বাসায় ডেকে জিম্মি করে মুক্তিপণ দাবি, নগরীতে গ্রেপ্তার ২

স্টাফ রিপোর্টার

রাজশাহী মহানগরীর রাজপাড়া থানার ডিঙ্গাডোবা ব্যাংক কলোনী এলাকায় এক ব্যক্তিকে বাসায় ডেকে নিয়ে জিম্মি করে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ভুক্তভোগীর স্বাক্ষর করা তিনটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প, নগদ ও বিকাশের মাধ্যমে উত্তোলন করা ২৬ হাজার টাকা উদ্ধার এবং আরও ১ লাখ ৮ হাজার টাকা জব্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া থানার বড়কুঠি এলাকার সুলতানা (৩৯) এবং রাজশাহী জেলার পুঠিয়া থানার বানেশ্বর থান্দারপাড়া এলাকার মো. আসলাম আলী (৫৫)। সুলতানা বর্তমানে ডিঙ্গাডোবা ব্যাংক কলোনী এলাকায় এবং আসলাম আলী তেরখাদিয়া ডাবতলা এলাকায় বসবাস করেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী মনোয়ার হোসেন মানুর সঙ্গে প্রায় দুই মাস আগে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সুলতানার পরিচয় ও বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এর ধারাবাহিকতায় গত ৪ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সুলতানা তাকে বাসায় দাওয়াত দেন। বিকেল ৪টার দিকে মনোয়ার ডিঙ্গাডোবা ব্যাংক কলোনীতে সুলতানার ভাড়া বাসায় গেলে সেখানে আগে থেকেই আরও দুই ব্যক্তি অবস্থান করছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, বাসায় প্রবেশের পর দরজা বন্ধ করে মনোয়ারকে জোরপূর্বক আটকে রাখা হয়। এ সময় আসামিদের মধ্যে দুজন নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দেন এবং তাকে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর করে জখম করা হয়। পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে পরিবারের সদস্যদের ফোন করে টাকা আনতে বাধ্য করা হয়। এ সময় মনোয়ারের নগদ ১৩ হাজার ৫০০ টাকা ও বিকাশে ১৩ হাজার ২০০ টাকা, মোট ২৬ হাজার ৭০০ টাকা পাঠানো হয়। এর মধ্যে ২৬ হাজার ৩০০ টাকা এজেন্টের মাধ্যমে উত্তোলন করে নেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে আরও টাকা দাবি করা হলে তিনি অস্বীকৃতি জানান। একপর্যায়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে ১০০ টাকা মূল্যমানের তিনটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে তার স্বাক্ষর নেওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ঘটনার পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে রাজপাড়া থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী। মামলার তদন্তে গত ৫ অক্টোবর বিকেল পৌনে ৫টার দিকে ডিঙ্গাডোবা ব্যাংক কলোনীতে সুলতানার ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে ও আসলাম আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, তাদের হেফাজত থেকে দুটি স্মার্টফোন, একটি বাটন ফোন, ভুক্তভোগীর স্বাক্ষর করা তিনটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প এবং নগদ ও বিকাশ হিসাব থেকে উত্তোলন করা ২৬ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া সুলতানার দেখানো একটি শপিং ব্যাগ থেকে ১ লাখ ৮ হাজার টাকা বিধি অনুযায়ী জব্দ করা হয়। পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার আসলাম আলীর বিরুদ্ধে পুঠিয়া থানায় পেনাল কোড আইনে একটি মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতে সোপর্দ করে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

ভালো লাগলে, প্লিজ শেয়ার করুন

এ ধরনের আরো কিছু পোস্ট