হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে মমতার বিস্ফোরক দাবি ঢাকা-দিল্লির আস্থা ফেরানোর চেষ্টায় বড় ধাক্কা

বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্গঠন ও পারস্পরিক আস্থা ফিরিয়ে আনার চলমান প্রচেষ্টার মধ্যেই এক নতুন অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম হাই-প্রোফাইল রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড নিয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে তথ্য গোপনের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তাঁর এই বিস্ফোরক দাবি ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির পাশাপাশি দুই দেশের সংবেদনশীল কূটনৈতিক মহলেও ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করেছে বলে ভারতের প্রভাবশালী দৈনিক টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে।

টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহে কলকাতায় আয়োজিত এক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে মমতা ব্যানার্জি দাবি করেন—বাংলাদেশের আলোচিত রাজনৈতিক কর্মী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় যাতে বাইরে প্রকাশ না করা হয়, সেজন্য তাঁকে সরাসরি নির্দেশ দিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

কলকাতার এই রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে আসা বক্তব্যটি দ্রুতই আন্তর্জাতিক মহলের নজরে আসে। কারণ, মমতার এই মন্তব্য যদি সত্য হয়, তবে তা স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় যে—বাংলাদেশের গত এক বছরের রাজনীতিকে ওলটপালট করে দেওয়া একটি হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কুশীলবদের সম্পর্কে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য বা সূত্র ছিল।

টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার পর বাংলাদেশে তীব্র গণ-আক্রোশ, ব্যাপক প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের ঝড় ওঠে। বাংলাদেশের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে হাদি ছিলেন অন্যতম এক পরিচিত ও প্রভাবশালী মুখ। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও মন্তব্যকারীরা এই পরিস্থিতির গভীরতা বোঝাতে একে “হাদি ইফেক্ট” হিসেবে আখ্যায়িত করেন। এই অভূতপূর্ব জনবন্যা ও জনসেন্টিমেন্ট দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক গতিপথ এবং নির্বাচনী হিসাব-নিকাশ আমূল বদলে দিয়েছিল। টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার বিশদ বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মমতা ব্যানার্জির এই দাবির গুরুত্ব কেবল অভিযোগের গভীরতায় নয়, বরং এর পেছনে লুকিয়ে থাকা অনুদ্বঘাটিত প্রশ্নগুলোর মধ্যে। যদি এই দাবি সত্য হয়, তবে প্রমাণিত হবে যে ঢাকার সবচেয়ে স্পর্শকাতর একটি রাজনৈতিক মার্ডার কেসের সন্দেহভাজনদের তথ্য দিল্লির হাতে ছিল। আর যদি এটি সত্য না হয়, তবে এই সংবেদনশীল ইস্যুটি নিয়ে নতুন করে নোংরা রাজনৈতিক খেলা শুরু হওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়। এখন পর্যন্ত ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার কিংবা অমিত শাহের পক্ষ থেকে এই অভিযোগের কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব দেওয়া হয়নি। তবে মমতা একে তথ্য চেপে রাখার একটি পরিকল্পিত চেষ্টা হিসেবেই দেখছেন। তিনি তাঁর সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলেন, এই ঘটনার কোনো বিবরণ যাতে বাইরে না আসে, সেজন্য তাঁকে প্রতিনিয়ত নিরুৎসাহিত করা হয়েছিল। হাদি হত্যাকাণ্ডের পর দীর্ঘ সময় পার হলেও বাংলাদেশের মানুষের মনে এর রেশ এখনো অত্যন্ত তাজা। হাদির অনুসারী ও সাধারণ জনগণের কাছে তিনি ছিলেন রাজনৈতিক প্রতিরোধ এবং জাতীয়তাবোধের এক মূর্ত প্রতীক। ফলে তাঁর খুনের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার এখন রাষ্ট্র ব্যবস্থার কার্যকারিতা প্রমাণের এক এসিড টেস্টে পরিণত হয়েছে, যার দিকে কড়া নজর রাখছেন দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকরা।

টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া উল্লেখ করেছে, এমন এক জটিল সময়ে এই বিতর্ক সামনে এলো, যখন ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যকার সম্পর্ক একটি বড় ধরনের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতির প্রেক্ষাপটে উভয় পক্ষই এখন থমকে যাওয়া অর্থনৈতিক সহযোগিতা, নিরাপত্তা সমন্বয় এবং আস্থা ফেরানোর ওপর জোর দিচ্ছে। সূত্র: ইনকিলাব

ভালো লাগলে, প্লিজ শেয়ার করুন

এ ধরনের আরো কিছু পোস্ট