বিনিয়োগের সুযোগ দিয়ে অর্থপাচার রোধ করতে হবে
গত ১৯ জুন প্রায় প্রত্যেকটি দৈনিকে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে (সুইস ব্যাংক) বাংলাদেশিদের টাকা বৃদ্ধির খবর প্রকাশিত হয়েছে। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের আমানত ৪১ শতাংশ বা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বেড়েছে। গত বৃহ¯পতিবার সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সাল শেষে ব্যাংকটিতে বাংলাদেশিদের জমানো অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৩ কোটি ৪১ লাখ সুইস ফ্র্যাংক। প্রতি ফ্র্যাংক ১৫২ টাকা হিসাবে বাংলাদেশি টাকায় এর মূল্যমান দাঁড়ায় প্রায় ১২ হাজার ৬৭৮ কোটি টাকা। এই অর্থ অন্তত ৩১টি বেসরকারি ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধনের সমান। এক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারতের পরেই বাংলাদেশের অবস্থান। তবে বাংলাদেশি নাগরিকদের মধ্যে কারা এই টাকা সুইস ব্যাংকে জমা রেখেছেন সে তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। সুইস ব্যাংকগুলো কোনো আমানতকারীর তথ্য কখনো প্রকাশ করে না। অর্থনীতিবিদদের মতে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট স্বৈরশাসনের পতনের পরেও অর্থ পাচার থামেনি। তাদের মতে, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের কল্যাণে পাচারের প্রক্রিয়া এখন সহজ হয়েছে। এ অবস্থার উত্তরণে সরকারকে কঠোর হতে হবে। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের প্রধান ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুন বলেছেন, বৈধ অনুমোদন নিয়ে কেউ সুইস ব্যাংকে টাকা রাখেনি। এ ধরনের কোনো সুযোগ নেই। তবে অর্থ পাচার ঠেকাতে এবং আগের পাচার করা অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে আমরা কাজ করছি। আইনগতভাবে যা করণীয় সব উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর জোর চেষ্টা চালাতে হবে। অর্থপ্রবাহ বৃদ্ধি করতে হবে। কেন বিনিয়োগে খরা চলছে, তার কারণ খুঁজে সমাধান করতে হবে। বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য যে ধরনের পরিবেশ প্রয়োজন তাই করতে হবে। ইরানযুদ্ধ বন্ধ হওয়ায় অর্থনীতি চাঙা হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। সারাবিশ্বের অর্থনীতিতে চাঙা ভাব দেখা দিয়েছে। এ সুযোগ আমাদের নিতে হবে। ইরানযুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশের অর্থনীতি বিধ্বস্ত অবস্থায় রয়েছে। দেশগুলো তা উদ্ধারে দ্রুত কাজ শুরু করবে। এজন্য তাদের লোকবলের প্রয়োজন হবে। আরব আমিরাতের ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশটি তা পুনরুদ্ধারে কর্মযজ্ঞ শুরু করছে। এতে সেখানে আমাদের দেশের শ্রমিকদের যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। দেশের যেসব ইপিজেড বা শিল্পাঞ্চল রয়েছে, সেগুলোতে বিনিয়োগ বাড়ছে না। কেন বাড়ছে না, তা খতিয়ে দেখতে হবে। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতিকে গড়ে তুলতে সরকারকে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির উদ্যোগ নিতে হবে। অর্থপাচার রোধের ব্যবস্থা করে তা বিনিয়োগের সুযোগ দেয়ার পাশাপাশি যতধরনের অর্থনৈতিক কর্মযজ্ঞ রয়েছে, তা সচল করতে হবে।
