সম্পাদকীয়

ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে

দেশ ও সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র অব্যাহত আছে। ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের পতন ও তার সাঙ্গ-পাঙ্গসহ ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর পরই ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। বহুমুখী ও বহুপক্ষীয় এ ষড়যন্ত্র অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে যেমন হয়েছে, তেমনি বিপুল ভোটে নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধেও হচ্ছে। ফ্যাসিস্ট ও ঘাতক দল হিসেবে কুখ্যাত আওয়ামী লীগ নানা দিক থেকে দেশ ও সরকারকে বিব্রত, ক্ষতিগ্রস্ত ও হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছে। দলটির ভারতীয় বন্ধু মোদি সরকার তাকে সর্বোতভাবে প্রশ্রয় ও সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। মোদি সরকারের অবস্থান পুরোপুরি বাংলাদেশ ও বর্তমান সরকারের বিপরীতে। এসব আমাদেরই অভিমত নয়, তাবৎ পর্যবেক্ষকেরই পর্যবেক্ষিত অভিমত। নির্বাচিত সরকার তার মেয়াদকালের মাত্র ছয় মাস অতিক্রম করেছে। এই ছয় মাস আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ— উভয় ক্ষেত্রে অত্যন্ত কঠিন সময় হিসেবে পরিচিহ্নিত হয়েছে। ইরান যুদ্ধের প্রত্যক্ষ ও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার শিকার হয়েছে দেশ ও নতুন সরকার। জ্বালানি তেল, গ্যাস, বিদ্যুতের হাহাকার সৃষ্টি হয়েছি। সারের সংকট দেখা দিয়েছে। কল-কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। কৃষিতে বিরূপ প্রভাবের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। মানুষের দুঃখ-দুর্ভোগ, হয়রানি সীমা ছাড়িয়ে গেছে। যে কোনো সরকারের পক্ষে এ পরিস্থিতি মোকাবিলা করা খুবই কঠিন। ফ্যাসিস্ট সরকার একটা ভঙ্গুর অর্থনীতি রেখে গেছে। এই অর্থনীতি দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়া অসম্ভব। সরকার যথাসাধ্য চেষ্টা করছে পরিস্থিতি উত্তরণের। সরকারের জন্য এখন নাজুক সময়। যড়যন্ত্রকারীরা এই সময়টাকেই কাজে লাগাতে চাইছে। ভারতে পালতক দেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দিল্লিতে যেসব তৎপরতা ইতোমধ্যে দেখিয়েছে এবং ভারত সরকার তাতে সহায়তা দিয়েছে, তা সরাসরি বাংলাদেশ ও তার সরকারের বিরুদ্ধে গেছে। ভারত বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানোর মতো ধৃষ্টতাও দেখিয়েছে। বাংলাদেশ এ সবের যুৎসই জবাব দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর আপাতত অনিশ্চিত হওয়ার কারণ যে ভারতের বেপরোয়া আচরণ, তাতে পর্যবেক্ষকদের মধ্যে দ্বিমত নেই। কোনো দেশের বিরুদ্ধে এবং তার সরকারের বিরুদ্ধে যড়যন্ত্র হতেই পারে। অভ্যন্তরীণভাবে যড়যন্ত্র হতে পারে। আবার আন্তর্জাতিকভাবেও হতে পারে। আমাদের দেশ ও সরকার যেহেতু এ আশংকা থেকে মুক্ত নয়, সুতরাং জাতীয়ভাবে আমাদের সতর্ক ও সাবধান হতে হবে। প্রশ্ন তুললেই হবে না, স্বৈরাচারী, স্বৈরাচারীর দোসরদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। সরকারকে আগে যড়যন্ত্র কোথা থেকে হচ্ছে, কীভাবে হচ্ছে, তা শনাক্ত করতে হবে। তারপর যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছেন, বিভ্রান্তি ছড়িয়ে কেউ অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। সরকারকে খেয়াল রাখতে হবে, রাস্তাঘাটে কেউ বা কোনো পক্ষ যেন অরাজকতা সৃষ্টি করতে না পারে। বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত করার কোনো অভিসন্ধি ও যড়যন্ত্র হলে তা রুখে দিতে হবে। দেশের জন্য সরকারি দল ও বিরোধী দলের দায়িত্ব সমান। দেশে একটি নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। একে সুরক্ষা ও সহযোগিতা করতে হবে। ফ্যাসিস্ট-স্বৈরাচারীদের জনগণ চিরতরে প্রত্যাখান করেছে। তারা যাতে আর প্রত্যাবর্তন না করতে পারে, রাজনীতি না করতে পারে, তা সরকারি দল, বিরোধী দল— উভয়কে নিশ্চিত করতে হবে। দেশের সমস্যা-সংকট এবং যড়যন্ত্র-চক্রান্তের কথা জনগণকে অবহিত করতে হবে। তাতে জনগণ সচেতন ও সক্রিয় হবে, সরকারের পক্ষে এসে দাঁড়াবে। জাতীয় ঐক্য এবং জনগণকে সক্রিয় করা এ মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি।

ভালো লাগলে, প্লিজ শেয়ার করুন

এ ধরনের আরো কিছু পোস্ট