শেষ মুহূর্তে জাপানি রক্ষণ দুর্গ ভেঙে শেষ ষোলোতে ব্রাজিল
নতুন প্রভাত ডেস্ক
পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল এশিয়ান জায়ান্ট জাপানের সামনে কঠিন পরীক্ষায় শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় জয় পেয়েছে।প্রথমার্ধে গোল হজম করে পিছিয়ে থাকা সেলেসাওরা দ্বিতীয়ার্ধে সমতায় ফেরে।আর ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে গড়াচ্ছিল যখন ইনজুরি টাইম শেষ হওয়ার আর এক মিনিটও বাকি নেই; তখনই গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি গোলে বদলে গেল ম্যাচের চিত্র। পুরো ম্যাচে চাপে থাকা ব্রাজিল তুলে নিল রোমাঞ্চকর এক জয়। হিউস্টন স্টেডিয়ামে গতকাল জাপানের বিরুদ্ধে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর ২–১ গোলে জিতল তারা। অন্যদিকে আশা জাগিয়েও আরো একবার স্বপ্ন ভঙ্গ হল জাপানের।
এদিন প্রথমার্ধের ২৯ মিনিটে কাইশু সানোর দুর্দান্ত গোলে এগিয়ে যায় জাপান। দ্বিতীয়ার্ধের ৫৬ মিনিটে ক্যাসেমিরো হেড থেকে সমতায় ফেরায় ক্যানারিনহাদের। আর যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেন গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লি।
নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষে ৬ মিনিটের ইনজুরি টাইম দেন রেফারি। সেই সময়ও প্রায় শেষ হয়ে এসেছিল। এমন সময় জাপানের ডি-বক্সের ভেতরে ব্রুনো গিমারেইসের পাস পান মার্টিনেল্লি। তার নেয়া কোনাকুনি শট পোস্টে লেগে জালে জড়ায়। ব্যাস! তাতেই জয় নিশ্চিত। তখন আর গোল শোধের জন্য পর্যাপ্ত সময় নেই।
শেষ বাঁশি বাজাতে উল্লাসে মাতে ব্রাজিলিয়ানরা। অন্যদিকে ব্লু সামুরাইরা কান্নায় ভেঙে পড়ে। দারুণ ফুটবল খেলা দলটার দ্রুত বিদায় অনেক ব্রাজিল সমর্থককেও হয়ত কষ্ট দিয়েছে।
এর আগে প্রথমার্ধে বলের দখল রেখে খেলা শুরু করে ব্রাজিল। প্রতিপক্ষ বল হারালে দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকে ওঠার কৌশোল নিয়েছিল জাপান। ফলও পায় তারা। ব্রাজিল বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়ে থাকলেও গোলের দেখা পায় জাপানই।
হাইড্রেশন ব্রেকের কিছুক্ষণ পরে তখন আক্রমণে উঠছে ব্রাজিল। কিন্তু বল হারান গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস। প্রায় মাঝমাঠে বল পেয়ে কাইশু সানো ড্রিবলিংয়ের চমৎকার প্রদর্শণীতে ব্রাজিলের রক্ষণভাগকে নাচিয়ে বক্সের ঠিক বাইরে থেকে নেন দুর্দান্ত কোণাকুণি শট! বাঁ দিকের কোনা দিয়ে বল সোজা আশ্রয় নেয় জালে। অ্যালিসন ঝাঁপিয়ে চেষ্টা করেও বলের নাগাল পাননি। জাপানের জার্সিতে এটিই সানোর প্রথম আন্তর্জাতিক গোল।
গোল খেয়ে একের পর এক চেষ্টা করেও সমতায় ফিরতে পারছি না ব্রাজিল। পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যাওয়া ব্রাজিল দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে লুকাস পাকেতাকে উঠিয়ে এন্দরিককে নামায়। শুরু থেকেই এরিয়েল আক্রমণের কৌশল নেন আনচেলত্তি। ৫২ মিনিটে গিমারেইসের হেড দারুণ ক্ষিপ্রতায় ঠেকিয়ে দেন সুজুকি। পরের মিনিটে ব্রাজিলের আরেকটি আক্রমণ কোনোমতে গোললাইন থেকে ঠেকিয়ে দেয় জাপানের রক্ষণভাগ। ৫২ মিনিটে গিমারেইসের হেড দারুণ ক্ষিপ্রতায় ঠেকিয়ে দেন সুজুকি। পরের মিনিটে ব্রাজিলের আরেকটি আক্রমণ কোনোমতে গোললাইন থেকে ঠেকিয়ে দেয় জাপানের রক্ষণভাগ।
একের পর এক ক্রসের কৌশলে অবশেষে সফলতা মেলে। ৫৬ মিনিটে মাগালহায়েসের ক্রসে দারুণ এক হেডে সমতা ফেরান ক্যাসেমিরো। ব্রাজিলের জার্সিতে দ্বিতীয় বয়োজ্যেষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে গোলের রেকর্ড গড়লেন এই মিডফিল্ডার। ৩৪ বছর ১২৬ দিন বয়সে গোল করলেন ক্যাসেমিরো। ৩৪ বছর ১৩৭ দিন বয়সে গোল করে শীর্ষে বেবেতো।
এই গোলের পর একের পর এক সুযোগ তৈরি করতে থাকে ব্রাজিল। ৫৮ মিনিটে জাপানের রক্ষণভাগকে নাচিয়ে একক প্রচেষ্টায় গোলে শট নিয়েছিলেন ভিনিসিউস। কিন্তু সেই প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন সুজুকি।
৬৬ মিনিটে কুনিয়ার বদলি হিসেবে নামেন মার্টিনেল্লি। কিন্তু জাপানের রক্ষণ ভাঙতে সবাই নেইমারের প্রতীক্ষায় ছিল। আনচেলত্তি অবশ্য শেষ পর্যন্ত এই ম্যাচে নেইমারকে আর নামাননি। অবশেষে মার্টিনেল্লিই এনে দিয়েছেন সেই কাঙ্ক্ষিত গোল। আনচেলত্তির বদলি খেলোয়াড়রাই আজ গড়ে দিয়েছে ম্যাচের ভাগ্য। সূত্র: ইনকিলাব
