অনলাইন হাজিরা দৃষ্টান্ত প্রধানমন্ত্রীর : সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সর্বমহলে প্রশংসিত নতুন ইতিহাস গড়লেন তারেক রহমান
দেশের অতীতের প্রধানমন্ত্রীরা তার দায়িত্ব পালনের সময় তার নিজ দফতর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রচলিত কাগজের খাতায় স্বাক্ষর করতেন। এই প্রথম সরকারি দাফতরিক কাজে শৃঙ্খলার ক্ষেত্রেও দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রী তার নিজ দফতরে প্রবেশের সময় প্রচলিত কাগজের খাতার পরিবর্তে নিয়মিত ডিজিটাল বা অনলাইন হাজিরা প্রদান করছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রবেশের সময় অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেও নিয়মিত অনলাইন হাজিরা দিচ্ছেন। দেশের ইতিহাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্মরণীয় হয়ে থাকছেন। দিনের কাজ শেষে কার্যালয় ছাড়ার সময়ও নির্ধারিত পদ্ধতিতে বের হওয়ার হাজিরা দিয়ে অফিস ত্যাগ করছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান সামনে রেখে একাধিক ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারি গাড়ি, চালক ও জ্বালানি ব্যবহার না করে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চলাচল, প্রটোকল কমানো এবং শনিবারেও অফিস করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নতুন প্রধানমন্ত্রী। তার এসব উদ্যোগ সারাদেশে প্রশংসিত হচ্ছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যতিক্রমী সব উদ্যোগ নিয়ে আলোচনায় এসেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে জনকল্যাণমুখী ও সাহসী কিছু পদক্ষেপ নেয়ায় সর্বমহলে প্রশংসিত হচ্ছে তার সরকার। বিশেষ করে নির্বাচনী ইশতেহারে দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং প্রশাসনিক ব্যয় সংকোচনে তার কঠোর অবস্থান সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়েছে। প্রশাসন বিশেষজ্ঞদের ও সরকারি সাধারণ কর্মচারীদের মতে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ ও কঠোর নির্দেশনা জনজীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে প্রশাসনে।
এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী স্যার সচিবালয়ে প্রবেশের সময় অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতো নিজেও নিয়মিত অনলাইন হাজিরা দিচ্ছেন। এটা যুগান্তকারী অনুশাসন। তিনি জনগণের সরকারপ্রধান। জনগণের মতো অফিস করতে ভালোবাসেন। প্রধানমন্ত্রী মাঠ প্রশাসন সংস্কার ও আধুনিকায়নে নির্দেশনা দিয়ে বলেছেন সরকার জনগণের, আর প্রশাসনের কর্মকর্ত-কর্মচারীরা যেন জনগণের সেবার জন্য কাজ করে। তিনি আরো বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যুগান্তকারী পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়নের জন্য মাঠ প্রশাসনে নির্দেশনা দিয়েছি। সরকারি সেবা থেকে জনগণকে বঞ্চিত করা যাবে না। দেশের ইতিহাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
মাননীয় বা অন্য কোনো সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহার না করার সরকারি সিদ্ধান্ত নিজের দফতর থেকেই বাস্তবায়ন শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা ও আড়ম্বর কমানোর উদ্যোগ দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা ও অপ্রয়োজনীয় আড়ম্বর কমাতেও এরই মধ্যে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারি কার্যক্রম ও প্রচারণায় তার ছবি ব্যবহার না করা, প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকলে গাড়ির সংখ্যা কমিয়ে আনা এবং তার চলাচলের সময় সাধারণ মানুষের জন্য ট্রাফিক সিগন্যাল বন্ধ না রাখার মতো উদ্যোগ এরই মধ্যে নেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী দেশে ও দেশের বাইরে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান ছাড়া পতাকাবাহী গাড়ি ব্যবহার করছেন না। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এমন একটি বার্তা দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে যে, রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তি বিশেষ সুবিধা বা বিশেষ সম্বোধনের পরিবর্তে নিয়ম ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার অংশ হিসেবেই দায়িত্ব পালন করবেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সব ধরনের ফাইল, নথি ও দাফতরিক কার্যক্রমে তার পদবির আগে ‘মাননীয়’ শব্দ বাদ দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর আগে, গত বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা পরিপত্রে বলা হয় প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর সঙ্গে দাফতরিক যোগাযোগ, নথিপত্র ও সারসংক্ষেপ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তাদের পদবির আগে ‘মহামান্য’ ‘মাননীয়’ বা অন্য কোনো সম্মানসূচক শব্দ লিখিতভাবে ব্যবহার করা যাবে না। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের এই নির্দেশনা কেবল কাগজে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রধানমন্ত্রী নিজের কার্যালয়েই তা বাস্তবায়ন শুরু করেছেন। তার কাছে উপস্থাপন করা ফাইল ও অন্যান্য সরকারি নথিতে ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী’ না লিখে শুধু ‘প্রধানমন্ত্রী’ ব্যবহারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ‘মাননীয়’ শব্দ বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ধারাবাহিক ইতিবাচক উদ্যোগের অংশ। এর মাধ্যমে পদমর্যাদার আনুষ্ঠানিক বিশেষণের চেয়ে দায়িত্ব, জনসেবা এবং দেশ ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতাকে সামনে আনার বার্তা দিচ্ছেন তিনি। একই সঙ্গে রাষ্ট্র পরিচালনায় দায়িত্ব নয়, প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীলতাই যে মুখ্য, সেই দৃষ্টিভঙ্গিও তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী। দাফতরিক শৃঙ্খলার ক্ষেত্রেও নজির তৈরির চেষ্টা করছেন প্রধানমন্ত্রী। কার্যালয়ে প্রবেশের সময় অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতো তিনিও নিয়মিত অনলাইন হাজিরা দিচ্ছেন। দিনের কাজ শেষে কার্যালয় ছাড়ার সময়ও নির্ধারিত পদ্ধতিতে বের হওয়ার হাজিরা দিয়ে অফিস ত্যাগ করছেন। সরকারপ্রধান হয়েও দাফতরিক নিয়ম নিজের ক্ষেত্রে প্রয়োগের মাধ্যমে প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ম মেনে চলার বার্তা দিতে চাইছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রশাসনে সময়ানুবর্তিতা, জবাবদিহি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের অংশ। রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকা ব্যক্তিই যখন সাধারণ দাফতরিক নিয়ম মেনে চলেন, তখন প্রশাসনের অন্যদের কাছেও একই নিয়ম অনুসরণের প্রত্যাশা আরো স্পষ্ট হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান সামনে রেখে একাধিক ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এখন পর্যন্ত নতুন প্রধানমন্ত্রী ব্যতিক্রমী যে সিদ্ধান্তগুলো নিয়েছেন সেগুলো হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার ব্যক্তিগত গাড়ি, নিজস্ব চালক ও নিজের কেনা জ্বালানি ব্যবহার করবেন তার চলাচলের জন্য। জনদুর্ভোগের কথা মাথায় রেখে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহরে আগে ১৩-১৪টি গাড়ি থাকতো সেই বহরে গাড়ি কমিয়ে ৪টিতে নামিয়ে আনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর চলাচলের সময় সড়কের দুই পাশে পুলিশের সারিবদ্ধ অবস্থান নিতে হতো আগে, সেই প্রথা বাতিল করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান ছাড়া সাধারণ চলাচলে গাড়িতে জাতীয় পতাকা ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। জনভোগান্তি কমাতে মন্ত্রিসভার বৈঠক অধিকাংশ সময় সচিবালয়ে আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এছাড়া প্রশাসনিক কাজে গতি আনতে শনিবারও অফিস করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গত বুধবার সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মাঠ প্রশাসনকে অধিকতর জনবান্ধব, স্বচ্ছ, দক্ষ, সেবামুখী ও জবাবদিহিমূলক করার লক্ষ্যে সরকার বিদ্যমান নীতি ও ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয় সংস্কার ও আধুনিকায়নের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। মাঠ প্রশাসনকে জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক করার লক্ষ্যে বর্তমানে সেবা সহজীকরণ, ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার, কর্মসম্পাদন পরিবীক্ষণ, অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তি, পরিদর্শন ও তদারকি, গণশুনানি কার্যক্রম, তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়ন এবং নাগরিক সেবার মানোন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। তিনি বলেছেন, এরই অংশ হিসেবে ২০২৬ সালে সেবা সহজীকরণ নির্দেশিকা ২০২৬ এবং সরকারি দপ্তরের ওয়েবসাইট নির্দেশিকা, ২০২৬ এবং জেলা প্রশাসকদের কার্যক্রম মূল্যায়ন নির্দেশিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। এছাড়াও ডি-নথি, আইবাস, ই-নামজারি, ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা, ই-জিপি, অনলাইন জিডি, ই-রিটার্ন, ই-পর্চা, অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর আদায় এবং হেল্পলাইন নাম্বার ৯৯৯, ৩৩৩সহ নানাবিধ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এছাড়া সরকারি কর্মসম্পাদনের অধিকতর কার্যকর পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়নের জন্য গভর্নমেন্ট পারফরম্যান্স মনিটরিং সিস্টেম (জিপিএমএস) চালু করা হয়েছে এবং ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য সরকারি কর্মসম্পাদন পরিবীক্ষণ পদ্ধতি সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। মাঠ প্রশাসনের কার্যক্রমকে অধিকতর স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার লক্ষ্যে প্রতি মাসে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বিভাগের সঙ্গে অনলাইনে সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, ভবিষ্যতে মাঠ প্রশাসনকে আরো জনবান্ধব ও নাগরিককেন্দ্রিক করার লক্ষ্যে সেবা প্রদানের প্রক্রিয়া আরো সহজীকরণ, প্রযুক্তিনির্ভরতা বৃদ্ধি, কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও তথ্যপ্রকাশ, অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি এবং কর্মসম্পাদনের ফলাফলভিত্তিক পরিবীক্ষণ জোরদার করার মাধ্যমে বিদ্যমান নীতি ও ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় সংস্কার ও আধুনিকায়ন অব্যাহত থাকবে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জেলা ম্যাজিস্ট্রেসি অধিশাখার যুগ্ম সচিব তানভীর আহমেদ ইনকিলাবকে বলেন, সার্কুলারটি ইতোমধ্যে মাঠ প্রশাসনের সমস্ত জায়গায় পৌঁছে গেছে। আজ আমরা দু-একটি চিঠিপত্র পেয়েছি, সেখানে পরিপত্রের বাস্তবায়ন লক্ষ করা গেছে। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্টের আগে মহামান্য এবং প্রধানমন্ত্রীর আগে মাননীয় শব্দটি পরিহার করার জন্য মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ থেকে যে পরিপত্র জারি করা হয়েছে, সেটি আজ বৃহস্পতিবার থেকেই পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। কোনো অফিস থেকে এর ব্যত্যয় লক্ষ করা গেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। সূত্র: ইনকিলাব
