সম্পত্তি বুঝে পেতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন ভূক্তভোগী মনোয়ারা দিগর
স্টাফ রিপোর্টার
রাজশাহী জেলার বাঘা থানার অন্তর্গত, যার মৌজা নূরনগর, জে. এল.নং ১২৩, আর.এস খতিয়ান নম্বর যথাক্রমে ৯৪,৯৫ ও ৯৭। যার প্রজা আখের উদ্দিন দিগরদের নামে আর.এস রেকর্ড শুদ্ধভাবে প্রকাশিত থাকলেও এখনও দখল পাচ্ছেননা বলে অভিযোগ করেছেন মনোয়ারা বেগম দিগররা। এ নিয়ে তিনি স্থানীয় চেয়ারম্যান ও স্থানীয় গণমান্য ব্যক্তিবর্গদের বলেও কোন সমাধান পাননি। এ নিয়ে গত ৪ আগস্ট বাঘা উপজেলা আড়ানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এর নিকট জাপজোক করে জমি বুঝিয়ে দেয়ার জন্য আবেদন ও নিয়মানুযায়ী অর্থ প্রদান করলেও বিষয়টি নিয়ে কালক্ষেপন করছেন।
মনোয়ারা বলেন, আমাদের নিজ নামে নামজারী ও হালসন নাগাদ খাজনা চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, আমার বাড়ি বাঘা থানার ঝিনা গ্রামে, আমার পিতা-মৃত আখের উদ্দিন। আমি এবং আমরা পৈত্রিক সুত্রে এই জমির মালিক। আমরা ও আমাদের(বোন, ভাইয়ের সন্তানেরা ও আরেক মৃত বোনের সন্তানেরা) নামীয় উপরোক্ত খতিয়ানগুলির প্রত্যেকটিতে আমার পিতা এবং অন্যান্য ওয়ারিশগনের দাদা ও নানা ৩ আনা ৪ গন্ডা করে মালিক হয়েছি।
৩টি খতিয়ানে মোট প্রাপ্ত সম্পত্তি .৯৪২০ একর, তার মধ্যে আমরা মৃত পিতার সম্পত্তি ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত হয়ে সকল শরিকগণ নিজ নিজ নাম নামজারী করে .৫১৩৫ একর সম্পত্তি প্রাপ্ত হই, এবং বাকী .৪২৮৫ একর সম্পত্তি অন্যের দখলে আছে। উক্ত বেদখলকৃত জমি অন্যের নামে খারিজ খাজনা থাকায় অংশ মোতাবেক সম্পত্তি পুরোটাই খারিজ করা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, বেদখলকৃত সম্পত্তি বেড়েরবাড়ী গ্রামের মৃত আমিন উদ্দিন ব্যাপারী ছেলে সৈয়দ আলী ব্যাপারী, নূরনগর গ্রামের বদর উদ্দিন প্রামানিক এর ছেলে আজিজুল হক প্রামানিক, পাঁকা গ্রামের আব্দুল করিম সরকারের স্ত্রী মাহমুদা খাতুন, একই গ্রামের মোসলেম উদ্দিন এর স্ত্রী মফেজান বিবি, নুরনগর গ্রামের পিয়ার আলীর স্ত্রী মঞ্জুয়ারা বেগম এবং একই গ্রামের মৃত আবেদ আলী ছেলে পতিত আওয়ামীগ ক্যাডার, ভূমিদস্যু ও মাদক ব্যাবসায়ী বজলুর রহমান, কায়মুদ্দিন এর স্ত্রী রুজিয়া, ইদুমাল প্রামানিক এর ছেলে তছির উদ্দিন প্রামানিক, মালেক এর ছেলে সোহরাব আলী মিয়া, ঘেতু সরদারের স্ত্রী বিমল বেওয়া ও আজিজুল হক প্রামানিক এর স্ত্রী সাহারা বানু তাদের অংশের সাথে আমাদের সম্পত্তিও জোরপূর্বক ভোগ দখল করছেন। আমাদের সম্পত্তি মাপ যোগ অন্তে তাদের নিকট হতে সকল ওয়ারিশগণের প্রাপ্ত সম্পত্তির দখল বুঝিয়ে দেওয়ার দাবী জানাচ্ছি। সেইসাথে ঐ জবরদখলকারীদের বিচার দাবী করছি।
তিনি আরো উল্লেখ করেন, অত্র মৌজায় ১০নং খতিয়ানভূক্ত সম্পত্তির খারিজ বাতিলের জন্য জেলা প্রসাশক এর মাধ্যমে আবেদন করলে আবেদনটি ডেপুটি কমিশনার মঞ্জুর করে ০৫.০৩.৮১০০.০০০.০১৫.০৮.০০১০.২৬.৩৮ স্মারক মুলে বাঘা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবরে গত ২২-০৭-২০২৬ইং তারিখে প্রেরণ করেছেন। এ নিয়ে কোন প্রকার সুরাহা না হলেও বজলুর রহমান অত্র খতিয়ান ভূক্ত সম্পত্তিতে থাকা আমবাগান এর আম গাছ মঙ্গলবার থেকে কাটা শুরু করেছেন। বাধা দিয়েও কোন লাভ হয়নি। ঐ খতিয়ানে তার কোন প্রকার অংশ নাই বলে জানান মনোয়ারা। শুক্রবার বিকেলে এ সকল বিষয়ে জানতে বজলুর রহমানকে মোবাইলে বার বার কল করলেও তার ফোনটি বন্ধ থাকায় কোন বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
