প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফর সিন্ডিকেমুক্ত শ্রমবাজারসহ রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের প্রত্যাশার পাহাড়
ক্ষমতায় আরোহণের চার মাসের মাথায় প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রথম আনুষ্ঠানিক বিদেশ সফরে বর্তমানে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন তারেক রহমান। নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে মালয়েশিয়ায় বসবাসরত লাখ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশীদের মধ্যে বিরাজ করছে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা। দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে এই সফরের মাধ্যমে ভূরাজনৈতিক সমীকরণের নতুন দিগন্ত উন্মোচন, ঝিমিয়ে পড়া শ্রমবাজারের পুনরুজ্জীবন এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশা করছেন প্রবাসীরা। তাদের প্রত্যাশা দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা শ্রমবাজার সিন্ডিকেট মুক্ত হবে এবং প্রবাসীদের দু:খ দুর্দশা লাঘবে এই সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরকে ঘিরে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সফরটি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং এতে দুই (২১ ও ২২ জুন) দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শ্রমবাজার, আঞ্চলিক সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব জোরদারের বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মালয়েশিয়া প্রবাসী বাংলাদেশীদের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা হলো বন্ধ ও সীমিত হয়ে থাকা শ্রমবাজারের জটিলতা দূর করা। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশের বিশাল চাহিদা থাকা সত্ত্বেও বিগত দিনগুলোতে নানা আইনি ও কূটনৈতিক জটিলতায় স্থবিরতা নেমে এসেছিল। প্রবাসীরা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই হাই-প্রোফাইল সফরের ফলে দুই দেশের মধ্যে নতুন সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হতে পারে, যা বৈধ পথে এবং স্বল্প খরচে বাংলাদেশী কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার অর্থনীতির জানালা পুরোপুরি খুলে দেবে।
এদিকে মালয়েশিয়ায় প্রবাসীদের যাতায়াত সুবিধার্থে বিমান টিকিট সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে হয়রানি বন্ধের দাবি প্রবাসীদের। তারা জানান, মালয়েশিয়া প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের একটি অন্যতম প্রধান ক্ষোভের জায়গা হলো ঢাকা-কুয়ালালামপুর রুটে বিমানের টিকিটের আকাশচুম্বী মূল্য এবং সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য। সাধারণ প্রবাসীরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে উপার্জিত অর্থ টিকিটের পেছনেই উজার করে দিতে বাধ্য হন। বাংলাদেশ-মালয়েশিয়ার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. মামুন বিন আব্দুল মান্নান বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকার গঠনের পর প্রথম মালয়েশিয়া সফর করছেন এটি কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের প্রত্যাশা থাকবে-দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা শ্রমবাজার চালু হবে এবং প্রবাসীদের দু:খ দুর্দশা লাঘবে তিনি কিছু পদক্ষেপ নেবেন। বিশেষ করে দুই দেশের ব্যাবসা বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণ হবে। কয়েকজন প্রবাসী আকুতি জানিয়ে বলেন, সিন্ডিকেট ভেঙে বিমান টিকিটের মূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনতে হবে। প্রবাসীদের রক্ত পানি করা টাকা যেন কোনো মধ্যস্বত্বভোগী লুটে নিতে না পারে, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর হস্তক্ষেপ চাই। সূত্র: ইনকিলাব
