বাগমারায় শিক্ষক ও প্রবাসী নারীর পাল্টাপাল্টি চরিত্রহন
স্টাফ রিপোর্টার, বাগমারা
রাজশাহীর বাগমারায় এক স্কুল শিক্ষক ও এক প্রবাসী নারীর মধ্যে একান্ত অন্তরঙ্গ বিষয় নিয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে চরিত্রহননের পাল্টাপাল্টি অভিযোগে বিব্রত হয়ে পড়েছেন থানা পুলিশসহ উপজেলা প্রশাসন। একে অপরের বিরুদ্ধে ঘনিষ্ঠ অন্তরঙ্গতার বিষয় ও প্রতারণার অভিযোগ নিয়ে থানা, উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় ইউপি কার্যালয় এমনকি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। বিষয়টি নিয়ে যেন খেলা শুরু হয়েছে। স্কুল শিক্ষক মুনছুর রহমান ও প্রবাসী নারী কামরুন নাহারের মধ্যে একান্ত অন্তরঙ্গ বিষয় নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে। কেউ বা দু’ পক্ষকে পুঁজি করে পকেট ভরছেন। নিজেদের চরিত্রহননের এমন পাল্টাপাল্টি অভিযোগে চরম বিব্রত হয়ে পড়েছেন প্রশাসনসহ স্থানীয়রা। বিষয়টি সাধারণ মানুষসহ শিক্ষক সমাজ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যেও এখন মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গণিপুর ইউনিয়নের আক্কেলপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মুনছুর রহমান ও পোড়াকয়া গ্রামের প্রবাসী নারী কামরুন নাহারের মধ্যে সম্প্রতি ঘনিষ্ঠ প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ। প্রবাসী কামরুন নাহার এক ভিডিও বার্তায় অভিযোগ করেন, মাষ্টার মুনছুর রহমান তার স্ত্রীর সহায়তায় তাকে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে প্রায় ৮ মাস ধরে তাকে নিয়ে একই বিছানায় রাত কাটিয়েছেন। কিন্তু এখন তাকে বিয়ে করতে রাজি না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে তিনি আদালতে নারী নির্যাতন ও প্রতারণার অভিযোগে তিনটি মামলা করেছেন। অপরদিকে অভিযুক্ত মাষ্টার মুনছুর রহমানও এক ভিডিও বক্তব্যে ওই প্রবাসী নারীকে প্রতারক আখ্যায়িত করে বিরুুপ মন্তব্য করেন। এদিকে ওই স্কুল মাষ্টার ও প্রবাসী নারীর মধ্যে একান্ত ঘনিষ্ঠতা এবং একই বিছানায় রাত কাটানোর বিষয় নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষার্থী ও শিক্ষক সমাজসহ পুরো উপজেলাজুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে এখন ব্যাপক সামালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। আসলে বিষয়টি রহস্যজনক বলে অনেকে মনে করছেন। ওই মহিলা একাধিক দেশে চুষে ফিরেছেন। আর মুনসুর মাষ্টার গ্রামেই থাকেন। মাষ্টারের বাড়ির পাশে পোড়াকয়া গ্রামের ওই প্রবাসীর আত্মীয়র বাড়ির সুবাধে ছিল সেখানে যাতায়াত। আক্কেলপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অপর এক শিক্ষক জানান, মুনছুর মাষ্টার এবং ওই প্রবাসী নারীর অন্তরঙ্গতার বিষয় নিয়ে তাদের এমন অশালীন বক্তব্য সামাজিক অবক্ষয়ের শামিল। পোড়াকয়া ও আক্কেলপুর গ্রামের একাধিক নারী-পুরুষ জানান, ওই শিক্ষক ও প্রবাসী নারীর মধ্যে অন্তরঙ্গতার বিষয় নিয়ে তারা পাল্টাপাল্টি চরিত্রহননের যে নেশায় মেতে উঠেছে তাতে এলাকার লোকজন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। মাষ্টার মুনসুর রহমান ওই প্রবাসী মহিলার সাথে তার কোন সম্পর্ক নেই বলে দাবি করে তাকে ফাাঁসানোর ফুন্দি করার পাাঁয়তারা বলে অভিযোগ কেেছন। স্থানীয় গনিপুর ইউপির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মনিরুজ্জামান রঞ্জুও বিষয়টি নিয়ে বিব্রতকর বলে মন্তব্য করেন। এ বিষয়ে বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান বলেন, ওই শিক্ষক ও প্রবাসী নারীর পাল্টাপাল্টি অভিযোগে পাওয়া গেছে। তার জানা মতে, এর আগে ওই মহিলা জেলা আদালতে ধর্ষণ মামলা করেছিল। সেখানে তার মামলা খারিজ করে দেন বিজ্ঞ আদালত। তার পরও তিনি বিভিন্ন জায়গায় নানা দাবি করে অভিযোগ করছেন। বাগমারা থানায় সর্ব শেষ একটি পথরোধ ও গলাটিপে ধরা অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি তদন্তধীন রয়েছে। একই ভাবে ইপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম আহমেদ বলেন, মাষ্টর মুনসুর রহমান ও প্রবাসী মহিলার বিষয়ে অএকটি শুনানী শেষ হযেছে। তারে আরেকটি শুনানী আগামী এক মাস পর সময় দেয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বসা হবে বলে জানান তিনি।
