন রূপে সাজানো হয়েছে। নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক, আইল্যান্ড এবং মোড়গুলো নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। সফরসূচি নির্বিঘ্ন ও মসৃণ করতে নগরীর বেশ কিছু ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাট দ্রুত সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে নিয়ে আসা হয়েছে। জনসভাস্থলে সুবিশাল ও দৃষ্টিনন্দন মঞ্চ নির্মাণের কাজ দিনরাত ২৪ ঘণ্টা তদারকি করছেন সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তি ও দলীয় নেতৃবৃন্দ।
রাজশাহী সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন।
নগরীর ঐতিহাসিক মাঠে রাজশাহী জেলা ও মহানগর বিএনপি আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন তিনি। এ সমাবেশ থেকে তিনি উত্তরাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন ও জাতীয় রাজনীতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। রাজশাহী সফরকালে তিনি স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী ধর্মসভা পরিদর্শনে যাবেন এবং সর্বস্তরের মানুষের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।
উত্তরাঞ্চলের কৃষি ও কৃষকের ভাগ্যোন্নয়নে সরকারের অঙ্গীকার তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী ইক্ষু (আখ) চাষীদের মাঝে প্রণোদনা ও বিশেষ সহায়তা বিতরণ করবেন। রাজশাহী জুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে কঠোর ও নিছিদ্র নিরাপত্তা বলয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে গ্রহণ করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুরো নগরী ও অনুষ্ঠানস্থলকে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সার্বিক নিরাপত্তায় নিয়োজিত স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ), পুলিশ, এসআরবি ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা ইতিমধ্যেই প্রস্তুত রয়েছে। নগরীর প্রবেশমুখগুলোতে বসানো হয়েছে তল্লাশি চৌকি, যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে চরম উদ্দীপনা দেখা গেছে। কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ সার্বক্ষণিক প্রস্তুতি পর্যালোচনা করছেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এই মহাসমাবেশে রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে মানুষের সমাগম ঘটবে। সফল সমাবেশ হবে বলে নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন।
স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও ইক্ষু চাষীরা প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে দেখছেন। বিশেষ করে কৃষি প্রণোদনা ঘোষণার মাধ্যমে স্থানীয় কৃষকদের দীর্ঘদিনের দাবি ও সমস্যা পূরণের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। সব মিলিয়ে, আজ প্রধানমন্ত্রীর পদার্পণে পদ্মাপাড়ের এই ঐতিহ্যবাহী রেশম নগরী রাজশাহী এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে যাচ্ছে।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরকে কেন্দ্র করে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। যাতায়াতের রাস্তাগুলোতে পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও দায়িত্ব পালন করবে। পুলিশ, এসআরবি ও এসএসএফ সদস্যরা ইতিমধ্যেই যাবতীয় দেখভাল করছেন। আশা করছি এই সফর সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নে অনুষ্ঠিত হবে।
ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ঐতিহাসিক সফর। এর আগে কোনো রাষ্ট্রপ্রধান বা প্রধানমন্ত্রী পূজোর মধ্যে রাজশাহী সফরে আসেননি। এই প্রথম তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাজশাহী আসছেন। ইতিমধ্যেই সমস্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। রাজশাহী বিএনপির নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে এই সফর বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। এই সফর সুষ্ঠু, সুন্দর ও সফল হবে।
