হিমাগার ভাড়া কমানোর দাবি রাজশাহীতে আলু উত্তোলন বন্ধ চাষিদের
স্টাফ রিপোর্টার
রাজশাহীতে হিমাগারে আলু সংরক্ষণের ভাড়া কমানোর দাবিতে আলু উত্তোলন ও বেচাকেনা বন্ধ করেছেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা। ভাড়া কমিয়ে পুনর্র্নিধারণ না করা পর্যন্ত চাষিরা হিমাগার থেকে কোনো আলু বের করবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে চাষিরা দাবি আদায়ে সব হিমাগার থেকে একযোগে আলু উত্তোলন বন্ধ রেখেছেন বলে জানা গেছে।রাজশাহীর আন্দোলনরত আলুচাষি ও ব্যবসায়ীদের দাবি হিমাগারে আলু সংরক্ষণের প্রকৃত খরচ বিবেচনায় নিয়ে হিমাগার ভাড়া নির্ধারণের দাবি করে আসছেন তারা অনেক দিন ধরে। কিন্তু তাদের দাবি মানছেন না হিমাগার মালিকরা। সরকারিভাবেও তাদের কোনো সহায়তা করা হচ্ছে না।বুধবার নগরীতে সংবাদ সম্মেলন করে তাদের দাবিগুলো তুলে ধরে কর্মসূচি ঘোষণা করেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাজশাহীর ৩৬টি হিমাগারের কোনটি থেকেই আলু উত্তোলন করেনি চাষিরা। ফলে বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়া শুরু হয়েছে। অন্যদিকে হিমাগার মালিকেরা বলছেন বর্ধিত বিদ্যুৎ বিল, শ্রমিক খরচ ও পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তারা আলু সংরক্ষণ ভাড়া বাড়াতে বাধ্য হয়েছেন। রাজশাহীর সব হিমাগারে বর্তমানে প্রতি কেজি আলু সংরক্ষণ ভাড়া প্রায় ৮ টাকা। চাষিদের দাবি এই ভাড়া অর্ধেকে নামিয়ে আনতে হবে।এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজশাহীর অধিকাংশ হিমাগারের সামনে চাষি ও ব্যবসায়ীরা বৃহস্পতিবার সকাল থেকে অবস্থান নিয়ে আলু উত্তোলন বন্ধ রেখেছেন। প্রতিদিনই এসব হিমাগার থেকে শত শত বস্তা আলু বের হয়ে বাজারে যায়।চাষি ও ব্যবসায়ীরা আরও জানান, হিমাগারের ভাড়া অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। এতে আলু বিক্রি করে খরচের টাকাও তোলা যাচ্ছে না। তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা হিমাগার থেকে আলু উত্তোলন বন্ধ রাখবেন।রাজশাহী জেলা আলু ও কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আহাদ আলী শাহ বলেন, হিমাগারে এক বস্তা আলু রাখতে মালিকদের সর্বোচ্চ খরচ হয় ১শ টাকা; কিন্তু চাষি ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রতি বস্তার ভাড়া নেওয়া হয় ৪৭৫ টাকা। এটি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।তিনি আরও বলেন, এর আগে হিমাগার ভাড়া অযৌক্তিকভাবে বাড়ানো হয়েছিল। তখন ভোক্তাদের কথা বিবেচনা করে কঠোর কোনো কর্মসূচি দেওয়া হয়নি। প্রশাসন থেকে চাষিদের বলা হয়েছিল রাজনৈতিক সরকার আসলে সব ঠিক করে দেওয়া হবে। কিন্তু পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। উপরন্তু চলতি মৌসুমেও মালিকেরা হিমাগার ভাড়া বাড়িয়েছেন। আমরা এই ভাড়া মানতে পারছি না।আলুচাষি হারুনুর রশীদ বলেন, হিমাগার ভাড়া অনেক বেশি রাজশাহীতে। তাদের একমাত্র দাবি, অবিলম্বে হিমাগারের ভাড়া কমাতে হবে। ভাড়া না কমালে তারা আলু বের করবেন না। আমরা বিপুল লোকসান দিয়ে আর আলু চাষ করতে চাই না।এ বিষয়ে রাজশাহীর আসমা কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও রাজশাহী হিমাগার মালিক সমিতির সদস্য খন্দকার আউলিয়া রাজিব বলেন, গত বছর ভাড়া বাড়ানো হলে চাষি ও ব্যবসায়ীরা আন্দোলনে নামেন। তখন প্রশাসনের হস্তক্ষেপে চাষিদের অনেক ছাড় দেওয়া হয়েছিল। তার দাবি হিমাগারের অনেক খরচ। ভাড়া না বাড়ালে হিমাগার পরিচালনা করা কঠিন। চাষি ব্যবসায়ীরা আলু না উত্তোলন করলে বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ভোক্তা পর্যায়ে দাম বেড়ে যাবে।
