পদ্মার ঢেউয়ে নিঃস্ব জেলেদের খাদ্য ও অর্থ সহায়তা দিলেন ডিসি
স্টাফ রিপোর্টার
রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে হঠাৎ পদ্মায় উঠেছিল বড় বড় ঢেউ। মুহূর্তেই অনেক জেলের নৌকা ভেসে যায়, আবার কিছু নৌকা তলিয়ে যায় পদ্মার পানিতে। এমন ক্ষতিগ্রস্ত জেলে পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। গতকাল শনিবার দুপুর ১২টায় রাজশাহীর টি-বাঁধের বটতলা এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর বাড়িতে গিয়ে সরেজমিনে খোঁজ নেন জেলা প্রশাসক। তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের দুর্ভোগের কথা শোনেন এবং খাদ্যসামগ্রী ও চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা দেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে রাজশাহীর টি-বাঁধ এলাকায় পদ্মায় হঠাৎ পানির উচ্চতা বেড়ে যায়। সৃষ্টি হয় জলোচ্ছ্বাসের মতো বড় বড় ঢেউ। এতে তীরবর্তী কয়েকটি মাঝি ও জেলে পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একটি নৌকা ভেসে যায় এবং একটি নৌকা তলিয়ে যায়। পানিতে ডুবে যায় নৌকায় থাকা মাছ ধরার জাল ও অন্যান্য সরঞ্জামও। সেই রাতে নৌকা রক্ষা করতে গিয়ে আহত হন রিমোন হোসেন ও তার স্ত্রী। রিমোন হোসেন বলেন, ‘রাত ১০টার দিকে হঠাৎ দেখি, পদ্মায় সমুদ্রের মতো বড় বড় ঢেউ উঠছে। বাড়ির সামনে শাহজামাল মাঝির নৌকা ছিল। নৌকাটি ভেসে যেতে দেখে আমি আর আমার স্ত্রী সেটি আটকানোর চেষ্টা করি। তখন নৌকার ধাক্কায় আমার পা ভেঙে যায়। আমি ঘটনাস্থলেই অজ্ঞান হয়ে পড়ি। পরে আমাকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।’
জারজিস বলেন, ‘সর্বনাশা পদ্মা আমাকে যেন এক রাতেই নিঃস্ব করে দিয়েছে। আমার কষ্টের কথা শুনে ডিসি স্যার খোঁজ নিয়েছেন, খাবার ও আর্থিক সহযোগিতা দিয়েছেন। এই দুঃসময়ে তার এই সহায়তা আমাদের অনেক উপকার করেছে।’
রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বুধবার রাতে হঠাৎ জলোচ্ছ্বাসের ফলে পদ্মার টি-বাঁধ এলাকার মাঝি ও জেলে পরিবারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের সার্বিক খোঁজখবর নিতে এসেছি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য খাদ্যসামগ্রী ও চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘পদ্মার পানি বৃদ্ধি ও চরাঞ্চলের পরিস্থিতি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে পবা উপজেলার মধ্যচরে ক্ষতিগ্রস্ত ২০০ পরিবারের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।’ এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহা. সবুর আলী ও নেজারত ডেপুটি কালেক্টর মো. আরিফ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
