রোনালদোর পর্তুগালের বিদায়,শেষ মুহুর্তের গোলে কোয়ার্টারে স্পেন
নতুন প্রভাত ডেস্ক
দুই দলই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমিয়ে তুলেছিল ম্যাচ।গোল রক্ষক দৃঢ়তায় অবশ্য জালের দেখা পাচ্ছিল না কোন দলই।অতিরিক্ত সময়ের দিকে গড়াচ্ছিল ম্যাচ।
তবে যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে গোল করে বসে স্পেন।সমতায় ফেরার জন্য যথেষ্ট সময় আর ছিল না। সেই গোলেই ব্যবধান গড়ে দিল । শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলে হেরে গেছে পর্তুগিজরা।
শুরু থেকেই দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও প্রথম সুযোগটি তৈরি করে স্পেন। ম্যাচের অষ্টম মিনিটে বল নিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েছিলেন মিকেল ওইয়ারজাবাল। তবে লক্ষ্যভ্রষ্ট শট নেন তিনি, ফলে অল্পের জন্য রক্ষা পায় পর্তুগাল।
এর জবাব দিতে বেশি সময় নেয়নি পর্তুগাল। রোনালদোর জোরালো শট দুর্দান্ত দক্ষতায় কর্নারের বিনিময়ে ঠেকিয়ে দেন স্প্যানিশ গোলরক্ষক উনাই সিমন। কিছুক্ষণ পর পর্তুগালের গোলরক্ষক দিয়েগো কস্তাও টানা দুটি সেভ করে দলকে বিপদমুক্ত রাখেন।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে গোলের সবচেয়ে কাছাকাছি পৌঁছায় পর্তুগাল। ৩৮ মিনিটে জোয়াও ফেলিক্সের হেড ফিরিয়ে দেন উনাই সিমন। ফিরতি বলে রোনালদোর দ্রুত নেওয়া প্রচেষ্টাও রুখে দেন তিনি। এরপর ৪১ মিনিটে নুনো মেন্দেসের শক্তিশালী শট পেদ্রো পোরোর মাথায় লেগে দিক বদলে পোস্টে আঘাত হানে। ভাগ্যের সহায়তায় নিশ্চিত গোল এড়ায় স্পেন। ফলে বিরতিতে দুই দলই মাঠ ছাড়ে গোলশূন্য অবস্থায়।
দ্বিতীয়ার্ধেও দুই দলের লড়াই ছিল সমানতালে। ৪৮ মিনিটে রোনালদোকে ফাউল করলে ভালো জায়গা থেকে ফ্রি-কিক পায় পর্তুগাল। তবে ব্রুনো ফার্নান্দেসের নেওয়া শট সহজেই ধরে ফেলেন উনাই সিমন।
ম্যাচের গতি বাড়াতে ৭১ মিনিটে জোড়া পরিবর্তন আনেন পর্তুগাল কোচ রোবের্তো মার্তিনেজ। জোয়াও ফেলিক্স ও জোয়াও ক্যানসেলোর জায়গায় মাঠে নামেন রাফায়েল লেয়াও এবং ডিয়োগো দালোট। অন্যদিকে ৭৩ মিনিটে লামিনে ইয়ামালের দারুণ ফ্রি-কিকও অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন দিয়েগো কস্তা।
শেষ ১৫ মিনিটে পর্তুগাল একের পর এক আক্রমণ চালায়। ভিতিনিয়ার দূরপাল্লার শট রক্ষণভাগে আটকে যায়, আর ফিরতি বলে ব্রুনো ফার্নান্দেসের প্রচেষ্টা সাইড নেটে গিয়ে লাগে। ফলে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়নি পর্তুগিজরা।
ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর অপেক্ষায়, তখনই আসে স্পেনের সোনালি মুহূর্ত। ছয় মিনিট যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে ফেরান তোরেসের পাস থেকে দুই ডিফেন্ডারের মাঝখানে দৌড়ে ঢুকে নিচু শটে বল জালে পাঠান বদলি মিডফিল্ডার মিকেল মেরিনো। তার গোলেই উল্লাসে ফেটে পড়ে স্প্যানিশ শিবির।
গোল হজমের পর মরিয়া হয়ে ওঠে পর্তুগাল। অতিরিক্ত সময়ের শেষদিকে বার্নার্দো সিলভার হেড অল্পের জন্য ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে গেলে সমতায় ফেরার শেষ সুযোগটিও হাতছাড়া হয়।
শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে নিশ্চিত হয় স্পেনের কোয়ার্টার-ফাইনাল। আর পর্তুগালের বিদায়ের সঙ্গে শেষ হয়ে যায় ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর বিশ্বকাপ জয়ের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত স্বপ্নও। সূত্র: ইনকিলাব
