তিন দিক থেকে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে হুমকিতে বিন সালমানের ‘ভিশন-২০৩০’ হুথিদের অব্যাহত হামলায় ভয়াবহ সঙ্কটে সউদী আরব
অত্যাধুনিক সামরিক অস্ত্রভাণ্ডার ও শত শত কোটি ডলার প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করা সত্ত্বেও সউদী আরব বর্তমানে তার ইতিহাসের অন্যতম গুরুতর সংকটের মুখে পড়েছে। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের লাগাতার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সউদী নিরাপত্তার ফাঁকফোকরগুলোকে উন্মোচন করে দিয়েছে। এর ফলে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের বহুমুখী ও উচ্চাভিলাষী ‘ভিশন-২০৩০’ কর্মসূচি এবং দেশটির অর্থনৈতিক রূপান্তরের স্বপ্ন মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। গত সপ্তাহে রিয়াদের প্রধান কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এসআইপিআরআই)-এর তথ্য অনুযায়ী, গত বছর সামরিক খাতে সউদী আরবের খরচ ছিল ৮৩ বিলিয়ন ডলার। মার্কিন ও ইউরোপীয় প্রযুক্তির প্যাট্রিয়ট ও থাড আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও সউদী আরব তাদের রাজধানী এবং তেল শোধনাগারের মতো সংবেদনশীল স্থাপনাগুলো পুরোপুরি সুরক্ষিত রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। বিন সালমানের ভিশন-২০৩০-এর মূল ভিত্তি ছিল পর্যটন, প্রযুক্তি এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলন এবং ওয়ার্ল্ড পেট্রোলিয়াম কাউন্সিলের এনার্জি কংগ্রেসের মতো বড় বড় বৈশ্বিক ইভেন্টগুলো বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। অনেক শীর্ষ আন্তর্জাতিক কোম্পানির প্রধান নির্বাহী ও বিনিয়োগকারীরা নিরাপত্তার আশঙ্কায় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ বাতিল করেছেন। লোহিত সাগর ও সংলগ্ন বাণিজ্য রুটগুলোতে অস্থিরতা এবং ডেটা সেন্টার বা বিমানবন্দরগুলোর অস্থিতিশীলতা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমিয়ে দিচ্ছে। হুথি বিদ্রোহীরা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং দূরপাল্লার ড্রোনের সমন্বয়ে অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট ও বহুমুখী আক্রমণ কৌশল অবলম্বন করেছে। এই কৌশল অনেকটা ইউক্রেনে রাশিয়ার ব্যবহৃত কৌশলের অনুরূপ, যা সউদী প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত ও অকার্যকর করে দিচ্ছে। বিমানবন্দর বন্ধ থাকা এবং তেল পাইপলাইনে বারবার ড্রোন হামলার কারণে দেশটির অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার চিত্রটি প্রশ্নের মুখে পড়েছে। সূত্র: ইনকিলাব
