রামেক হাসপাতাল  অনিয়ম ও অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধের দাবিতে ছাত্রদলের স্মারকলিপি

স্টাফ রিপোর্টার

রাজশাহী মেডিকেল হাসপাতালের চলমান নানা অনিয়ম, রোগীদের চরম ভোগান্তি এবং হাসপাতাল চত্বরে বিদ্যমান অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধের দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করেছে রাজশাহী মহানগর ছাত্রদল। গতকাল বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার পি কে এম মাসুদ উল ইসলামের হাতে এই স্মারকলিপি তুলে দেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, সাম্প্রতি রামেক হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশ, প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসা সেবার মান নিয়ে সাধারণ জনগণের মধ্যে উদ্বেগ, অসন্তোষ এবং আস্থার সংকট সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা, জনবল সংকট এবং কিছু অসাধু চক্রের কারণে রোগী ও তাদের স্বজনরা প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন। কিছু দায়িত্বপ্রাপ্ত নার্স, ওয়ার্ডবয় ও চিকিৎসকের অসহযোগিতামূলক আচরণ এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণে সেবা ব্যাহত হওয়া। বহির্বিভাগে (আউটডোর) চিকিৎসাপ্রত্যাশীদের দীর্ঘ অপেক্ষার পরও কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়া এবং বিশেষ সুবিধায় নিয়মবহির্ভূতভাবে সেবা গ্রহণের কারণে বৈষম্য। হাসপাতালের ওয়ার্ড, ওয়াশরুম ও করিডোরে পরিচ্ছন্নতার অভাব এবং রোগীদের সরবরাহকৃত খাদ্যের নিম্নমান। চিকিৎসকদের নির্ধারিত সময়ে ওয়ার্ড রাউন্ড সম্পন্ন না হওয়া, যার ফলে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা কার্যক্রম বিলম্বিত হওয়া। হৃদরোগ ও স্ট্রোকসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে তীব্র শয্যা সংকট, যার ফলে মেঝেতে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হওয়া এবং সিসিইউসহ বিশেষায়িত ইউনিটে সক্ষমতার অভাব। দালালচক্র এবং অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের অনিয়ন্ত্রিত কার্যক্রমে রোগী ও স্বজনদের প্রতারণা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। জরুরি বিভাগে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন, নেবুলাইজেশন এবং তাৎক্ষণিক চিকিৎসা উপকরণের ঘাটতি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা যন্ত্রপাতি অচল পড়ে থাকা এবং তা মেরামতে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কিছু আনসার সদস্যের রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং অসাধু চক্রের সঙ্গে তাদের আঁতাত করছে। হাসপাতাল সংলগ্ন অ্যাম্বুলেন্স সেবায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, মানহীন যানবাহন ব্যবহার এবং বাইরে থেকে অ্যাম্বুলেন্স আনলে বাধা প্রদান ও অসদাচরণ করা হচ্ছে।

সমস্যা সমাধানে ছাত্রদলের প্রস্তাবিত ৯ দফা দাবি তুলে ধরে বলেন, রোগীদের অভিযোগ গ্রহণ ও দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ২৪ ঘণ্টা কার্যকর হটলাইন এবং আধুনিক অভিযোগ ব্যবস্থাপনা সেল চালু করা।  বহির্বিভাগে বসার জায়গা, অপেক্ষাকক্ষ ও কাউন্টার বৃদ্ধি করে সবার জন্য সমান ও স্বচ্ছ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা।

এছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলোতে শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি, এনআইসিইউ ও সিসিইউ এর সক্ষমতা সম্প্রসারণ এবং অচল যন্ত্রপাতি দ্রুত সচল করা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং অভিযুক্ত আনসার বা কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া। দালালচক্র ও অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে স্থায়ী ও কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা। অ্যাম্বুলেন্স সেবাকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে অ্যাপভিত্তিক অনুমোদিত অ্যাম্বুলেন্স ব্যবস্থা চালু অথবা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে নির্ধারিত ভাড়ায় বেসরকারি সেবা নেওয়ার নিয়ম করার দাবি জানানো হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক রাকিব রায়হান রবিন, সদস্য সচিব ইমাদুল হক লিমন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক খালিদ বিন ওয়ালিদ আবিরসহ রাজশাহীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রদলের অন্যান্য নেতাকর্মীরা।

ভালো লাগলে, প্লিজ শেয়ার করুন

এ ধরনের আরো কিছু পোস্ট