জাতীয় তাফসির প্রতিযোগিতার বিভাগীয় পরীক্ষা ১০ অক্টোবর
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো আয়োজিত জাতীয় তাফসির প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে দেশের ৮ বিভাগ থেকে মোট ২ হাজার ৫৮০ জন নিবন্ধন করেছেন। আগামী ১০ অক্টোবর (শনিবার) সকাল ১০টায় দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে একযোগে প্রতিযোগিতার লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জনসংযোগ শাখা থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, নিবন্ধিতদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৯১০ জন, চট্টগ্রামে ৫৪৩, রাজশাহীতে ১৯৬, খুলনায় ১৭৯, সিলেটে ২৫০, বরিশালে ১৪৮, রংপুরে ১৬৭ এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ১৮৭ জন রয়েছেন। বিভাগীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠিতব্য লিখিত পরীক্ষার পূর্ণমান ৫০ এবং সময় এক ঘণ্টা। পরীক্ষায় এক কথায় উত্তর, সংক্ষিপ্ত উত্তর ও সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন থাকবে। পরীক্ষার্থীদের কলম সঙ্গে নিয়ে যেতে হবে এবং পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে নিজ নিজ কেন্দ্রে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানায়, লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের পরবর্তী ধাপে মৌখিক পরীক্ষার জন্য বিবেচনা করা হবে। লিখিত পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের পর ১০ অক্টোবর ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেজ ও সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কার্যালয়ের নোটিশ বোর্ডে ফল প্রকাশ করা হবে। মৌখিক পরীক্ষার সময়সূচি পরবর্তী সময়ে বিভাগীয় কার্যালয় থেকে জানানো হবে।
পরীক্ষার কেন্দ্রগুলো হলো- ঢাকা বিভাগে মদীনাতুল উলূম মডেল ইনস্টিটিউট কামিল মাদ্রাসা (মিশন মাদ্রাসা), চট্টগ্রাম বিভাগে নেছারিয়া কামিল (এমএ) মাদ্রাসা (একে খান মোড়), খুলনা বিভাগে খুলনা মেট্রোপলিটন জেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, রাজশাহী বিভাগে মদীনাতুল উলুম কামিল মাদ্রাসা, সিলেট বিভাগে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় কার্যালয় ও ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমি, বরিশাল বিভাগে কাশিপুর হাইস্কুল এন্ড কলেজ, রংপুর বিভাগে জেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং ময়মনসিংহ বিভাগে নাসিরাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানায়, বিভাগীয় পর্যায়ে নির্বাচিত ৪৮ জন বিজয়ীকে জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতার আগে ঢাকায় সাত দিনের ইন-হাউজ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রতিযোগিতায় নিবন্ধিত সবাইকে নির্ধারিত সময়ে নিজ নিজ পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানানো হয়।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন আরো জানায়, জাতীয় ও বিভাগীয় পর্যায়ে বিজয়ীদের মধ্যে মোট ১৬ লাখ ২০ হাজার টাকা নগদ পুরস্কার দেওয়া হবে। এর মধ্যে জাতীয় পর্যায়ে ৯ লাখ এবং বিভাগীয় পর্যায়ে ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা পুরস্কার হিসেবে বরাদ্দ রয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে দুটি গ্রুপে মোট ছয়জন বিজয়ী হবেন। প্রতিটি গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন পাবেন ২ লাখ টাকা, প্রথম রানার্সআপ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং দ্বিতীয় রানার্সআপ ১ লাখ টাকা। বিজয়ীদের নগদ অর্থের পাশাপাশি ক্রেস্ট ও সনদপত্র দেওয়া হবে। অন্যদিকে, আট বিভাগে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারীদের যথাক্রমে ২০ হাজার, ১৫ হাজার ও ১০ হাজার টাকা করে পুরস্কার দেওয়া হবে। বিভাগীয় পর্যায়ে মোট ৪৮ জন বিজয়ীকে পুরস্কৃত করা হবে। এর আগে গত ১৮ জুলাই ‘জাতীয় তাফসির প্রতিযোগিতা ২০২৬’-এর ঘোষণা দেয় ইসলামিক ফাউন্ডেশন। তিনটি গ্রুপে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে প্রতিযোগিতার নিবন্ধন চলে। সূত্র: কালের কণ্ঠ
