বাগমারায় বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে গ্রাহকদের চরম দূর্ভোগ
স্টাফ রিপোর্টার, বাগমারা
রাজশাহীর বাগমারায় পল্লী বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে এলাকাবাসী চরম দূর্ভোগে পড়েছেন। অসময়ে এলাকা ব্যাপক হারে লোড শেডিংয়ের কারণ হিসেবে পল্লী বিদ্যুতের অফিসে ঘাপটি মেরে থাকা কিছু কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে দোষছেন গ্রাহকেরা। বিগত ২৪’র জুলাই- আগস্টের গণঅভ্যত্থনের পর ভালো বিদ্যুতের সাফল্যতার হার অনেক গুন বেড়ে যায়। দীর্ঘ প্রায় দুই বছরে এই এলাকায় লোড শেডিং তেমন ছিল না। হঠাৎ করে গত কয়েকদিন ধরে বিদ্যুতের লোড শেডিংয়ের চরম আকার ধারন করেছে। দেশের অন্য এলাকায় বিদ্যুতের এমন লোড শেডিং নেই। অথচ বাগমারায় এমনটি কোন কারণে ঘটছে তা খতিয়ে দেখতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসী।
এলাকাবাসী জানান, গত ৩/৪ দিন যাবত নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি -১ এর বাগমারা জোনাল অফিসের আওতায় দিনে রাতে ২৪ ঘন্টার অর্ধেক সময়ই বিদ্যুৎ থাকছে না। রাতের বেলা এই দূর্ভোগ আরো বেড়ে যায়। এখানে সরকারের গুরুত্বপূর্ন অফিস- আদালত, কল-কারখানা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, বিভিন্ন স্কুল, কলেজের শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, কৃষক ও সর্বসাধারণকে পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি। সামান্য বৃষ্টি বা একটু জোরে বাতাস হলেই নাটোর পল্লী বিদ্যুতের জাতীয় গ্রীড ফল্টের অজুহাতে বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। মাঝে মাঝে লোড শেডিংয়ের মাত্রা ব্যাপক বেড়ে যায়।
তখন কেন্দ্রীয় সঞ্চালন লাইনসহ অন্যান্য লাইন মেরামতের অজুহাত দেওয়া হয়। বর্তমানে সন্ধ্যার পর এক টানা বিদ্যুৎ না পেয়ে সকল স্তরের জনসাধারণ দূর্ভোগ পোহাচ্ছেন। নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি বাগামারা জোনাল অফিসের বিগত দিনের ডেপুটি জেলারেল ম্যানেজার(ডিজিএম) মোস্তফা আমিনুর রাশেদ চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতার পরিচয়ে যথেষ্ট বরাদ্দ নিয়েছেন। কিন্তু তিনি গত দেড় দুই মাস আগে এখান থেকে যাওয়ার পরপরই এলকাবাসী চরম লোড শেডিংয়ের কবলে পড়েছেন বলে এলাকাবাসী দাবি করছেন। এছাড়া অফিসে ঘাপটি মেরে থাকা কিছু অসৎ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক দূর্নীতি, ঘুষ বানিজ্যের একাধিক অভিযোগ পল্লী বিদ্যুতের সংশ্লিষ্ট বিভাগ সহ বিভিন্ন দপ্তরে থাকলেও কোন প্রতিকার পাচ্ছে না এলাকাবাসী।
এতে কতিপয় অসৎ ব্যক্তিদের দ্বারা লাঞ্চিত হচ্ছেনও অফিসের প্রগতিশীর সৎ অফিসারা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে বলে ভুক্তভোগী মহল দাবি করেছেন। তাদের মতে, বাগমারা জোনাল কার্যালয়ের স্বেচ্ছাচারিতার মধ্যে রয়েছে, বিদ্যুৎ ইউনিটের বিপরীতে বিদ্যুতের বিল বেশি করে দেওয়া, অযুক্তিক মিটার ভাড়া, পিএপজি সারচার্জ, লাইফ লাইন নামে ধাপে ধাপে অধিক বিল চার্জের নামে প্রতি মাসে টাকা আদায় সহ প্রভৃতি দূর্নীতির আকড়ায় পরিনত হয়েছে এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বাগমারা জোনাল কার্যালয়ের ডেপুটি জেলারেল ম্যানেজার(ডিজিএম) আসাদুজ্জামান জানান, জাতীয় গ্রীডে সমস্যায় চাহিদার কম বিদ্যুতে পাওয়ায় লোড শেডিং হচ্ছে। চাহিদা অনুযায়ী বিদু্যুৎ মিলছে না। এছাড়া অন্যান্য অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন।
