মেসি অবসরের সিদ্ধান্ত থেকে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা

টানা নয় বছরে চারটি বড় ফাইনালে হারের যন্ত্রণা আর নিতে পারছিলেন না। ২০১৬ সালে চিলির বিপক্ষে কোপা আমেরিকার ফাইনালে টাইব্রেকারে পেনাল্টি মিস করার পর তাই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন লিওনেল মেসি। বলেছিলেন-“আমার জন্য জাতীয় দল শেষ। আমি সবকিছু দিয়েছি। চ্যাম্পিয়ন হতে না পারাটা কষ্ট দেয়।” কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত বদলে মেসি শুরু করেন সোনালি যুগ। অবসরের পর আর্জেন্টিনা জিতেছে টানা দুই কোপা আমেরিকা এবং ২০২২ সালে বিশ্বকাপ। সেই আসরে সাত গোল করে আর্জেন্টিনাকে ১৯৮৬ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপ জেতান তিনি।

২০২৬ বিশ্বকাপে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে আবারও ইতিহাস লিখলেন মেসি। ৩৯তম জন্মদিনের দু’দিন আগে করলেন জোড়া গোল। প্রথমে মিস করলেন পেনাল্টি, কিন্তু পরে ১৭তম গোল করে ছাড়িয়ে গেলেন জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসেকে। যোগ করলেন আরও একটি, যা তার বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের ১৮তম গোল। সোমবার, ঠিক ৪০ বছর আগে দিয়েগো ম্যারাডোনা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে দুই গোল করেছিলেন। সেই দিনেই লিওনেল মেসি আবারও ইতিহাস লিখলেন— অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ে দু’টি গোল করে। বিবিসি ধারাভাষ্যকার স্টিভ বাওয়ার একে বললেন- “আরেকটি অমর মেসি মুহূর্ত।”

ম্যাচ শেষে মেসি বললেন, “আমি খেলাটা উপভোগ করি, মাঠে আনন্দ পাই। আমরা মানুষকে এভাবে খুশি করতে পারি, তাদের আনন্দ দিতে পারি— এটাও আমাদের জন্য আনন্দের।”

অষ্টম মিনিটে পেনাল্টি মিস করে শুরুটা ভালো হয়নি লিওনেল মেসির জন্য। কিন্তু মাত্র আধা ঘণ্টা পরই নিচু শটে করলেন তার বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের ১৭তম গোল— যা তাকে জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসেকে ছাড়িয়ে টুর্নামেন্ট ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা বানায়। এরপর যোগ হলো আরও একটি— দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে দুই অস্ট্রিয়ান ডিফেন্ডারের ফাঁক গলে টাইট অ্যাঙ্গেল থেকে বল জালে পাঠিয়ে দেন তিনি। স্প্যানিশ সাংবাদিক গুইলেম বালাগু বিবিসি রেডিও ৫ লাইভে বললেন— “আমাদের কাছে সময় নেই মেসির জন্য মূর্তি গড়ার বা গভীর বিশ্লেষণ লেখার। আমরা তার গতির সঙ্গে তাল মেলাতে পারি না।” এখন তার নামের পাশে ২৮ ম্যাচে ১৮ গোল। আর্জেন্টিনা ইতিমধ্যেই শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে, সামনে জর্ডানের বিপক্ষে ম্যাচ— তাই আরও গোল আসবে আশা করাই যায়। সূত্র: ইনকিলাব

ভালো লাগলে, প্লিজ শেয়ার করুন

এ ধরনের আরো কিছু পোস্ট