বাগমারায় প্রতিপক্ষের ওপর হামলা করে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ
স্টাফ রিপোর্টার,বাগমারা:
রাজশাহীর বাগমারার বাসুপাড়া ইউনিয়নের বালানগর গ্রামে জায়গা-জমি নিয়ে পূর্ব বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুত্বর আহত ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে বাগমারা থানা অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগটি থানা পুলিশ আমলে না নিয়ে প্রতিপক্ষের একটি পাল্টা সাজানো অভিযোগ হাতে নিয়ে অভিযোগকারীসহ তার ছেলেদের বিরুদ্ধে হয়রানি মূলক মামলার দাবি করা হয়েছে। ওই মামলায় দুইজনকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে গতকাল বৃহস্পতিবার জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।
জানা গেছে, উপজেলার বালানগর গ্রামের মৃত সবুর আলীর সমসের আলী, আব্দুল খালেক ও আব্দুল মালেক তিন ছেলে। তিন ছেলের মধ্যে দুইজন মারা গেলেও আব্দুল মালেক জীবিত রয়েছেন। আব্দুল মালেক তার বিষয় সম্পত্তি সমদয় আগেই ভাইদের কাছে বিক্রি করে নিঃশ্ব হয়ে গেছে। দুই ভাইয়ের মৃত্যুর পর ওই সম্পতির আরো অংশ পাবে বলে গ্রাম্য প্রধানদের নিয়ে গ্রাম্য সালিস বসাই। এছাড়াও ইউনিয়ন পরিষদে একই দাবি করে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ করেছেন । উক্ত সম্পত্তির যাবতীয় কাগজপত্র দেখে হিসাব নিকাশ করে দেখা যায় তার আর কোন সম্পত্তি সেখানে নেই। বিষয়টি দীর্ঘ দিন অতিবাহিত হবার পর আবারো আব্দুল মালেকের ইন্ধনে তার পুত্র আরিফুল ইসলাম ওরফে আলেফ আলী ও তালেব আলী জমিজমা পাবে মর্মে দাবি করে। দাবির প্রেক্ষিতে গত ২৫ এপ্রিল বেলা ১১টার দিকে গ্রামে একটি শালিস বসানো হয়। মিমাংসার এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের বাকবিতন্ডায় দস্তা-ধস্তি ও মার-পিটের ঘটনা ঘটে। এতে দুই পক্ষের লোকজন আহত হয় । ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষ বাগমারা থানায় অভিযোগ করে। থানা থেকে উভয়কে মিমাংসার বিষয় পরামর্শ দেয়া হলেও পরবর্তিতে বিষয়টা মিমাংসা না করে প্রতিপক্ষ আবু তালেবের অভিযোগটি আমলে নিয়ে জখম সংক্রান্ত অপরাধ মামলা রজ্জু হয়। ওই মামলার আসামী ছিলেন, মৃত সমসের আলীর ছেলে মফিজ উদ্দিন ও তার ছেলে শামীম হোসেন, ফিরোজ হোসেন, মৃত সমসের আলীর অপর ছেলে রফিকুল ইসলাম, ও তার ছেলে ইসরাইল হোসেন, মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে আমজাদ হোসেনসহ ৬ জন। আসামীদের মধ্যে বুধবার রাতে শামীম হোসেন ও ইসরাইল হোসেনকে বাগমারা থানা পুলিশ আটক করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করেছেন। পারিবারিক জায়গা-জমি নিয়ে পূর্ব বিরোধের জেরে একটি চক্রান্তমূলক ঘটনা দাবি করেছেন মামলায় অভিযুক্ত মফিজ উদ্দিন ও আমজাদ হোসেন। তারা জানান জমি সংক্রান্ত ঘটনায় গ্রামে ও ইউনিয়ন পরিষদে একাধিকবার বসা হয়। এতে ওই জমির সকল অংশ আব্দুল মালেকের বিক্রির প্রমাণ মিলে। ঘটনাটি এলাকা গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, চেয়ারম্যানসহ মেম্বারা সবাই অবগত আছেন। এর পরও আবারো আব্দুল মালেক তার ছেলেদের লেলিয়ে দিয়ে আমাদেরকে হেনাস্তা করতে পাঁয়তারা করছেন বলে দাবি করেছেন আসামী পক্ষের লোকজন। এছাড়া ঘটনার দিনে পরিপল্পিকত ভাবে তার উপর ও তার ছেলেদের উপর হামলা করা হয়েছে বলে মফিজ উদ্দিন দাবি করেন। ওই দিনের হামলায় তার ছেলে ফিরোজ ও তার মেয়ে মাফরোজা গুরুত্বর আহত হলে তাকে প্রথমে বাগমারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে রাজশাহী মেডিকেলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। এ ঘটনায় বাগমারা থানায় একটি অভিযোগ করা আছে। পুলিশ তাদের অভিযোগ আমলে না নিয়ে বার বার মিমাংসার বিষয় বললেও পরবর্তিতে প্রতিপক্ষের একটি পাল্টা সাজানো অভিযোগ হাতে নিয়ে অভিযোগকারীসহ তার ছেলেদের বিরুদ্ধে হয়রানি মূলক মামলা করে হয়রানি করছেন বলে তিনি দাবি করেন।
এ ব্যাপারে ওই মামলার বাগমারা থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, জমি-জমা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে জখম অপরাধে মামলায় অভিযুক্ত দুইজনকে আটক করা হয়েছে। বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান বলেন, বিষয়টি নিয়ে মামলা কেন রেকর্ড করা হয়নি, তা আদালত জানতে চাইলে বৃহস্পতিবার আদালতে আমাকে যাইতে হয়েছিল। আসলে অভিযোগ করলে কোন অভিযোগটি গুরুত্বর তা তদন্ত করে আমলে নেয়া হয়। থানা সবার জন্যই খোলা। বিষয়টি পারিবারিক তাই তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হবে তিনি জানান ।
