হাটের মুল জায়গা দখলবাজদের দখলে পুঠিয়ায় মহাসড়কে আমের হাট, ভোগান্তি চরমে
স্টাফ রিপোর্টার
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বানেশ্বর হাট উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ কৃষিপণ্য ও আমের মোকাম হিসেবে পরিচিত। প্রতিদিন হাজার হাজার কৃষক, ব্যবসায়ী ও ক্রেতার পদচারণায় মুখর থাকে এই হাট। কিন্তু অর্থনীতির এই প্রাণকেন্দ্রই এখন পরিণত হয়েছে ভয়াবহ যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকির কেন্দ্রে। ঢাকা–রাজশাহী মহাসড়ক ও বানেশ্বর–চারঘাট সড়কের ওপর এবং তার দুই পাশে বিস্তৃত এই হাটের দিনগুলোতে কয়েক কিলোমিটার জুড়ে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ট্রাক, বাস, পিকআপ, ভ্যান ও কৃষিপণ্যবাহী যানবাহনের ভিড়ে মহাসড়ক প্রায় অচল হয়ে পড়ে। ফলে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়, আর সামান্য অসতর্কতাতেই ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হাটের নির্ধারিত জায়গার একটি অংশ বিভিন্ন সময় দখল হয়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা বাধ্য হয়ে মহাসড়কের ওপরই পসরা সাজান। ফলে কৃষিপণ্যের বেচাকেনা, মালামাল ওঠানামা এবং মানুষের অবাধ চলাচলে সড়কের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হয়। বিশেষ করে আমের মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়।
দেখা যায়, মহাসড়কের একপাশে আম, কলা, পেঁয়াজ, রসুন ও শাকসবজির বিশাল মোকাম বসে। অন্যদিকে দ্রুতগতির যানবাহন চলাচল করছে জীবনঝুঁকি নিয়েই। অনেক সময় রাস্তা পারাপারের সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কায় আতঙ্কিত থাকেন সাধারণ মানুষ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই কৃষি মোকামের জন্য একটি আধুনিক ও পরিকল্পিত বাজার অবকাঠামো গড়ে তোলা জরুরি। একই সঙ্গে মহাসড়কের ওপর হাট কার্যক্রম বন্ধ করে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো কঠিন হবে।
স্থানীয়দের দাবি, বানেশ্বর হাট শুধু রাজশাহীর নয়, উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতিরও গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। তাই হাটের ঐতিহ্য অক্ষুন্ন রেখে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সময়ের দাবি। নচেৎ জীবিকার এই কেন্দ্র একদিন আরও বড় বিপর্যয়ের কারণ হয়ে উঠতে পারে।
