শরিফুলের ৬ উইকেটের পরও অস্ট্রেলিয়ার লিড
একাদশে ফিরে দুর্দান্ত বোলিং উপহার দিলেন শরিফুল ইসলাম। বাঁহাতি পেসার একাই তুলে নিলেন ৬ উইকেট। সর্বনাশ যা হওয়ার হয়েছে ব্যাটিংয়ে। বাংলাদেশের দুঃস্বপ্নের ব্যাটিংয়ের সুযোগে প্রথম ইনিংসে বড় লিডের পথে অস্ট্রেলিয়া। ম্যাকাই টেস্টের প্রথম দিন পড়েছে ১৮ উইকেট। বাংলাদেশকে ৬৪ রানে গুটিয়ে ৮ উইকেটে ১৬৫ রান তুলে দিন শেষ করেছে অস্ট্রেলিয়া। হাতে ২ উইকেট নিয়ে এরই মধ্যে ১০১ রানের লিড নিয়েছে স্বাগতিকরা। ১১ ওভারে ৩৫ রানে ৬ উইকেট নিয়েছেন শরিফুল। পাঁচটিই নিয়েছেন ফিল্ডারের সহায়তা ছাড়াই- তিনটি বোল্ড, দুটি এলবিডব্লিউ। অবিচ্ছিন্ন নবম উইকেটে ১৭ রানের জুটিতে ব্যাট করছেন ক্যামেরন গ্রিন (৫১) ও নাথান লায়ন (১০)। দলীয় ২২ রানে ম্যাট রেনশকে স্লিপে ক্যাচ বানিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে প্রথম আঘাত হানেন তাসকিন আহমেদ। তিন বছর পর খেলতে নেমে ৮ রান করেন রেনশ।
এরপরের গল্পটা শরিফুলের। ট্রাভিস হেড ও মার্নাস লাবুশেনকে বোল্ড করেন তিনি। ৪১ রানে তৃতীয় উইকেট হারানোর পর ১১২ বলে ৭৭ রানের জুটি গড়েন স্মিথ ও ক্যামেরন গ্রিন। ৭৪ বলে ৬ চারে ৪২ রান করা স্মিথকে এলবিডব্লিউ করে জুটি ভাঙেন শরিফুল। ২৬তম ওভারে ১১৮ রানে অস্ট্রেলিয়া চতুর্থ উইকেট হারায় অজিরা। এরপর অ্যালেক্স কেয়ারিকে থিতু হতে দেননি মেহেদি হাসান মিরাজ। পরের ওভারে জোড়া আঘাত হানেন শরিফুল। বাউ ওয়েবস্টাকে করেন এলবিডব্লিউ। এক বল পর শর্ট ডেলিভারিতে প্যাট কামিন্স বল তুলে দেন আকাশে। পিছন থেকে সহজতম ক্যাচ নেন লিটন দাস। নিজের পরের ওভারের প্রথম বলে মিচেল স্টার্কের স্টাম্প উড়িয়ে দেন শরিফুল। ৪ উইকেটে ১৪৫ থেকে মুহূর্তেই স্কোর হয়ে যায় ৮ উইকেটে ১৪৮। ৩ রানের মধ্যে ৪ উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। অলআউটের ঝুঁকি এড়িয়ে বাকি সময় পার করে দেন গ্রিন ও লায়ন।
এর আগে ডারউইনে অবিশ্বাস্য জয় উপহার দেওয়া বাংলাদেশ ম্যাকাইয়ে উপহার দেয় দুঃস্বপ্নের ব্যাটিং। নতুন বলে মিচেল স্টার্ককে সামলানোর কোনো পথই যেন জানা ছিল না বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের। ম্যাকাই টেস্টের প্রথম ইনিংসে স্রেফ ৩৪ ওভারে ৬৪ রানে গুটিয়ে গেছে বাংলাদেশ। ১০ ওভারে ১২ রানে ৬ উইকেট নিয়েছেন স্টার্ক। সর্বোচ্চ ২৫ রানের জুটি এসেছে শেষ উইকেট থেকে। যেখানে শরিফুল ইসলামের অবদান ইনিংস সর্বোচ্চ ১৪ রান। ২৬ বলে ১১ রানে অপরাজিত থেকে যান তাইজুল ইসলাম। শূন্য রানে ফেরেন চার জন- সাদমান ইসলাম, তানজিদ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন দাস। গোল্ডেন ডাকের তেতো স্বাদ পান সাদমান ও শান্ত। দুই বল টেকেন তানজিদ, একবার জীবন পাওয়া লিটনের মেয়াদ ছিল পাঁচ বল। সূত্র: ইনকিলাব
